রাজধানীর কাঁচাবাজার: শিমের কেজি ২০০, ব্রয়লার ১৮০ টাকা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৩:০২:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
  • 7

রাজধানীর কাঁচামালের বাজারে সবচেয়ে দামি সবজি হিসেবে বিক্রি হচ্ছে শিম, আর সবচেয়ে কমদামি সবজি পেঁপে। বাজারে আগাম শীতকালীন শিম ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও পেঁপে পাওয়া যাচ্ছে ৩০ টাকায়। সাধারণ অন্যান্য সবজি কিনতে ক্রেতাদের কেজিপ্রতি গুনতে হচ্ছে কমপক্ষে ৭০ টাকা। তবে চলতি সপ্তাহে মাছ, মাংস ও ডিমের বাজারে তেমন কোনো বড় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যায়নি; ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৮০ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে।

আজ শুক্রবার রাজধানীর রায়ের বাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার ঘুরে বাজারের এই চিত্র দেখা যায়।

সবজির বাজার:

বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেগুন, করলা, বরবটি, ঢ্যাঁড়স, পটল ও কাঁকরোলসহ বেশির ভাগ সাধারণ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা ও টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বরবটি, ঝিঙে ও করলার কেজি ৮০ টাকা, কচুরমুখি ৮০ টাকা এবং লাউ প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকায়।

শসা তুলনামূলক কিছুটা কম দামে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া গেলেও দেশি শসা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে। সবজির উচ্চমূল্যের মাঝে একমাত্র স্বস্তি দেখা গেছে কাঁচা মরিচের বাজারে; সরবরাহ বাড়ায় কয়েক সপ্তাহ আগের ২০০ টাকার কাঁচা মরিচ এখন বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে।

বাজারে কিনতে আসা ক্রেতা ইদ্রিস মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সব কিছুর দামই বেশি। আজ বেগুন ১০০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ছোট লাউ ৫০ টাকা ও এক পোয়া মরিচ ৪০ টাকায় কিনতে হয়েছে।”

মুরগি ও ডিমের বাজার:

মুরগির বাজারে আগের দামই বজায় রয়েছে। ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, ফার্মের মুরগির ডিমের দাম আগের মতোই উচ্চমূল্যে আটকে রয়েছে—প্রতি ডজন ১৫৫ টাকা এবং হালি (৪টি) ৫৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

মাছের বাজার:

রাজধানীর বাজারভেদে দরদামে কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকার পার্থক্য দেখা গেছে। বাজারে তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং মাঝারি আকারের রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বড় আকারের রুইয়ের দাম হাঁকা হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা।

অন্যান্য মাছের মধ্যে পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, চাষের শিং ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অপরদিকে দেশি কই (৭০০–৮০০ টাকা), ট্যাংরা (৭০০ টাকা), শোল (৭০০ টাকা), চিংড়ি (১,০০০–১,৩০০ টাকা) এবং নদীর বেলে ও রূপচাঁদা কিনতে প্রতি কেজিতে গুনতে হচ্ছে হাজার টাকার বেশি।

মাছ বিক্রেতা সুলতান আহমদ জানান, সরবরাহের ওপর নির্ভর করে দামের ওঠানামা হচ্ছে। বাজারে ক্রেতা বা সরবরাহের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে সকালে এক দাম থাকলেও বিকেলে দামের পরিবর্তন ঘটছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

মদিনায় হামলা চালিয়েছে হুথিরা, দাবি সৌদির

রাজধানীর কাঁচাবাজার: শিমের কেজি ২০০, ব্রয়লার ১৮০ টাকা

Update Time : ০৩:০২:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর কাঁচামালের বাজারে সবচেয়ে দামি সবজি হিসেবে বিক্রি হচ্ছে শিম, আর সবচেয়ে কমদামি সবজি পেঁপে। বাজারে আগাম শীতকালীন শিম ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও পেঁপে পাওয়া যাচ্ছে ৩০ টাকায়। সাধারণ অন্যান্য সবজি কিনতে ক্রেতাদের কেজিপ্রতি গুনতে হচ্ছে কমপক্ষে ৭০ টাকা। তবে চলতি সপ্তাহে মাছ, মাংস ও ডিমের বাজারে তেমন কোনো বড় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যায়নি; ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৮০ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে।

আজ শুক্রবার রাজধানীর রায়ের বাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার ঘুরে বাজারের এই চিত্র দেখা যায়।

সবজির বাজার:

বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেগুন, করলা, বরবটি, ঢ্যাঁড়স, পটল ও কাঁকরোলসহ বেশির ভাগ সাধারণ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা ও টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বরবটি, ঝিঙে ও করলার কেজি ৮০ টাকা, কচুরমুখি ৮০ টাকা এবং লাউ প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকায়।

শসা তুলনামূলক কিছুটা কম দামে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া গেলেও দেশি শসা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে। সবজির উচ্চমূল্যের মাঝে একমাত্র স্বস্তি দেখা গেছে কাঁচা মরিচের বাজারে; সরবরাহ বাড়ায় কয়েক সপ্তাহ আগের ২০০ টাকার কাঁচা মরিচ এখন বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে।

বাজারে কিনতে আসা ক্রেতা ইদ্রিস মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সব কিছুর দামই বেশি। আজ বেগুন ১০০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ছোট লাউ ৫০ টাকা ও এক পোয়া মরিচ ৪০ টাকায় কিনতে হয়েছে।”

মুরগি ও ডিমের বাজার:

মুরগির বাজারে আগের দামই বজায় রয়েছে। ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, ফার্মের মুরগির ডিমের দাম আগের মতোই উচ্চমূল্যে আটকে রয়েছে—প্রতি ডজন ১৫৫ টাকা এবং হালি (৪টি) ৫৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

মাছের বাজার:

রাজধানীর বাজারভেদে দরদামে কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকার পার্থক্য দেখা গেছে। বাজারে তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং মাঝারি আকারের রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বড় আকারের রুইয়ের দাম হাঁকা হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা।

অন্যান্য মাছের মধ্যে পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, চাষের শিং ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অপরদিকে দেশি কই (৭০০–৮০০ টাকা), ট্যাংরা (৭০০ টাকা), শোল (৭০০ টাকা), চিংড়ি (১,০০০–১,৩০০ টাকা) এবং নদীর বেলে ও রূপচাঁদা কিনতে প্রতি কেজিতে গুনতে হচ্ছে হাজার টাকার বেশি।

মাছ বিক্রেতা সুলতান আহমদ জানান, সরবরাহের ওপর নির্ভর করে দামের ওঠানামা হচ্ছে। বাজারে ক্রেতা বা সরবরাহের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে সকালে এক দাম থাকলেও বিকেলে দামের পরিবর্তন ঘটছে।