দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশনের পরও বেঁচে যাওয়া সেই নারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৩:০৩:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
  • 2

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পর বেঁচে যাওয়া ক্রিস্টা পাইকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এদিকে এ ঘটনার পর চলতি বছরের সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন ওই রাজ্যের গভর্নর।

পাইকের আইনজীবী র‍্যান্ডি স্পিভি স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সাংবাদিকদের বলেন, এই মুহূর্তে তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে আমাদের কাছে খুব বেশি তথ্য নেই, তার সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কেও কিছু বলতে পারছি না। তবে আমরা জানি, তিনি এখনো জীবিত।

পাইকের আইনজীবীরা এখন তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড থেকে কমিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। ৫০ বছর বয়সী পাইককে ১৯৯৬ সালে কলিন স্লেমার নামের এক তরুণীকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পাইককে পেন্টোবারবিটালের দুইটি প্রাণঘাতী ডোজ দেওয়া হয়। এরপরও তিনি জীবিত ছিলেন বলে তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পাইক যখন কলিন স্লেমারকে হত্যা করেন, তখন তার বয়স ছিল ১৮ বছর। তার তৎকালীন প্রেমিক ট্যাডারিল শিপের সঙ্গে মিলে তিনি ১৯ বছর বয়সী স্লেমারকে মারধর, নির্যাতন ও হত্যা করেন।

বুধবার পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এ নিয়ে আইনি লড়াই চলছিল। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমতি দেন।

স্লেমারের মা মে মার্টিনেজ পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর চেয়েছিলেন এবং তা দেখতে টেনেসেতে গিয়েছিলেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে পাইকের আইনজীবীরা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় কী ঘটেছিল সে বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানান। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো ঘটনাটি ছিল ভয়াবহ এবং তা কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে রাখা হয়েছিল।

স্পিভি বলেন, রাতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকারী দল প্রায় এক ঘণ্টা ধরে একটি আইভি লাইন স্থাপনের চেষ্টা করে। শুধু তার বাম হাতেই অন্তত সাতটি সূঁচ ব্যবহার করতে দেখেছি। এর মধ্যে একটি সূঁচ তার শরীর থেকে বের করার সময় বাঁকা অবস্থায় ছিল বলে মনে হয়েছে।

স্পিভি আরও বলেন, দ্বিতীয় দফা প্রাণঘাতী ওষুধ দেওয়ার পরও পাইক শ্বাস নিচ্ছেন— এটি স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর পর্যবেক্ষকদের একটি বন্ধ পর্দার পেছনে অন্ধকার কক্ষে রাখা হয়।

তিনি বলেন, ওই পর্দার পেছনে কী ঘটছিল, কেউ জানত না। কোনো চিকিৎসাকর্মী তাকে চিকিৎসা দেওয়া শুরু করেছিলেন কিনা, সে বিষয়েও আমার কোনো ধারণা ছিল না।

স্পিভি বলেন, টেনেসের গভর্নরের এখন ক্রিস্টা পাইকের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড থেকে কমিয়ে দেওয়া উচিত। এর আগে এ ধরনের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল।

পাইকের আরেক আইনজীবী স্টিফেন ফেরেল জানান, তারা অন্যান্য আইনি পথ নিয়েও ভাবছেন। তিনি বলেন, আমরা বিষয়টি ভালোভাবে ভেবে দেখতে চাই। একই সঙ্গে নিশ্চিত করতে চাই, ক্রিস্টা সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং তিনি কী চান, সে বিষয়ে তার নিজের মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকছে।

টেনেসের গভর্নর বিল লি একটি স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ হওয়ার ঘটনা নিয়ে তদন্ত পূর্ণাঙ্গভাবে করা হবে এবং এতে সময় লাগবে।

লি বলেন, অনেক প্রশ্ন রয়েছে। আমাদের অঙ্গরাজ্যের মানুষ এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার অধিকার রাখেন। আর সেই কারণেই এই তদন্ত।

তবে টেনেসের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া নিয়ে স্বাধীন তদন্তটি কে পরিচালনা করবে, তা এখনো স্পষ্ট করেননি লি।

পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকারী টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশন তাদের কার্যক্রমের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, তারা ‘অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরের অনুমোদিত এবং অঙ্গরাজ্যের আইনসম্মত ও নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রোটোকলের প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করেছে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘প্রোটোকলে ব্যবহৃত প্রাণঘাতী রাসায়নিকটি এর আগে ধারাবাহিকভাবে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। আর প্রোটোকলে ওই সন্ধ্যায় যা করা হয়েছে, তার বাইরে অতিরিক্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই।’

আইনজীবীদের আদালতে দেওয়া নথি অনুযায়ী, প্রথমবারের চেষ্টা ব্যর্থ হলে অঙ্গরাজ্যের নির্ধারিত প্রোটোকল অনুযায়ী পাইককে পেন্টোবারবিটালের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। কিন্তু এরপরও তিনি জীবিত ছিলেন।

পাইকের আইনজীবীরা আদালতে বলেন, ‘এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরণ মিস পাইকের জন্য অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রণা সৃষ্টি করছে এবং নিষ্ঠুর ও অস্বাভাবিক শাস্তি থেকে মুক্ত অবস্থায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তার সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করছে।’

টেনেসির অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তের সিদ্ধান্তকে তারা সমর্থন করছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কী ঘটেছে, তা আমাদের জানতে হবে।’

টেনেসির গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা রিপাবলিকান সিনেটর মার্শা ব্ল্যাকবার্ন এই ঘটনাকে ‘মর্মান্তিক’ বলে বর্ণনা করেছেন।

ব্ল্যাকবার্ন বলেন, ‘কী ঘটেছে এবং কেন এই প্রক্রিয়া ব্যর্থ হয়েছে, তা অবশ্যই পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা উচিত। তবে সমাধান সহজ— ইলেকট্রিক চেয়ার আবার চালু করা।’

ব্ল্যাকবার্নের প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট জেরি গ্রিন তাকে ‘মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সবচেয়ে নিষ্ঠুর পদ্ধতিগুলোর একটি আবার চালু করতে চাওয়ার’ জন্য সমালোচনা করেছেন।

গ্রিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, ‘গভর্নর হলে আমি ভবিষ্যতের সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করব।’

২০২৬ সালে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার টেনেসির কর্মকর্তারা কোনো বন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করে ব্যর্থ হলেন।

এর আগে মে মাসে টনি কারাথার্সের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করা হয়। মৃত্যুদণ্ডের জন্য প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগ করতে তার শরীরে উপযুক্ত শিরা খুঁজে পেতে ব্যর্থ হন কর্মকর্তারা। পরে কারাথার্সের মৃত্যুদণ্ড এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়।

সূত্র : বিবিসি

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

মদিনায় হামলা চালিয়েছে হুথিরা, দাবি সৌদির

দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশনের পরও বেঁচে যাওয়া সেই নারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক

Update Time : ০৩:০৩:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পর বেঁচে যাওয়া ক্রিস্টা পাইকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এদিকে এ ঘটনার পর চলতি বছরের সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন ওই রাজ্যের গভর্নর।

পাইকের আইনজীবী র‍্যান্ডি স্পিভি স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সাংবাদিকদের বলেন, এই মুহূর্তে তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে আমাদের কাছে খুব বেশি তথ্য নেই, তার সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কেও কিছু বলতে পারছি না। তবে আমরা জানি, তিনি এখনো জীবিত।

পাইকের আইনজীবীরা এখন তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড থেকে কমিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। ৫০ বছর বয়সী পাইককে ১৯৯৬ সালে কলিন স্লেমার নামের এক তরুণীকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পাইককে পেন্টোবারবিটালের দুইটি প্রাণঘাতী ডোজ দেওয়া হয়। এরপরও তিনি জীবিত ছিলেন বলে তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পাইক যখন কলিন স্লেমারকে হত্যা করেন, তখন তার বয়স ছিল ১৮ বছর। তার তৎকালীন প্রেমিক ট্যাডারিল শিপের সঙ্গে মিলে তিনি ১৯ বছর বয়সী স্লেমারকে মারধর, নির্যাতন ও হত্যা করেন।

বুধবার পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এ নিয়ে আইনি লড়াই চলছিল। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমতি দেন।

স্লেমারের মা মে মার্টিনেজ পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর চেয়েছিলেন এবং তা দেখতে টেনেসেতে গিয়েছিলেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে পাইকের আইনজীবীরা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় কী ঘটেছিল সে বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানান। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো ঘটনাটি ছিল ভয়াবহ এবং তা কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে রাখা হয়েছিল।

স্পিভি বলেন, রাতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকারী দল প্রায় এক ঘণ্টা ধরে একটি আইভি লাইন স্থাপনের চেষ্টা করে। শুধু তার বাম হাতেই অন্তত সাতটি সূঁচ ব্যবহার করতে দেখেছি। এর মধ্যে একটি সূঁচ তার শরীর থেকে বের করার সময় বাঁকা অবস্থায় ছিল বলে মনে হয়েছে।

স্পিভি আরও বলেন, দ্বিতীয় দফা প্রাণঘাতী ওষুধ দেওয়ার পরও পাইক শ্বাস নিচ্ছেন— এটি স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর পর্যবেক্ষকদের একটি বন্ধ পর্দার পেছনে অন্ধকার কক্ষে রাখা হয়।

তিনি বলেন, ওই পর্দার পেছনে কী ঘটছিল, কেউ জানত না। কোনো চিকিৎসাকর্মী তাকে চিকিৎসা দেওয়া শুরু করেছিলেন কিনা, সে বিষয়েও আমার কোনো ধারণা ছিল না।

স্পিভি বলেন, টেনেসের গভর্নরের এখন ক্রিস্টা পাইকের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড থেকে কমিয়ে দেওয়া উচিত। এর আগে এ ধরনের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল।

পাইকের আরেক আইনজীবী স্টিফেন ফেরেল জানান, তারা অন্যান্য আইনি পথ নিয়েও ভাবছেন। তিনি বলেন, আমরা বিষয়টি ভালোভাবে ভেবে দেখতে চাই। একই সঙ্গে নিশ্চিত করতে চাই, ক্রিস্টা সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং তিনি কী চান, সে বিষয়ে তার নিজের মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকছে।

টেনেসের গভর্নর বিল লি একটি স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ হওয়ার ঘটনা নিয়ে তদন্ত পূর্ণাঙ্গভাবে করা হবে এবং এতে সময় লাগবে।

লি বলেন, অনেক প্রশ্ন রয়েছে। আমাদের অঙ্গরাজ্যের মানুষ এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার অধিকার রাখেন। আর সেই কারণেই এই তদন্ত।

তবে টেনেসের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া নিয়ে স্বাধীন তদন্তটি কে পরিচালনা করবে, তা এখনো স্পষ্ট করেননি লি।

পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকারী টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশন তাদের কার্যক্রমের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, তারা ‘অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরের অনুমোদিত এবং অঙ্গরাজ্যের আইনসম্মত ও নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রোটোকলের প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করেছে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘প্রোটোকলে ব্যবহৃত প্রাণঘাতী রাসায়নিকটি এর আগে ধারাবাহিকভাবে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। আর প্রোটোকলে ওই সন্ধ্যায় যা করা হয়েছে, তার বাইরে অতিরিক্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই।’

আইনজীবীদের আদালতে দেওয়া নথি অনুযায়ী, প্রথমবারের চেষ্টা ব্যর্থ হলে অঙ্গরাজ্যের নির্ধারিত প্রোটোকল অনুযায়ী পাইককে পেন্টোবারবিটালের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। কিন্তু এরপরও তিনি জীবিত ছিলেন।

পাইকের আইনজীবীরা আদালতে বলেন, ‘এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরণ মিস পাইকের জন্য অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রণা সৃষ্টি করছে এবং নিষ্ঠুর ও অস্বাভাবিক শাস্তি থেকে মুক্ত অবস্থায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তার সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করছে।’

টেনেসির অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তের সিদ্ধান্তকে তারা সমর্থন করছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কী ঘটেছে, তা আমাদের জানতে হবে।’

টেনেসির গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা রিপাবলিকান সিনেটর মার্শা ব্ল্যাকবার্ন এই ঘটনাকে ‘মর্মান্তিক’ বলে বর্ণনা করেছেন।

ব্ল্যাকবার্ন বলেন, ‘কী ঘটেছে এবং কেন এই প্রক্রিয়া ব্যর্থ হয়েছে, তা অবশ্যই পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা উচিত। তবে সমাধান সহজ— ইলেকট্রিক চেয়ার আবার চালু করা।’

ব্ল্যাকবার্নের প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট জেরি গ্রিন তাকে ‘মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সবচেয়ে নিষ্ঠুর পদ্ধতিগুলোর একটি আবার চালু করতে চাওয়ার’ জন্য সমালোচনা করেছেন।

গ্রিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, ‘গভর্নর হলে আমি ভবিষ্যতের সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করব।’

২০২৬ সালে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার টেনেসির কর্মকর্তারা কোনো বন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করে ব্যর্থ হলেন।

এর আগে মে মাসে টনি কারাথার্সের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করা হয়। মৃত্যুদণ্ডের জন্য প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগ করতে তার শরীরে উপযুক্ত শিরা খুঁজে পেতে ব্যর্থ হন কর্মকর্তারা। পরে কারাথার্সের মৃত্যুদণ্ড এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়।

সূত্র : বিবিসি