অর্থনীতিতে নোবেল স্মারক পুরস্কার পেলেন রবার্ট হল, মাইকেল উডফোর্ড

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:০৩:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
  • 35

অর্থনৈতিক ধাক্কা সামাল দেয়ার মডেল নিয়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এ বছর অর্থনীতিতে নোবেল স্মারক পুরস্কার পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেয়া দুই অর্থনীতিবিদ রবার্ট ই হল ও মাইকেল উডফোর্ড।

তাদের গবেষণায় তৈরি মডেলগুলো জ্বালানি সঙ্কট ও মূল্যস্ফীতির মতো অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে সহায়তা করেছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে বলে, এই দুই অর্থনীতিবিদের গবেষণা অর্থনৈতিক উত্থান-পতন মোকাবেলায় নীতিনির্ধারকদের সহায়তা করছে।

এক বিবৃতিতে একাডেমি আরো বলেছে, ‘বিজয়ীরা অর্থনীতির উত্থান-পতন মসৃণ করতে আমাদের সহায়তা করেছেন।’

রবার্ট ই হল ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং মাইকেল উডফোর্ড নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যুক্ত।

এদিন নিউইয়র্ক থেকে ফোনে পুরস্কার কমিটির সাথে কথা বলেন উডফোর্ড। তিনি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত সম্মানের বিষয়, একইসাথে বিস্ময়কর।’

অর্থনীতিতে পুরস্কার দেয়ার কমিটির চেয়ারম্যান জন হাসলার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, ‘বিজয়ীদের কাজ এমন মডেলের স্থিতিশীল তাত্ত্বিক ভিত্তি তৈরি করেছে, যা এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকার ব্যবহার করছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এসব মডেলের মাধ্যমে জ্বালানি সঙ্কট কিংবা পরিবারের ভোগব্যয়ের আকস্মিক পরিবর্তনের মতো অর্থনৈতিক ধাক্কা মোকাবেলায় আমরা আরো ভালোভাবে প্রস্তুত।’

সরাসরি সম্প্রচারিত সংবাদ সম্মেলনে ফোনে দেয়া বক্তব্যে উডফোর্ড বলেন, তার গবেষণায় ‘বাজারে থাকা ও ব্যয়সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া মানুষদের বোঝার’ ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘সরকার কী করছে, তা জনগণকে বোঝানোর সুযোগ তৈরি করে—এমন একটি কাঠামো গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি। বিশ্লেষণধর্মী কাঠামো তৈরির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল শুধু মানুষের ওপর এটি প্রয়োগ করা নয়, বরং কেন কী করা হচ্ছে, তা মানুষকে বোঝানোও।’

গত বছর ব্যবসায়িক উদ্ভাবন নিয়ে গবেষণার জন্য তিনজন গবেষক এই পুরস্কার পেয়েছিলেন। নতুন পণ্য ও উদ্ভাবন কীভাবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মানুষের কল্যাণ বৃদ্ধি করে, এমনকি পুরোনো কোম্পানিগুলোকে পেছনে ফেলে দেয়—তা ব্যাখ্যা করেছিলেন তারা।

পুরস্কারটির আনুষ্ঠানিক নাম ‘আলফ্রেড নোবেলের স্মরণে অর্থনৈতিক বিজ্ঞানে ব্যাংক অব সুইডেন পুরস্কার’। ১৯৬৮ সালে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ পুরস্কার চালু করে। এর আগে ঊনবিংশ শতাব্দীর সুইডিশ ব্যবসায়ী ও রসায়নবিদ আলফ্রেড নোবেল ডিনামাইট আবিষ্কার করেন এবং পাঁচটি নোবেল পুরস্কার প্রতিষ্ঠা করেন।

নোবেল পুরস্কারের বিশুদ্ধতা নিয়ে যারা কঠোর অবস্থান নেন, তারা মনে করিয়ে দেন, অর্থনীতির এই পুরস্কার আসলে নোবেল পুরস্কার নয়। তবে নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকী ১০ ডিসেম্বর অন্য পুরস্কারগুলোর সাথে এটিও দেয়া হয়।

গত সপ্তাহে চিকিৎসাবিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য ও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।

এ বছর পুরস্কারের অর্থমূল্য এক কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা, যা প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলারের সমান। একজন ব্যক্তি, একাধিক বিজয়ীর ছোট দল কিংবা কোনো সংস্থা—পুরস্কার যে-ই পাক, অর্থমূল্য একই থাকবে। ইউএনবি

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Din Mohammad

জনপ্রিয়

ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

অর্থনীতিতে নোবেল স্মারক পুরস্কার পেলেন রবার্ট হল, মাইকেল উডফোর্ড

Update Time : ১১:০৩:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

অর্থনৈতিক ধাক্কা সামাল দেয়ার মডেল নিয়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এ বছর অর্থনীতিতে নোবেল স্মারক পুরস্কার পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেয়া দুই অর্থনীতিবিদ রবার্ট ই হল ও মাইকেল উডফোর্ড।

তাদের গবেষণায় তৈরি মডেলগুলো জ্বালানি সঙ্কট ও মূল্যস্ফীতির মতো অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে সহায়তা করেছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে বলে, এই দুই অর্থনীতিবিদের গবেষণা অর্থনৈতিক উত্থান-পতন মোকাবেলায় নীতিনির্ধারকদের সহায়তা করছে।

এক বিবৃতিতে একাডেমি আরো বলেছে, ‘বিজয়ীরা অর্থনীতির উত্থান-পতন মসৃণ করতে আমাদের সহায়তা করেছেন।’

রবার্ট ই হল ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং মাইকেল উডফোর্ড নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যুক্ত।

এদিন নিউইয়র্ক থেকে ফোনে পুরস্কার কমিটির সাথে কথা বলেন উডফোর্ড। তিনি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত সম্মানের বিষয়, একইসাথে বিস্ময়কর।’

অর্থনীতিতে পুরস্কার দেয়ার কমিটির চেয়ারম্যান জন হাসলার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, ‘বিজয়ীদের কাজ এমন মডেলের স্থিতিশীল তাত্ত্বিক ভিত্তি তৈরি করেছে, যা এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকার ব্যবহার করছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এসব মডেলের মাধ্যমে জ্বালানি সঙ্কট কিংবা পরিবারের ভোগব্যয়ের আকস্মিক পরিবর্তনের মতো অর্থনৈতিক ধাক্কা মোকাবেলায় আমরা আরো ভালোভাবে প্রস্তুত।’

সরাসরি সম্প্রচারিত সংবাদ সম্মেলনে ফোনে দেয়া বক্তব্যে উডফোর্ড বলেন, তার গবেষণায় ‘বাজারে থাকা ও ব্যয়সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া মানুষদের বোঝার’ ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘সরকার কী করছে, তা জনগণকে বোঝানোর সুযোগ তৈরি করে—এমন একটি কাঠামো গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি। বিশ্লেষণধর্মী কাঠামো তৈরির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল শুধু মানুষের ওপর এটি প্রয়োগ করা নয়, বরং কেন কী করা হচ্ছে, তা মানুষকে বোঝানোও।’

গত বছর ব্যবসায়িক উদ্ভাবন নিয়ে গবেষণার জন্য তিনজন গবেষক এই পুরস্কার পেয়েছিলেন। নতুন পণ্য ও উদ্ভাবন কীভাবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মানুষের কল্যাণ বৃদ্ধি করে, এমনকি পুরোনো কোম্পানিগুলোকে পেছনে ফেলে দেয়—তা ব্যাখ্যা করেছিলেন তারা।

পুরস্কারটির আনুষ্ঠানিক নাম ‘আলফ্রেড নোবেলের স্মরণে অর্থনৈতিক বিজ্ঞানে ব্যাংক অব সুইডেন পুরস্কার’। ১৯৬৮ সালে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ পুরস্কার চালু করে। এর আগে ঊনবিংশ শতাব্দীর সুইডিশ ব্যবসায়ী ও রসায়নবিদ আলফ্রেড নোবেল ডিনামাইট আবিষ্কার করেন এবং পাঁচটি নোবেল পুরস্কার প্রতিষ্ঠা করেন।

নোবেল পুরস্কারের বিশুদ্ধতা নিয়ে যারা কঠোর অবস্থান নেন, তারা মনে করিয়ে দেন, অর্থনীতির এই পুরস্কার আসলে নোবেল পুরস্কার নয়। তবে নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকী ১০ ডিসেম্বর অন্য পুরস্কারগুলোর সাথে এটিও দেয়া হয়।

গত সপ্তাহে চিকিৎসাবিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য ও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।

এ বছর পুরস্কারের অর্থমূল্য এক কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা, যা প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলারের সমান। একজন ব্যক্তি, একাধিক বিজয়ীর ছোট দল কিংবা কোনো সংস্থা—পুরস্কার যে-ই পাক, অর্থমূল্য একই থাকবে। ইউএনবি