দেশজুড়ে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করায় ইলেকট্রিক চুলার চাহিদা ও বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় বাজারে এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না বললেই চলে।
কোথাও কোথাও বেশি দাম দিয়েও সিলিন্ডার মিলছে না। ফলে অনেক ভোক্তা বাধ্য হয়ে ইলেকট্রিক চুলা, ইনডাকশন কিংবা ইনফ্রারেড চুলার দিকে ঝুঁকছেন। কেউ কেউ বিকল্প হিসেবে মাটির চুলাও কিনছেন।
রাজধানীর বেশির ভাগ এলাকায় রান্নার মতো গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। তিতাস গ্যাস বিতরণ লাইনে স্বল্পচাপের পাশাপাশি বাজারে এলপিজির সরবরাহ ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। ঢাকার বাইরেও একই চিত্র। যেসব জায়গায় সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে প্রতি সিলিন্ডারে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত দাম গুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন ভোক্তারা।
রাজধানীর বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্সের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতাদের প্রধান চাহিদা এখন ইলেকট্রিক চুলা। বিদ্যুৎ ব্যবহার করে অন্তত ভাত ও তরকারি রান্না করে স্বাভাবিক জীবনযাপন চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা। রামপুরার একটি শোরুমে আসা রুমানা বেগম জানান, বারবার চেষ্টা করেও এলপিজি সিলিন্ডার না পেয়ে বাধ্য হয়ে ইলেকট্রিক চুলা কিনছেন। আরেক ক্রেতা ইকরাম বলেন, পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেশি হওয়ায় ইলেকট্রিক চুলা ছাড়া এখন উপায় নেই।
ইলেকট্রিক চুলা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও চাহিদা বৃদ্ধির কথা স্বীকার করেছে। প্রাণ আরএফএল গ্রুপের উপমহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তৌহিদুজ্জামান জানান, হঠাৎ করেই ইলেকট্রিক চুলার চাহিদা বেড়েছে এবং আগের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি বিক্রি হচ্ছে।
তিনি বলেন, বাড়তি চাহিদা মেটাতে প্রতিষ্ঠানটি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে সক্ষম হবে।
বর্তমানে বাজারে ইলেকট্রিক চুলার দাম ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে রয়েছে।
প্রাণ আরএফএল জানায়, আগে যেখানে মাসে গড়ে ২০ হাজার পিস বিক্রি হতো, এখন তার চেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে।
ওয়ালটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা প্রতি মাসে ৭ থেকে ১০ হাজার ইলেকট্রিক চুলা বিক্রি করে এবং গত এক সপ্তাহে চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, তবে দাম তেমন বাড়ানো হয়নি।
এদিকে এলপিজি অপারেটররা জানিয়েছেন, চলতি মাসের শেষের দিকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এলপিজি আমদানির জন্য এলসি খুলেছে এবং সেগুলো পথে রয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন।
ডেস্ক নিউজ 




















