খুলনা প্রতিনিধি:
খুলনা নিরালা শেরে বাংলা রোড সংলগ্ন তানিয়া বিউটি পার্লার এর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে। ত্বকের সৌন্দর্য বর্ধনের নামে মেয়াদোত্তীর্ণ ক্রিম, মেডিসিন ও প্রসাধনী সামগ্রী ব্যবহার করায় অনেকের শরীরে দেখা দিয়েছে চর্মরোগ। সম্প্রতি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অভিযান চালালেও অনিয়মের মধ্যেই পার্লারটি পরিচালনা করছেন সত্ত্বাধিকারী তানিয়া ইসলাম।
বিয়ে, জন্মদিবস, কিংবা যেকোন উৎসব। নারীদের অন্যতম সৌখিনতা দাড়িয়েছে এখন পার্লারের সাজ। একটা সময় পার্লার শব্দটি খুব বেশি পরিচিত না থাককেও , বর্তমানে জনে জনে এটি পরিচিত। ত্বকের প্রতি যত্নশীল হয়ে ওঠা এই সময়ের নারীরা ত্বকের খুটিনাটি বিষয়ে পরামর্শ নিতে ছুটে যান বিউটিশিয়ানের নিকট। নিজের ত্বক লাবন্য ও উজ্জলতার লক্ষ্যে দামী প্রসাধনী ব্যবহার করতেও অনেকেই কার্পন্য করেন না। তবে, নারীদের রূপলাবন্য বৃদ্ধির গ্যারান্টি দিয়ে রমরমা ব্যবসার ফাঁদ পেতেছেন কতিপয় কথিত নারী বিউটিশিয়ানেরা। রূপচর্চার নামে ব্যাঙের ছাতার মত গজে ওঠা এসকল পার্লারের কারণে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ভোক্তাদের উপর।
অধিকাংশ পার্লারে নিম্নমানের প্রসাধনী সহ ভেজাল, নকল, মেয়াদ উত্তীর্ণ পন্য ব্যবহার করায় অনেকের ত্বকে দেখা দিয়েছে চর্মরোগ।
নগরীর নিরালা আবাসিক এলাকা সংলগ্ন শেরে-বাংলা রোডে তানিয়া বিউটি পার্লারের বিরুদ্ধে এ সকল অভিযোগ অহরহ। প্রসাধনী সামগ্রীর অতিরিক্ত মূল্য গ্রহন, ত্বকের স্পর্শকাতর স্থানে ভেজাল ও নকল প্রসাধনী প্রয়োগসহ মেয়াদোত্তীর্ণ পন্য ব্যবহারের অভিযোগ করেন কয়েকজন ভোক্তা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী বলেন, “তানিয়া আপুর একজন নিয়মিত কাস্টমার আমি।সে একে তো দাম বেশি নেয়, তারপরেও মানহীন পণ্য ব্যবহার করে।তার পার্লারে যাওয়ার পর থেকে আমার শরীরে এলার্জিজনিত রোগ দেখা দিয়েছে।“
সিনথিয়া সাথী নামক আরেক ভুক্তভোগী জানান,” এই পার্লারে রূপচর্চা করায় আমার ত্বক পুড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
শুধু ভোক্তা নয়। পার্লারের মালিক তানিয়ার উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন কর্মরত নারী কর্মীগন। জানা যায়, কয়েক মাসের বেতন আটকে রাখায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
সম্প্রতি , নানা অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে খুলনা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ–পরিচালক দিলারা জামানের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে পন্যের অপ্রাসঙ্গিক মূল্য বৃদ্ধি ও মেয়াদোত্তীর্ন প্রসাধনি ব্যবহারসহ নানা অনিয়ম পাওয়ায় ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এসকল বিষয়ে তানিয়া ইসলাম এর নিকিট জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এসকল তথ্য সব মিথ্যা। মেয়াদউত্তীর্ণ অন্য কোনো পন্য ছিল না, আমার ব্যবহৃত শ্যাম্পু ছিল। “
এছাড়া পন্যের মূল্য বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি বলেন,” আমার পন্যগুলো সঠিক দামেই বিক্রয় করা হয়।”
তবে, রূপচর্চার কাজে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা এবং কারিগরি জ্ঞান থাকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট পার্লার ব্যবসায়ীরা। ফাতেমাতুজ্জোহরা (ছদ্মনাম)নামক এক পার্লার ব্যবসায়ী জানান,”পার্লারে রুপচর্চার কাজে নিয়োজিত বেশীরভাগ মেয়েদেরই এ সম্পর্কে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই। যার কারনে কাস্টমারের নানাবিধ সমস্যায় ভুগতে হয়।”
তবে, এ বিষয়ে কৃষি বিপনন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সুজাত হোসেন খান বলেন, কসমেটিকস কিংবা প্রসাধনী সামগ্রী বিক্রয় করতে হলে কৃষি বিপনন অধিদপ্তরের লাইসেন্স প্রয়োজন।
শুধু তানিয়া বিউটি পার্লার নয়। নগরীর বিভিন্ন মোড়ে গড়ে ওঠা অধিকাংশ পার্লারগুলোর চিত্র প্রায় একই। কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সুষ্ঠু পদক্ষেপে এসকল পার্লারগুলোর অনিয়ম হ্রাস পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Reporter Name 
























