নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
খুলনার দৌলতপুর ক্লাবে রমরমাভাবে চলছে জুয়ার আসর।প্রতিনিয়ত এই জুয়ার আসরে উপস্থিত হয় খুলনাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ধন্যাঢ্য ও প্রভাবশালী ব্যাক্তিরা। জানা যায়, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ছত্রছায়া ব্যাবহার করে প্রতিদিনই চলে এই জুয়ার আসর।
২০২০ সালে অবৈধ ক্যাসিনো ও জুয়াবিরোধী অভিযানে সাড়া ফেলে পুরো দেশে।তদন্তে উঠে আসে দেশি ও বিদেশী জুয়াড়ীদের তথ্য।সে সময় ভাগ্যের উপর নির্ভরশীল সকল জুয়া খেলাসহ ঢাকার বেশ কয়েকটি ক্লাব বন্ধের আদেশ দেয় হাইকোর্ট।অবৈধ জুয়া বন্ধে প্রচলিত আইনের সংশোধন ও সাজা বাড়ানোর নির্দেশনা থাকে রায়ে।
এই আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে নির্বিঘ্নে জুয়া চলছে দৌলতপুর ক্লাবে। ক্লাবের জুয়াড়ীরা দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে এই আসন জমিয়ে তোলে প্রতিনিয়ত। একটি ভাগে সমাজের মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেনীর জুয়াড়িরা আসর বসায় এবং অপর আসরে থাকে নিম্ন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত শ্রেণীর জুয়াড়িরা ।
গোপন সূত্রের ভিত্তিতে জানা যায়, এই দুটি বিভাগ পরিচালনার দ্বায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে মোঃ হান্নান । জুয়ার বোর্ডের সকল বিষয়াদি দেখভালের দ্বায়িত্ব তার। কোন আসরে কত টাকার খেলা হয় এবং সেখান থেকে জুয়াড়িদের কত লাভ কিংবা লোকসান হয় এসকল বিষয়গুলো হান্নান উপস্থিত থেকে পরিচালনা করে। বোর্ডপ্রতি একটি অঙ্কের টাকা হিসাব করে দিতে হয় পর্দার ওপারের গডফাদারদের। এই আসর পরিচালনার জন্য হান্নান পায় একটি নির্ধারিত পরিমান টাকা। তবে এ বিষয়ে হান্নানের সাথে কথা বললে, জুয়ার বোর্ড পরিচালনার কথা অস্বীকার করেন। তবে, স্বীকার করেন তিনি নিজেই জুয়াড়িদের সাথে খেলায় অংশগ্রহণ করেন । তিনি বলেন ” এখানে আমি জুয়া পরিচালনা করি না, আমি নিজেই জুয়া খেলি। কে বা কারা জুয়া পরিচালনা করে এবিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। টিপু সাহেবের সাথে যোগাযোগ করুন। তাছাড়া, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন সাপেক্ষে এই ক্লাবে জুয়া চলে। এখানে প্রশাসনিক অনেক কর্মকর্তা জুয়া খেলতে আসে। এমনকি, পুলিশের এস পি এই জুয়ার আসরে বসে।”
জানা যায় রাজনৈতিক পরিচয় ব্যাবহার করে গুটিকয়েক ব্যাক্তিবর্গ এই আসরটিকে আগলে রেখেছে। সমাজের বন্যাঢ্য ও ক্ষমতাশালী ব্যাক্তিদের উপস্থিতিতেই জুয়ার আসর চলায় ক্লাবটিতে কোনো ঝামেলা হয়না। সকল সমস্যায় ঢালস্বরূপ ব্যাবহৃত হয় এই সকল প্রভাবশালী ব্যাক্তিরা।
জুয়া নিষিদ্ধঘোষিত হওয়া সত্বেও কিভাবে সরবে চলছে? কে বা কারা এই জুয়ার আসরের পেছনের শক্তি? এসকল প্রশ্নের উত্তর খুজতে অনুসন্ধানে নামলে, পাওয়া যায় বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যায়, এই জুয়ার আসরের অন্যতম চালিকাশক্তি ক্লাবটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী টিপু। জুয়া নিষিদ্ধ ঘোষিত হলেও কিভাবে নির্বিঘ্নে চলছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে টিপু হুমকিমূলক কথা বলেন এ প্রতিবেদককে। তিনি বলেন ” এখানে কোনো জুয়া খেলা হয়না”। এছাড়া অনেক নেতিবাচক প্রসঙ্গ উল্লেখ করে কথা বলেন, যেগুলো সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
১৮৬৭ সালের জুয়া আইনে বলা হয়েছে যেকোনো ঘর, স্থান , তাবু জুয়ার স্থান হিসেবে ব্যাবহৃত হলে তার মালিক , রক্ষণাবেক্ষনকারী, জুয়ার ব্যাবস্থাপক বা সাহায্যকারী তিন মাসের কারাদন্ড বা অনুর্দ্ধ ২শ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবে।
এই ক্লাবে চলমান এই জুয়ার ব্যাপারে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, ” আমার জানামতে এধরনের কর্মকান্ড এখানে চলে না, যদি আদৌ চলে তাহলে আমরা আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহণ করব।”
বর্তমানে সামাজিক ও পারিবারিক কলহসৃষ্টিকারি একটি মারাত্বক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে এই জুয়া।সমাজের এক শ্রেণীর সচেতন ব্যাক্তিবর্গ মনে করছেন অতিসত্বর এটির লাগাম টেনে না ধরলে বেড়েই চলবে সমাজের অবক্ষয়।অপরদিকে বাড়তে থাকবে অপরাধ পরিক্রমা।
Reporter Name 

























