গড়াই-ইছামতিতে হবে নান্দনিক সেতু, ব্যয় ৩৪৮ কোটি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৪৯:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
  • 232

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার ইছামতি নদীতে ও কুষ্টিয়ার গড়াই নদীতে দুটি নান্দনিক সেতু নির্মাণ করা হবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪৮ কোটি টাকা। সেতু দুটি নির্মাণে এরই মধ্যে পরিকল্পনা কমিশনে প্রস্তাব পাঠিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় ইছামতি নদীর ওপর নির্মাণ করা হবে একটি সেতু। এ লক্ষ্যে বান্দুরা সেতু নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের অর্থ সরকারি কোষাগার থেকে মেটানো হবে। চলতি সময় থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে এই সেতু নির্মাণ করবে এলজিইডি। এই সেতু বাস্তবায়ন হলে ঢাকা জেলার অন্য অংশের সঙ্গে নবাবগঞ্জ উপজেলার গ্রামীণ এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে। এর মাধ্যমে ওই এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, কৃষিপণ্য পরিবহন সুবিধা আরও সহজ হবে। পাশাপাশি গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে শহরের নাগরিক সুবিধা গ্রাম পর্যন্ত সম্প্রসারণ হবে। নবাবগঞ্জ উপজেলার গ্রামীণ অঞ্চলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে এলাকার দারিদ্রতা নিরসনেও ভূমিকা রাখবে সেতুটি।

এলজিইডি জানায়, প্রস্তাবিত সেতুর প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সরেজমিনে যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শন প্রতিবেদনে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার কার্তিকপুর-(দোহার)-বাহা-দোয়াইর-বালেঙ্গা-কাইশাখালী বাঁধ-সোনাবাজু- শিকারীপাড়া-দাউদপুর-মাঝিরকান্দা সড়কের ১০২৩০ মিটার চেইনেজে বান্দুরা বাজারের নিকট ১২০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সরু সেতু রয়েছে। ১৯৯৪ সালে সেতুটি নির্মিত। বান্দুরা ব্রিজ নামে স্থানীয়ভাবে পরিচিত সেতুটি। পরিদর্শনকালে দেখা যায়, ওই সেতুর প্রস্থ ৩ দশমিক ৬ মিটার (১২ ফুট) হওয়ায় একসঙ্গে উভয়মুখী যানবাহন চলাচল করতে পারে না। ফলে ওই এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। নবাবগঞ্জ উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন- বিশেষ করে জয়কৃষ্ণপুর, বারুয়াখালী, শিকারীপারা, নয়নশ্রী ও বান্দুরার সঙ্গে উপজেলা সদরের যোগাযোগের মাধ্যম ওই সেতু। এছাড়া ওই সেতুর মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী জেলা মানিকগঞ্জের সঙ্গে সড়ক নেটওয়ার্ক স্থাপিত হয়েছে।

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর নবাবগঞ্জ উপজেলায় যানবাহন চলাচল বেড়েছে। দক্ষিণবঙ্গ থেকে আগত অনেক যানবাহন বান্দুরা ব্রিজ অতিক্রম করে নবাবগঞ্জ উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ও মানিকগঞ্জ জেলায় যাতায়াত করে। ফলে ওই সেতুর বিকল্প হিসেবে বান্দুরা বাজারের সেতুর ভাটিতে নতুন সেতু নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এদিকে, কুষ্টিয়ার গড়াই নদীর ওপর সেতু নির্মাণে ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ‘কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলাধীন গড়াই নদীর ওপর সেতু নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে নির্মিত হবে। চলতি সময় থেকে ২০২৭ সালের জুন মেয়াদে এটা বাস্তবায়ন করা হবে। কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের সঙ্গে খোকসা উপজেলা শহরের সড়ক যোগাযোগ উন্নয়ন হবে এ সেতুর মাধ্যমে। এর ফলে ওই এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, কৃষিপণ্য পরিবহন সুবিধা বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। এর মাধ্যমে শহরের নাগরিক সুবিধা গ্রাম পর্যন্ত সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে এলাকার দারিদ্রতা কমবে।

এ বিষয়ে এলজিইডির এক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বলেন, প্রস্তাবিত সেতুটি খোকসা উপজেলায় গড়াই নদীর ওপর নির্মিত হবে। বর্তমানে ওই এলাকার মানুষ নৌকায় নদী পারাপার হন। যাবতীয় মালামালও নৌকায় পরিবহন করতে হয়। কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলা অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিকে থেকে অনেক উন্নত। কুষ্টিয়া জেলার সঙ্গে খোকসা উপজেলার অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে আরও প্রসার লাভে সেতুটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

এলজিইডি জানায়, প্রকল্পের আওতায় ২৪৭ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ৯৪০ মিটার সেতু নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। সেতু নির্মাণসহ অন্যান্য বিভিন্ন ব্যয়সহ প্রকল্পের মোট ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ৩০০ কোটি টাকা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জনপ্রিয়

গড়াই-ইছামতিতে হবে নান্দনিক সেতু, ব্যয় ৩৪৮ কোটি

Update Time : ০৯:৪৯:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার ইছামতি নদীতে ও কুষ্টিয়ার গড়াই নদীতে দুটি নান্দনিক সেতু নির্মাণ করা হবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪৮ কোটি টাকা। সেতু দুটি নির্মাণে এরই মধ্যে পরিকল্পনা কমিশনে প্রস্তাব পাঠিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় ইছামতি নদীর ওপর নির্মাণ করা হবে একটি সেতু। এ লক্ষ্যে বান্দুরা সেতু নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের অর্থ সরকারি কোষাগার থেকে মেটানো হবে। চলতি সময় থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে এই সেতু নির্মাণ করবে এলজিইডি। এই সেতু বাস্তবায়ন হলে ঢাকা জেলার অন্য অংশের সঙ্গে নবাবগঞ্জ উপজেলার গ্রামীণ এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে। এর মাধ্যমে ওই এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, কৃষিপণ্য পরিবহন সুবিধা আরও সহজ হবে। পাশাপাশি গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে শহরের নাগরিক সুবিধা গ্রাম পর্যন্ত সম্প্রসারণ হবে। নবাবগঞ্জ উপজেলার গ্রামীণ অঞ্চলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে এলাকার দারিদ্রতা নিরসনেও ভূমিকা রাখবে সেতুটি।

এলজিইডি জানায়, প্রস্তাবিত সেতুর প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সরেজমিনে যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শন প্রতিবেদনে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার কার্তিকপুর-(দোহার)-বাহা-দোয়াইর-বালেঙ্গা-কাইশাখালী বাঁধ-সোনাবাজু- শিকারীপাড়া-দাউদপুর-মাঝিরকান্দা সড়কের ১০২৩০ মিটার চেইনেজে বান্দুরা বাজারের নিকট ১২০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সরু সেতু রয়েছে। ১৯৯৪ সালে সেতুটি নির্মিত। বান্দুরা ব্রিজ নামে স্থানীয়ভাবে পরিচিত সেতুটি। পরিদর্শনকালে দেখা যায়, ওই সেতুর প্রস্থ ৩ দশমিক ৬ মিটার (১২ ফুট) হওয়ায় একসঙ্গে উভয়মুখী যানবাহন চলাচল করতে পারে না। ফলে ওই এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। নবাবগঞ্জ উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন- বিশেষ করে জয়কৃষ্ণপুর, বারুয়াখালী, শিকারীপারা, নয়নশ্রী ও বান্দুরার সঙ্গে উপজেলা সদরের যোগাযোগের মাধ্যম ওই সেতু। এছাড়া ওই সেতুর মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী জেলা মানিকগঞ্জের সঙ্গে সড়ক নেটওয়ার্ক স্থাপিত হয়েছে।

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর নবাবগঞ্জ উপজেলায় যানবাহন চলাচল বেড়েছে। দক্ষিণবঙ্গ থেকে আগত অনেক যানবাহন বান্দুরা ব্রিজ অতিক্রম করে নবাবগঞ্জ উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ও মানিকগঞ্জ জেলায় যাতায়াত করে। ফলে ওই সেতুর বিকল্প হিসেবে বান্দুরা বাজারের সেতুর ভাটিতে নতুন সেতু নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এদিকে, কুষ্টিয়ার গড়াই নদীর ওপর সেতু নির্মাণে ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ‘কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলাধীন গড়াই নদীর ওপর সেতু নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে নির্মিত হবে। চলতি সময় থেকে ২০২৭ সালের জুন মেয়াদে এটা বাস্তবায়ন করা হবে। কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের সঙ্গে খোকসা উপজেলা শহরের সড়ক যোগাযোগ উন্নয়ন হবে এ সেতুর মাধ্যমে। এর ফলে ওই এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, কৃষিপণ্য পরিবহন সুবিধা বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। এর মাধ্যমে শহরের নাগরিক সুবিধা গ্রাম পর্যন্ত সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে এলাকার দারিদ্রতা কমবে।

এ বিষয়ে এলজিইডির এক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বলেন, প্রস্তাবিত সেতুটি খোকসা উপজেলায় গড়াই নদীর ওপর নির্মিত হবে। বর্তমানে ওই এলাকার মানুষ নৌকায় নদী পারাপার হন। যাবতীয় মালামালও নৌকায় পরিবহন করতে হয়। কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলা অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিকে থেকে অনেক উন্নত। কুষ্টিয়া জেলার সঙ্গে খোকসা উপজেলার অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে আরও প্রসার লাভে সেতুটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

এলজিইডি জানায়, প্রকল্পের আওতায় ২৪৭ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ৯৪০ মিটার সেতু নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। সেতু নির্মাণসহ অন্যান্য বিভিন্ন ব্যয়সহ প্রকল্পের মোট ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ৩০০ কোটি টাকা।