Dhaka ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তাঁরা লোভী, অলস, বেকুব!

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৫৩:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২১
  • 149

আমাদের দেশে সহজ হচ্ছে আমজনতাকে দোষারোপ করা। তাঁরা লোভী, অলস, বেকুব! মানলাম। কিন্তু যমুনা গ্রুপ ইভ্যালিতে বিনিয়োগ করছে বলে খবর বেরিয়েছে ঠিক ১ মাস আগে। একটাকা দুইটাকা নয়, ১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে বলে রীতিমতো প্রেসবিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে ই-ভ্যালি। এই ১ মাসের মধ্যে যমুনা গ্রুপ কিন্তু এই খবরের কোনো প্রতিবাদ করে নি, কোথাও বলে নি যে এরকম কোনো সিদ্ধান্ত হয় নি, আমরা আগে যাচাই বাছাই করে তারপর সিদ্ধান্ত জানাব।

সাধারনত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য যা মার্কেটকে প্রভাবিত করতে পারে, সেরকম খবর পুরো সিদ্ধান্ত নেয়ার পরে জানানো হয়। যখন ডিলটা ফাইনাল হয়ে যায়, দুই পক্ষ চুক্তি স্বাক্ষর করে-তখনই সেটা মিডিয়াতে দেয়া হয়। তা না হলে আগাম ধারনা নিয়ে কেউ সিদ্ধান্ত নিয়ে ভুল করতে পারে। এখানেও তাই হয়েছে, যমুনা গ্রুপ পুরো একমাস মুখে কলা পুরে বসে ছিল, এর মাঝে কত টি-টুয়েন্টি, ফোর টুয়েন্টি অফারের সাইক্লোন-তুফান চলে গেছে, আমার জানা নেই। তবে এই সময়ে যেসব গ্রাহক নতুন করে ই-ভ্যালিতে টাকা ঢুকিয়েছেন তাঁদের মনে নিশ্চয়ই যমুনা গ্রুপের বিনিয়োগের খবর একটি আস্থার পরিবেশ তৈরি করেছিল। আজকে ঠিক একমাস পরে এসে যমুনা গ্রুপ বলছে, ‘অডিট করার পর সিদ্ধান্ত নেবে’। এই কথা তাঁরা পরদিনই কেন বলল না? কারন হয়তো এই সময়ে তোলা টাকা থেকে একটা বড় অংশ তাঁরা তাঁদের বকেয়া হিসেবে উদ্ধার করে ফেলেছে। এই দায় আরো বড় বড় কর্পোরেটরা এড়াতে পারে না।

যখন দেখেছে যে ৫০ হাজার টাকার টেলিভিশন নিয়ে তাঁর অনলাইন ডিলার ই-ভ্যালি সেটা ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করছে, তখন এদের অধিকাংশই ভুরু কুচকায় নি, বরং স্থানীয় ডিলারদের বারোটা বাজিয়ে সব মালামাল ই-‌ভ্যালিতে ঢুকিয়েছে। মাশরাফির মতো দেশের একজন বিশাল স্টার প্লেয়ার কাম সংসদ সদস্য এসে ভুঁইফোড় ই-অরেঞ্জের ব্র্যান্ড এম্বেসেডর সেজেছেন। এখন মুখ চুন করে বলছেন, ‘আমি তো কিছুই জানি না!’ আপনি কোকাকোলা-পেপসির ব্র্যান্ড এম্বেসেডর হতে পারেন হুট করে, কিন্তু কেরানিগঞ্জ সালসা নামে একটা ড্রিংক বাজারে এসে আপনাকে অফার করলেই আপনি রাজি হয়ে যাবেন? এই কেরানিগঞ্জ সালসা নামে লোকজনকে ওরা কী খাওয়াচ্ছে একটু যাচাই বাছাই করবেন না? সরকার গত ৩ বছর এসব ই-কর্মার্সকে ডেকে বলে নি, ভাই, বেশি দামে কিনে কম দামে কীভাবে বিক্রি করছিস একটু বুঝিয়ে দিয়ে যা। তোর বিজনেস মডেলটা একটু বুঝি!’ এভাবে সবাই মিলে চোখ বন্ধ রেখে অথবা নানান ধরনের সুবিধা নিয়ে নিয়ে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করেছেন যেখানে যদি লস হয় তাহলে আমজনতারই হবে।তাঁরা লোভী, তাঁরা অলস, তাঁরা হুজুগে! আর সেই আমজনতাকে যে এখানে ডেকে নিয়ে এলেন, তাঁদেরকে যে রক্ষা করতে সময় মতো ব্যবস্থা নিলেন না, তাঁরা কারা? তারা স্রেফ বাটপার ! ( সাংবাদিক আরিফ জেবতিক এর ফেসবুক ওয়াল থেকে নেওয়া )

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

তাঁরা লোভী, অলস, বেকুব!

Update Time : ১২:৫৩:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২১

আমাদের দেশে সহজ হচ্ছে আমজনতাকে দোষারোপ করা। তাঁরা লোভী, অলস, বেকুব! মানলাম। কিন্তু যমুনা গ্রুপ ইভ্যালিতে বিনিয়োগ করছে বলে খবর বেরিয়েছে ঠিক ১ মাস আগে। একটাকা দুইটাকা নয়, ১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে বলে রীতিমতো প্রেসবিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে ই-ভ্যালি। এই ১ মাসের মধ্যে যমুনা গ্রুপ কিন্তু এই খবরের কোনো প্রতিবাদ করে নি, কোথাও বলে নি যে এরকম কোনো সিদ্ধান্ত হয় নি, আমরা আগে যাচাই বাছাই করে তারপর সিদ্ধান্ত জানাব।

সাধারনত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য যা মার্কেটকে প্রভাবিত করতে পারে, সেরকম খবর পুরো সিদ্ধান্ত নেয়ার পরে জানানো হয়। যখন ডিলটা ফাইনাল হয়ে যায়, দুই পক্ষ চুক্তি স্বাক্ষর করে-তখনই সেটা মিডিয়াতে দেয়া হয়। তা না হলে আগাম ধারনা নিয়ে কেউ সিদ্ধান্ত নিয়ে ভুল করতে পারে। এখানেও তাই হয়েছে, যমুনা গ্রুপ পুরো একমাস মুখে কলা পুরে বসে ছিল, এর মাঝে কত টি-টুয়েন্টি, ফোর টুয়েন্টি অফারের সাইক্লোন-তুফান চলে গেছে, আমার জানা নেই। তবে এই সময়ে যেসব গ্রাহক নতুন করে ই-ভ্যালিতে টাকা ঢুকিয়েছেন তাঁদের মনে নিশ্চয়ই যমুনা গ্রুপের বিনিয়োগের খবর একটি আস্থার পরিবেশ তৈরি করেছিল। আজকে ঠিক একমাস পরে এসে যমুনা গ্রুপ বলছে, ‘অডিট করার পর সিদ্ধান্ত নেবে’। এই কথা তাঁরা পরদিনই কেন বলল না? কারন হয়তো এই সময়ে তোলা টাকা থেকে একটা বড় অংশ তাঁরা তাঁদের বকেয়া হিসেবে উদ্ধার করে ফেলেছে। এই দায় আরো বড় বড় কর্পোরেটরা এড়াতে পারে না।

যখন দেখেছে যে ৫০ হাজার টাকার টেলিভিশন নিয়ে তাঁর অনলাইন ডিলার ই-ভ্যালি সেটা ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করছে, তখন এদের অধিকাংশই ভুরু কুচকায় নি, বরং স্থানীয় ডিলারদের বারোটা বাজিয়ে সব মালামাল ই-‌ভ্যালিতে ঢুকিয়েছে। মাশরাফির মতো দেশের একজন বিশাল স্টার প্লেয়ার কাম সংসদ সদস্য এসে ভুঁইফোড় ই-অরেঞ্জের ব্র্যান্ড এম্বেসেডর সেজেছেন। এখন মুখ চুন করে বলছেন, ‘আমি তো কিছুই জানি না!’ আপনি কোকাকোলা-পেপসির ব্র্যান্ড এম্বেসেডর হতে পারেন হুট করে, কিন্তু কেরানিগঞ্জ সালসা নামে একটা ড্রিংক বাজারে এসে আপনাকে অফার করলেই আপনি রাজি হয়ে যাবেন? এই কেরানিগঞ্জ সালসা নামে লোকজনকে ওরা কী খাওয়াচ্ছে একটু যাচাই বাছাই করবেন না? সরকার গত ৩ বছর এসব ই-কর্মার্সকে ডেকে বলে নি, ভাই, বেশি দামে কিনে কম দামে কীভাবে বিক্রি করছিস একটু বুঝিয়ে দিয়ে যা। তোর বিজনেস মডেলটা একটু বুঝি!’ এভাবে সবাই মিলে চোখ বন্ধ রেখে অথবা নানান ধরনের সুবিধা নিয়ে নিয়ে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করেছেন যেখানে যদি লস হয় তাহলে আমজনতারই হবে।তাঁরা লোভী, তাঁরা অলস, তাঁরা হুজুগে! আর সেই আমজনতাকে যে এখানে ডেকে নিয়ে এলেন, তাঁদেরকে যে রক্ষা করতে সময় মতো ব্যবস্থা নিলেন না, তাঁরা কারা? তারা স্রেফ বাটপার ! ( সাংবাদিক আরিফ জেবতিক এর ফেসবুক ওয়াল থেকে নেওয়া )