নির্বাচন ও রমজানকে সামনে রেখে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট স্থগিত ঘোষণা করেছে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। ধর্মঘট স্থগিতের পর নিয়মিত কার্যক্রম শুরু করেছে বন্দর।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু হয়। ধর্মঘট চলাকালে বন্দরের তিনটি প্রধান টার্মিনাল—জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি), চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) এবং নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। আজ সকাল থেকে এসব টার্মিনালে জাহাজ থেকে কনটেইনার ও পণ্য ওঠানো-নামানো শুরু হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সকাল আটটা থেকে জেটি, ইয়ার্ড, টার্মিনাল, প্রশাসনিক ভবন এবং বহির্নোঙরে পরিচালন কাজ শুরু হয়েছে। রোববার কর্মবিরতির কারণে এসব কাজ বন্ধ ছিল।
রোববার রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর ঘোষণা অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এনসিটির চুক্তি হবে না বলে জানানো হয়েছে। নির্বাচন ও রোজার পণ্য খালাসের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে আন্দোলনকারী কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া মামলা, গ্রেপ্তার, শাস্তিমূলক বদলি, বাসা বরাদ্দ বাতিল এবং ১৬ কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়গুলোর সুরাহা না হলে আবার কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, এনসিটিকে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার কাজ এই সরকারের আমলে এগিয়ে নেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে, যা তাদের প্রাথমিক বিজয় হিসেবে দেখছেন। সবকিছু বিবেচনায় কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে এবং শ্রমিক-কর্মচারীরা কাজে যোগ দিয়েছেন।
এর আগে এনসিটির ইজারা প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে গত শনিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করলে অচল হয়ে পড়ে বন্দর। এতে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ধর্মঘট প্রত্যাহার করায় বন্দর ব্যবহারকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে সাত দিন কাজ বন্ধ থাকার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ডেস্ক নিউজ 















