প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবন ‘ধ্বংসস্তূপ’

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০১:২৬:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • 354

দেশের শীর্ষস্থানীয় বাংলা দৈনিক প্রথম আলো ও ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। রাতভর সংঘটিত ওই হামলার পর শুক্রবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, দুটি ভবনই অনেকাংশে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। আগুনে ঝলসে যাওয়া ভবন দুটির ভেতর ও আশপাশে এখনো ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলোর ভবনের সামনে উৎসুক মানুষের ভিড় দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভবনটির প্রধান ফটকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। আগুন পুরোপুরি নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কাজ করছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বৃহস্পতিবার রাত ১২টার কিছু আগে শাহবাগ থেকে একটি মিছিল কারওয়ান বাজারের দিকে অগ্রসর হয়। মিছিলটি প্রথম আলো কার্যালয়ের সামনে পৌঁছে ভবনটি ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধরা লাঠিসোঁটা নিয়ে কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। জানালার অধিকাংশ গ্লাস ভেঙে ফেলা হয়। রাত ১২টার দিকে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে টেবিল, চেয়ার ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বাইরে এনে সেগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে ভবনেও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলার পর উত্তেজিত জনতা ফার্মগেটে অবস্থিত ডেইলি স্টার কার্যালয়ের দিকে অগ্রসর হয়। সেখানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। হামলা থামাতে গিয়ে ডেইলি স্টার ভবনের সামনে নাজেহাল হন নিউ এইজ সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভাপতি নূরুল কবীর। এ সময় তাকে উদ্দেশ করে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।

হামলার সময় প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের অনেক সংবাদকর্মী ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। কয়েক ঘণ্টা পর ভোরের দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়। হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর শুক্রবার দুই পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ রয়েছে।

একই রাতে রাজধানীর ধানমন্ডিতে ছায়ানট ভবনে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় এবং সেখানে আগুন দেওয়া হয়। ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায়ও আরও এক দফা হামলার খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি রাজশাহী, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবনেও হামলার তথ্য পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন গত ১২ নভেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। দেশে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার রাতে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়। এই মৃত্যুর খবরকে কেন্দ্র করেই দেশজুড়ে সহিংসতার সূত্রপাত ঘটে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Din Mohammad

বাণিজ্য মেলার প্রধান ফটক ভেঙে ক্যাম্পাসে ফিরলেন শেকৃবি শিক্ষার্থীরা

প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবন ‘ধ্বংসস্তূপ’

Update Time : ০১:২৬:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫

দেশের শীর্ষস্থানীয় বাংলা দৈনিক প্রথম আলো ও ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। রাতভর সংঘটিত ওই হামলার পর শুক্রবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, দুটি ভবনই অনেকাংশে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। আগুনে ঝলসে যাওয়া ভবন দুটির ভেতর ও আশপাশে এখনো ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলোর ভবনের সামনে উৎসুক মানুষের ভিড় দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভবনটির প্রধান ফটকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। আগুন পুরোপুরি নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কাজ করছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বৃহস্পতিবার রাত ১২টার কিছু আগে শাহবাগ থেকে একটি মিছিল কারওয়ান বাজারের দিকে অগ্রসর হয়। মিছিলটি প্রথম আলো কার্যালয়ের সামনে পৌঁছে ভবনটি ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধরা লাঠিসোঁটা নিয়ে কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। জানালার অধিকাংশ গ্লাস ভেঙে ফেলা হয়। রাত ১২টার দিকে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে টেবিল, চেয়ার ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বাইরে এনে সেগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে ভবনেও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলার পর উত্তেজিত জনতা ফার্মগেটে অবস্থিত ডেইলি স্টার কার্যালয়ের দিকে অগ্রসর হয়। সেখানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। হামলা থামাতে গিয়ে ডেইলি স্টার ভবনের সামনে নাজেহাল হন নিউ এইজ সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভাপতি নূরুল কবীর। এ সময় তাকে উদ্দেশ করে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।

হামলার সময় প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের অনেক সংবাদকর্মী ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। কয়েক ঘণ্টা পর ভোরের দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়। হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর শুক্রবার দুই পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ রয়েছে।

একই রাতে রাজধানীর ধানমন্ডিতে ছায়ানট ভবনে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় এবং সেখানে আগুন দেওয়া হয়। ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায়ও আরও এক দফা হামলার খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি রাজশাহী, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবনেও হামলার তথ্য পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন গত ১২ নভেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। দেশে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার রাতে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়। এই মৃত্যুর খবরকে কেন্দ্র করেই দেশজুড়ে সহিংসতার সূত্রপাত ঘটে।