খুলনা ব্যুরোঃ বাগেরহাটের ডেমা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর শেখের কাছে জিম্মি যেন এলাকাবাসী । এ যেন চলচিত্রের খলনায়ক কেও হার মানায়। এমনটি মন্তব্য করছেন স্থানীয়রা। ইউনিয়নটির বড়বাশবাড়িয়া গ্রামের এলাকাবাসী তার বিরুদ্ধে মোঘলীয় আমলের শাসন কায়েমের অভিযোগ তুলেছেন । এ বিষয়ে স্থানীয়রা মুখ খুললে হতে হবে বলির পাঠা নয়ত গুম। এসকল তথ্য দিয়েছেন গ্রামটির সহজ সরল খেটে খাওয়া মানুষ।
বড়বাশবাড়িয়া গ্রাম। এ গ্রামের অধিকাংশ মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে কৃষিকাজ করে। ফসলীয় জমিতে চাষাবাদ করে খাওয়া যাদের মূল লক্ষ্য। গ্রামটির প্রাণকেন্দ্রে রয়েছে প্রশস্ত এক বিল। যার পরিমান আনুমানিক ৬শ বিঘা। এ বিলে কোনো একসময় ধান চাষ হলেও, বর্তমানে সেখানে হয় মাছচাষ। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর শেখ কয়েকবছর ধরেই জমির মালিকদেরকে জীম্মি করে জোরপূর্বক মাছ চাষ করছেন। এমনটি অভিযোগ করেন বিলের কিছু অংশের মালিক আকাশ আলী (প্রতীকী নাম)। প্রথমে জাহাঙ্গীর শেখের বিরুদ্ধে ভয়ে কিছু না বললেও পরবর্তীতে জানান তাদের দূর্ভোগের কথা। তিনি বলেন ”এই বিলে আমার ৬ বিঘা জমি রয়েছে, এখানের জমি অনেক উর্বর। বিঘা প্রতি প্রায় ৩৫ মণ ধান উৎপন্ন হয় এখানে। যার বাজার মূল্য ১ লাখ টাকারও অধিক। জোরপূর্বকভাবে এই ধানী জমি নিয়ে সে বছরে বিঘাপ্রতি ৬ হাজার টাকা দেয়। আমরা জমি যদি ছেড়ে না দেই, তাহলে তার ব্যাক্তিগত নিয়ন্ত্রিত সুইচ গেটের পানি ছেড়ে দিয়ে গ্রাস কার্প মাছ ছেড়ে দেয়। এ মাছ ধান গাছ খেয়ে ফেলে ও আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হই। বিলের প্রথম অংশে জাহাঙ্গীর শেখের জমি হওয়ায় সবাকি সুইচ গেটের পানি নিয়ন্ত্রণ তার হাতে।“
এছাড়া অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে স্থানীয় শালিসীতে বিচারের নামে তার অর্থবানিজ্যের গল্প। জানা যায়, বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় ব্যাক্তিদেরকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মোটা অংকের টাকা জরিমানা করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কিছু ব্যাক্তি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে ও সাহস পায়না ভয়ে।
এছাড়া জাহাঙ্গীরের হাত থেকে রক্ষা পায় নি এলাকার সাবেক মহিলা ইউ পি সদস্য গোল বানু । দেশের ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গসংগঠন আওয়ামী লীগের খুলনা মহানগরের সদস্য হয়েও রেহাই পাননি তিনি। তিনি এই প্রতিবেদককে জানান, জাহাঙ্গীর শেখের বিভিন্ন অনিয়ম , জোরপূর্বক বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডের কথা বাগেরহাট ২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ সারহান নাসের তন্ময়কে জানাই। বিষয়টি সমাধানের ও আশ্বাস দেন শেখ তন্ময়। এবিষয়ে তিনি বলেন , গত মেয়াদে ইউ পি সদস্য থাকাকালীন সময়ে জাহাঙ্গীরের কারনে এলাকাবাসীর দূর্ভোগের চিত্র শেখ তন্ময়ের কাছে তুলে ধরি। আমি একথা বলার কারনে জাহাঙ্গীর আরো বেপোরোয়া হয়ে ওঠে। আমাকে বিভিন্ন কৌশলে ভয়ভীতি দেখায়। যার কারনে আমি প্রাণরক্ষার্থে এলাকা থেকে পালিয়ে খুলনার হাজী মহসীন রোডে আত্মগোপন করি।
এবিষয়ে গোলবানুর স্বামী মোঃ শাহজাহান এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ অঞ্চলের জায়গাজমিতে জোরপূর্বক মৎস্যঘের করায় অনেকেই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। অত্র অঞ্চলের বিভিন্ন মানুষদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়সহ নানা অনৈতিক কাজে সম্পৃক্ত জাহাঙ্গীর শেখ। এই সকল দূর্নীতির তথ্য আমার স্ত্রী উপরমহলে জানালে আমাদের নানা হয়রানি করে সে। আমরা এখন একঘরে হয়ে থাকি, তার ভয়ে ঘর থেকে বের হতে পারিনা। তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করলে বিভিন্ন লোকজনের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখিয়ে হয়রানি করে।
তবে এসকল অভিযোগ অস্বীকার করে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর শেখ বলেন, এসকল তথ্য সব মিথ্যা ও বানোয়াট। ব্যাক্তি হিসেবে আমি কেমন সেটা অত্র অঞ্চলের সকলেই জানে। কিছু কুচক্রী মহল আমার নামে কুৎসো রটাচ্ছে।
এবিষয়ে বাগেরহাট উপজেলা চেয়ারম্যানের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, জাহাঙ্গীর শেখকে আমি ব্যাক্তিগত চিনি ও জানি। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এপর্যন্ত কেও অভিযোগ করেনি। অনুসন্ধানপূর্বক বিষয়টি খতিয়ে দেখে সত্যতা পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করা হয়।
বিষয়টি জানতে ডেমা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের মোবাইলে কল করলে তিনি জরুরি মিটিং এর কারনে কথা বলতে পারেনি।
এ বিষয়ে বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে এম আজিজুল ইসলাম বলেন, আমার জানামতে জাহাঙ্গীর শেখ একজন মৎস্যঘের ব্যাবসায়ী। তার বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। যদি কেও অভিযোগ দাখিল করে, আমরা সেটি অনুসন্ধানের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করব।“
Reporter Name 

























