ভারত নির্বাচন বিশ্লেষণ করতে পারে, মতামত দেওয়ার অধিকার রাখে না : রিজওয়ানা হাসান

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৪:১৪:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • 191

ভারত আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বিশ্লেষণ করতে পারে, তবে এ বিষয়ে মতামত দেওয়ার কোনো অধিকার দেশটির নেই বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

তিনি বলেন, নির্বাচন একটি দেশের সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ বিষয়। অন্য কোনো দেশ এ নিয়ে বিশ্লেষণ করতে পারে, কিন্তু কে জিতবে বা জিতলে কী হবে—এ ধরনের মতামত দেওয়ার সুযোগ নেই।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি আরও জানান, পতিত স্বৈরাচারের কোনো শক্তি যদি নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করে, সরকার তা প্রতিহত করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

গণভোট নিয়ে প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, উপদেষ্টারা ইতোমধ্যে দেশের ৬৪ জেলায় গিয়ে সুশীল সমাজ, শিক্ষক প্রতিনিধি, ছাত্র প্রতিনিধি ও ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। গণভোট কেন হচ্ছে এবং এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো কী—সে বিষয়ে সবাইকে অবহিত করা হয়েছে। এখন যেহেতু নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়ে গেছে, তাই আর উপদেষ্টারা মাঠে যাচ্ছেন না। তবে গণভোটের পক্ষে প্রস্তুত করা বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকদের দায়িত্ব হচ্ছে সাধারণ ভোটের পাশাপাশি গণভোট অনুষ্ঠিত হবে—এই তথ্য জনগণকে জানানো। এর বাইরে তাদের প্রচারণা চালানোর সুযোগ নেই।

নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে রিজওয়ানা হাসান বলেন, নির্বাচন মানেই একটি উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ থাকবে। এক দল আরেক দলকে হারানোর চেষ্টা করবে, বক্তব্যে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ হবে—এটাই স্বাভাবিক। তবে কোথাও যদি বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে গড়ায়, তখন সরকারের দায়িত্ব হবে হস্তক্ষেপ করা। তার আগ পর্যন্ত কে কার জনসভায় কী বললো, তা সরকারের দায়িত্ব নয়।

ভারত থেকে নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য আসার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্লেষণ আর মতামতের মধ্যে পার্থক্য আছে। কোনো দেশ আগেভাগে কে জিতবে বা জিতলে কী হবে—এ ধরনের মন্তব্য করলে সেটিকে বস্তুনিষ্ঠ বলে মনে করার সুযোগ থাকে না।

ভোটের পরিবেশ নষ্ট হলে আওয়ামী লীগকে দায়ী করা হবে—সরকারের এমন বক্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, ভোটের শিডিউল ঘোষণার দিনই বিভিন্ন জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যার ভুক্তভোগী উপদেষ্টারাও হয়েছেন। ফলে যদি পতিত স্বৈরাচারের কোনো শক্তি নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করে, সরকার তা কঠোরভাবে প্রতিহত করবে এবং প্রয়োজনে প্রস্তুতি আরও জোরদার করা হবে।

মানুষের মধ্যে ভোট দিতে ভয় কাজ করছে—এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, উপদেষ্টারা বিভিন্ন জেলায় ঘুরে কোথাও এমন অভিযোগ পাননি। বরং সর্বত্র নির্বাচনের একটি আমেজ লক্ষ্য করা গেছে।

প্রচার-প্রচারণা শুরু হলে যেমন উত্তেজনা বাড়ে, তেমনি আগ্রহ ও আনন্দও বাড়ে। কেউ যদি নির্দিষ্টভাবে ভোট দিতে ভয় পাচ্ছেন বলে জানায়, সরকার তার ভয় দূর করার দায়িত্ব নেবে।

তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিত্তিহীন বক্তব্য ও অপপ্রচারের মাধ্যমে একটি ভয়ের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। নির্বাচন বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে পতিত স্বৈরাচারের কোনো শক্তি সক্রিয় হলে সরকারের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Din Mohammad

বাণিজ্য মেলার প্রধান ফটক ভেঙে ক্যাম্পাসে ফিরলেন শেকৃবি শিক্ষার্থীরা

ভারত নির্বাচন বিশ্লেষণ করতে পারে, মতামত দেওয়ার অধিকার রাখে না : রিজওয়ানা হাসান

Update Time : ০৪:১৪:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

ভারত আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বিশ্লেষণ করতে পারে, তবে এ বিষয়ে মতামত দেওয়ার কোনো অধিকার দেশটির নেই বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

তিনি বলেন, নির্বাচন একটি দেশের সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ বিষয়। অন্য কোনো দেশ এ নিয়ে বিশ্লেষণ করতে পারে, কিন্তু কে জিতবে বা জিতলে কী হবে—এ ধরনের মতামত দেওয়ার সুযোগ নেই।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি আরও জানান, পতিত স্বৈরাচারের কোনো শক্তি যদি নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করে, সরকার তা প্রতিহত করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

গণভোট নিয়ে প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, উপদেষ্টারা ইতোমধ্যে দেশের ৬৪ জেলায় গিয়ে সুশীল সমাজ, শিক্ষক প্রতিনিধি, ছাত্র প্রতিনিধি ও ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। গণভোট কেন হচ্ছে এবং এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো কী—সে বিষয়ে সবাইকে অবহিত করা হয়েছে। এখন যেহেতু নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়ে গেছে, তাই আর উপদেষ্টারা মাঠে যাচ্ছেন না। তবে গণভোটের পক্ষে প্রস্তুত করা বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকদের দায়িত্ব হচ্ছে সাধারণ ভোটের পাশাপাশি গণভোট অনুষ্ঠিত হবে—এই তথ্য জনগণকে জানানো। এর বাইরে তাদের প্রচারণা চালানোর সুযোগ নেই।

নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে রিজওয়ানা হাসান বলেন, নির্বাচন মানেই একটি উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ থাকবে। এক দল আরেক দলকে হারানোর চেষ্টা করবে, বক্তব্যে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ হবে—এটাই স্বাভাবিক। তবে কোথাও যদি বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে গড়ায়, তখন সরকারের দায়িত্ব হবে হস্তক্ষেপ করা। তার আগ পর্যন্ত কে কার জনসভায় কী বললো, তা সরকারের দায়িত্ব নয়।

ভারত থেকে নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য আসার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্লেষণ আর মতামতের মধ্যে পার্থক্য আছে। কোনো দেশ আগেভাগে কে জিতবে বা জিতলে কী হবে—এ ধরনের মন্তব্য করলে সেটিকে বস্তুনিষ্ঠ বলে মনে করার সুযোগ থাকে না।

ভোটের পরিবেশ নষ্ট হলে আওয়ামী লীগকে দায়ী করা হবে—সরকারের এমন বক্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, ভোটের শিডিউল ঘোষণার দিনই বিভিন্ন জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যার ভুক্তভোগী উপদেষ্টারাও হয়েছেন। ফলে যদি পতিত স্বৈরাচারের কোনো শক্তি নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করে, সরকার তা কঠোরভাবে প্রতিহত করবে এবং প্রয়োজনে প্রস্তুতি আরও জোরদার করা হবে।

মানুষের মধ্যে ভোট দিতে ভয় কাজ করছে—এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, উপদেষ্টারা বিভিন্ন জেলায় ঘুরে কোথাও এমন অভিযোগ পাননি। বরং সর্বত্র নির্বাচনের একটি আমেজ লক্ষ্য করা গেছে।

প্রচার-প্রচারণা শুরু হলে যেমন উত্তেজনা বাড়ে, তেমনি আগ্রহ ও আনন্দও বাড়ে। কেউ যদি নির্দিষ্টভাবে ভোট দিতে ভয় পাচ্ছেন বলে জানায়, সরকার তার ভয় দূর করার দায়িত্ব নেবে।

তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিত্তিহীন বক্তব্য ও অপপ্রচারের মাধ্যমে একটি ভয়ের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। নির্বাচন বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে পতিত স্বৈরাচারের কোনো শক্তি সক্রিয় হলে সরকারের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।