Dhaka ১০:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষা কর্মকর্তাকে থাপ্পড় মারলেন মেয়র

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:১৭:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২১
  • 177

জামালপুর সংবাদদাতা

মহান বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের ঘোষণা মঞ্চ থেকে পৌর মেয়রের নাম দেরিতে ঘোষণা করায় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মেহেরুল্লাহকে থাপ্পড় দেয়ার অভিযোগ উঠেছে পৌর মেয়র শাহনেওয়াজ শাহানশাহের বিরুদ্ধে। আজ বৃহস্পতিবার দেওয়ানগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহান বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় ঘোষণা মঞ্চ থেকে পৌরসভার মেয়র শাহনেওয়াজ শাহানশার নাম দেরিতে ঘোষণা করায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে মঞ্চে থাকা অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মেহেরুল্লাহকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং থাপ্পড় মারেন।

এ বিষয়ে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মেহেরুল্লাহ বলেন, পুষ্পস্তবক অর্পণ করার সময় প্রটোকল অনুযায়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানা, দেওয়ানগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের পরে দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভার মেয়র শাহনেওয়াজ শাহাশাহের নাম ঘোষণা করি। ৫ নম্বরে দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভার মেয়রের নাম ঘোষণা করা হয়েছে বলে মেয়র জনসম্মুখে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং থাপ্পড় মারেন। এতে আমার সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমি বিষয়টি ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি এবং মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

অভিযোগের ব্যাপারে পৌর মেয়র শাহনেওয়াজ শাহানশাহ বলেন, আমি এ ধরনোর কোনো কিছু করিনি এবং বলিওনি। আমি শুধু পৌরসভার নাম এত পরে কেন, তা জানতে চেয়েছি।

মহান বিজয় দিবসে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার শারীরিক লাঞ্চনার খবরটি নিশ্চিত করে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মহব্বত কবির বলেন, এ বিষয়ে মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুন্নাহার শেফা বলেন, পৌরসভার মেয়র কর্তৃক উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। মহান বিজয় দিবস ও স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে জনসম্মুখে সরকারি দায়িত্ব পালনরত একজন সরকারি কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার ঘটনাটি সত্যিই দুঃখজনক। এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

One thought on “শিক্ষা কর্মকর্তাকে থাপ্পড় মারলেন মেয়র

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

MD Alam

জনপ্রিয়

শিক্ষা কর্মকর্তাকে থাপ্পড় মারলেন মেয়র

Update Time : ১১:১৭:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২১

জামালপুর সংবাদদাতা

মহান বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের ঘোষণা মঞ্চ থেকে পৌর মেয়রের নাম দেরিতে ঘোষণা করায় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মেহেরুল্লাহকে থাপ্পড় দেয়ার অভিযোগ উঠেছে পৌর মেয়র শাহনেওয়াজ শাহানশাহের বিরুদ্ধে। আজ বৃহস্পতিবার দেওয়ানগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহান বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় ঘোষণা মঞ্চ থেকে পৌরসভার মেয়র শাহনেওয়াজ শাহানশার নাম দেরিতে ঘোষণা করায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে মঞ্চে থাকা অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মেহেরুল্লাহকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং থাপ্পড় মারেন।

এ বিষয়ে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মেহেরুল্লাহ বলেন, পুষ্পস্তবক অর্পণ করার সময় প্রটোকল অনুযায়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানা, দেওয়ানগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের পরে দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভার মেয়র শাহনেওয়াজ শাহাশাহের নাম ঘোষণা করি। ৫ নম্বরে দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভার মেয়রের নাম ঘোষণা করা হয়েছে বলে মেয়র জনসম্মুখে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং থাপ্পড় মারেন। এতে আমার সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমি বিষয়টি ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি এবং মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

অভিযোগের ব্যাপারে পৌর মেয়র শাহনেওয়াজ শাহানশাহ বলেন, আমি এ ধরনোর কোনো কিছু করিনি এবং বলিওনি। আমি শুধু পৌরসভার নাম এত পরে কেন, তা জানতে চেয়েছি।

মহান বিজয় দিবসে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার শারীরিক লাঞ্চনার খবরটি নিশ্চিত করে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মহব্বত কবির বলেন, এ বিষয়ে মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুন্নাহার শেফা বলেন, পৌরসভার মেয়র কর্তৃক উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। মহান বিজয় দিবস ও স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে জনসম্মুখে সরকারি দায়িত্ব পালনরত একজন সরকারি কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার ঘটনাটি সত্যিই দুঃখজনক। এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।