সাফের প্রথম ম্যাচেই হামজা-সামিতদের খেলা নিয়ে শঙ্কা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:৫৭:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
  • 33

ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ, অথচ মাঠে নামার আগেই চাপে পড়ে গেল বাংলাদেশ। পূর্ণশক্তির দল নিয়ে শুরু করার সুযোগই হয়তো পাচ্ছে না টাইগাররা। সাফের প্রথম ম্যাচেই হামজা চৌধুরী-সামিত সোমদের খেলা নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।

মূলত ফিফার আন্তর্জাতিক বিরতির সময়সূচির সাথে সাফের ম্যাচের সূচি সাংঘর্ষিক হওয়ায় ৫ নভেম্বর ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচে হামজা চৌধুরী, সামিত সোমসহ বিদেশী লিগে খেলা ফুটবলারদের পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল জাতীয় দল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা শেষে বিষয়টি জানান। ফিফার আন্তর্জাতিক বিরতি শুরু হবে ৯ নভেম্বর। তার আগে বিদেশী ক্লাবগুলো খেলোয়াড় ছাড়তে বাধ্য নয়।

ফলে ৫ নভেম্বরের ম্যাচে প্রবাসী তারকাদের পাওয়া কঠিন। আন্তর্জাতিক বিরতি শুরু হলে অবশ্য তাদের জাতীয় দলে যোগ দেয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এমতাবস্থায় সাফের প্রথম ম্যাচে ঘরোয়া ফুটবলারদের ওপরই বেশি নির্ভর করতে হতে পারে কোচিং স্টাফকে।

এরপর ৯ নভেম্বর থেকে হামজা-সামিতদের মতো বিদেশী লিগে খেলা ফুটবলাররা যোগ দিতে পারলে পরের ম্যাচে শক্তিশালী দল নিয়ে মাঠে নামার সুযোগ থাকবে বাংলাদেশের।

সূচি অনুযায়ী, ৫ নভেম্বর ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে সাফ অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ। এরপর ১১ নভেম্বর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলবে স্বাগতিকেরা। দুই ম্যাচই ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে রাত ৮টায়। গ্রুপে বাংলাদেশের অন্য দল ভুটান ও শ্রীলঙ্কা।

এর আগে, ২৫ অক্টোবর জাতীয় দলের প্রস্তুতি ক্যাম্প শুরু করার পরিকল্পনা করেছে বাফুফে। ক্যাম্প শুরুর আগে ৩১ অক্টোবর অথবা ১ নভেম্বর বিদেশী কোনো দল বা ক্লাবের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনের চেষ্টাও চলছে।

সাফে সর্বোচ্চ ২৮ জন খেলোয়াড় নিবন্ধন করা যাবে। ফলে প্রথম ম্যাচের জন্য এক ধরনের পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক বিরতি শুরুর পর পরের ম্যাচগুলোর জন্য আরেক ধরনের পরিকল্পনা করতে হবে বাংলাদেশকে। বাফুফের জন্য খেলোয়াড় ব্যবস্থাপনা ও দল গঠনে এই সমন্বয়ই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

এবারের সাফে বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের দু’টি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গ্রুপের শীর্ষ দুই দল উঠবে সেমিফাইনালে। ১৪ নভেম্বর দুই সেমিফাইনাল ও ১৭ নভেম্বর ফাইনাল হওয়ার কথা রয়েছে। তবে নেপালের ফিফা-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার পরিস্থিতি বদলালে সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।

এদিকে আসিয়ান কাপের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সাফে ভিএআর প্রযুক্তি চালুর পরিকল্পনা করছে বাফুফে। পাশাপাশি ভবিষ্যতের জাতীয় দল গড়ে তুলতে অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে নিয়মিত প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে।

সব মিলিয়ে ঘরের মাঠে সাফের শুরুতেই বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ—বিদেশী তারকাদের ছাড়া ভুটানের বিপক্ষে শক্ত দল দাঁড় করানো। এরপর আন্তর্জাতিক বিরতি শুরু হলে হামজা-সামিতদের ফেরানো গেলে বদলে যেতে পারে দলের চেহারাও।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Din Mohammad

জনপ্রিয়

ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সাফের প্রথম ম্যাচেই হামজা-সামিতদের খেলা নিয়ে শঙ্কা

Update Time : ১১:৫৭:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ, অথচ মাঠে নামার আগেই চাপে পড়ে গেল বাংলাদেশ। পূর্ণশক্তির দল নিয়ে শুরু করার সুযোগই হয়তো পাচ্ছে না টাইগাররা। সাফের প্রথম ম্যাচেই হামজা চৌধুরী-সামিত সোমদের খেলা নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।

মূলত ফিফার আন্তর্জাতিক বিরতির সময়সূচির সাথে সাফের ম্যাচের সূচি সাংঘর্ষিক হওয়ায় ৫ নভেম্বর ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচে হামজা চৌধুরী, সামিত সোমসহ বিদেশী লিগে খেলা ফুটবলারদের পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল জাতীয় দল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা শেষে বিষয়টি জানান। ফিফার আন্তর্জাতিক বিরতি শুরু হবে ৯ নভেম্বর। তার আগে বিদেশী ক্লাবগুলো খেলোয়াড় ছাড়তে বাধ্য নয়।

ফলে ৫ নভেম্বরের ম্যাচে প্রবাসী তারকাদের পাওয়া কঠিন। আন্তর্জাতিক বিরতি শুরু হলে অবশ্য তাদের জাতীয় দলে যোগ দেয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এমতাবস্থায় সাফের প্রথম ম্যাচে ঘরোয়া ফুটবলারদের ওপরই বেশি নির্ভর করতে হতে পারে কোচিং স্টাফকে।

এরপর ৯ নভেম্বর থেকে হামজা-সামিতদের মতো বিদেশী লিগে খেলা ফুটবলাররা যোগ দিতে পারলে পরের ম্যাচে শক্তিশালী দল নিয়ে মাঠে নামার সুযোগ থাকবে বাংলাদেশের।

সূচি অনুযায়ী, ৫ নভেম্বর ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে সাফ অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ। এরপর ১১ নভেম্বর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলবে স্বাগতিকেরা। দুই ম্যাচই ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে রাত ৮টায়। গ্রুপে বাংলাদেশের অন্য দল ভুটান ও শ্রীলঙ্কা।

এর আগে, ২৫ অক্টোবর জাতীয় দলের প্রস্তুতি ক্যাম্প শুরু করার পরিকল্পনা করেছে বাফুফে। ক্যাম্প শুরুর আগে ৩১ অক্টোবর অথবা ১ নভেম্বর বিদেশী কোনো দল বা ক্লাবের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনের চেষ্টাও চলছে।

সাফে সর্বোচ্চ ২৮ জন খেলোয়াড় নিবন্ধন করা যাবে। ফলে প্রথম ম্যাচের জন্য এক ধরনের পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক বিরতি শুরুর পর পরের ম্যাচগুলোর জন্য আরেক ধরনের পরিকল্পনা করতে হবে বাংলাদেশকে। বাফুফের জন্য খেলোয়াড় ব্যবস্থাপনা ও দল গঠনে এই সমন্বয়ই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

এবারের সাফে বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের দু’টি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গ্রুপের শীর্ষ দুই দল উঠবে সেমিফাইনালে। ১৪ নভেম্বর দুই সেমিফাইনাল ও ১৭ নভেম্বর ফাইনাল হওয়ার কথা রয়েছে। তবে নেপালের ফিফা-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার পরিস্থিতি বদলালে সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।

এদিকে আসিয়ান কাপের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সাফে ভিএআর প্রযুক্তি চালুর পরিকল্পনা করছে বাফুফে। পাশাপাশি ভবিষ্যতের জাতীয় দল গড়ে তুলতে অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে নিয়মিত প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে।

সব মিলিয়ে ঘরের মাঠে সাফের শুরুতেই বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ—বিদেশী তারকাদের ছাড়া ভুটানের বিপক্ষে শক্ত দল দাঁড় করানো। এরপর আন্তর্জাতিক বিরতি শুরু হলে হামজা-সামিতদের ফেরানো গেলে বদলে যেতে পারে দলের চেহারাও।