ক্রীড়া প্রতিবেদক
‘তাসকিন, মোস্তাফিজ, শরিফুল আর হাসান মাহমুদ সবাই গড়পড়তা ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বল ছুড়তে পারেন। অ্যালান ডোনাল্ডের পরিচর্যায় প্রত্যেকের বলের কারুকাজ আর বৈচিত্র্যও বেড়েছে। তারা বেশ ভালো ‘শেইপে’ আছেন। বিশ্বের দক্ষ কোনো ব্যাটিং শক্তির মোকাবিলায় সক্ষম। ম্যাচ জেতানোর অ্যাবিলিটিও হয়েছে।’
খোদ হেড কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে, অধিনায়ক সাকিব আল হাসান আর টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন বিশ্বকাপের আগে পেসারদের নিয়ে এমন প্রশংসাসূচক মন্তব্য করেছিলেন। সে সব শুনে মনে হয়েছিল, সত্যিই বাংলাদেশের পেস ডিপার্টমেন্ট আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে উন্নত।
যদিও ভারতের বেশির ভাগ পিচই ব্যাটিং সহায়ক, তারপরও ভক্ত-সমর্থকরা আশায় ছিলেন, নিজ দলের পেসারদের কাছ থেকে কিছু বারুদে স্পেল দেখার। তাদের ধারণা ছিল, নতুন বলে তাসকিন, শরিফুল, মোস্তাফিজরা ব্রেকথ্রু এনে দিবেন নিয়মিত। সুযোগ পেলে হাসান মাহমুদও বিষাক্ত সুইংয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের ঘায়েল করবেন। ‘স্লগ’ বা ‘ডেথ’ ওভারে খুব ভাল জায়গায় বল ফেলে আর ইয়র্কার ছুঁড়ে বিপক্ষের ব্যাটারদের হাত খুলে বড় শট নেয়া থেকে বিরত রাখতে পারবেন।
কিন্তু সে আশায় গুড়ে বালি। বাস্তবে তার ছিঁটেফোটাও দেখা যায়নি। বাড়তি কিছু করা বহুদূরে, বাংলাদেশের পেসাররা মাঠে নেমে সে অর্থে কিছুই করতে পারেননি। বোঝাই গেছে, ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে তাসকিন, শরিফুল, মোস্তাফিজ ও হাসান মাহমুদরা তাদের করণীয় কাজ কী, সেটিই ঠিক ঠাউরে উঠতে পারেননি। কখন ঠিক কোন লাইন ও লেন্থে বল করতে হবে, তা বুঝতে না পারায় সাফল্য নেই বাংলাদেশের পেসারদের।
কিন্তু তাসকিন, মোস্তাফিজ আর হাসান মাহমুদের অবস্থা বেশ খারাপ। তাসকিন আর মোস্তাফিজ বেধড়ক মার না খেলেও উইকেট পাননি তেমন। আর হাসান মাহমুদ রান দিয়েছেন প্রচুর। তাসকিন ৫ ম্যাচে পেয়েছেন ৪ উইকেট। সেরা বোলিং ফিগার ২/৪৩। ওভার প্রতি রান দিয়েছেন ৫.৮৫।
আর ‘কাটারমাস্টার’ খ্যাত মোস্তাফিজও সমান ৪ উইকেট শিকারি (৭ ম্যাচে)। সেরা বোলিং ২/৩৬। ওভার পিছু রান দিয়েছেন ৫.৭৫ করে। এছাড়া হাসান মাহমুদ দুই ম্যাচে ৩ উইকেট পেলেও (সেরা বোলিং ২/৬৭) অকাতরে রান দিয়েছেন। তার বোলিংয়ে ওভার পিছু ৯.৪২ রান উঠেছে।
মোদ্দা কথা, পেস বোলারদের নিয়ে যে প্রত্যাশাটা ছিল, তা মেটেনি। অথচ পুরো টুর্নামেন্টেই বাংলাদেশ দল পেস বোলারদের ওপর যথেষ্ট নির্ভর করেই একাদশ সাজিয়েছে। বেশির ভাগ ম্যাচেই নতুন বলটি পেসারদের হাতেই তুলে দিয়েছেন অধিনায়ক সাকিব।কিন্তু অধিনায়কের সে আস্থার প্রতিদান দিতে চরম ব্যর্থ পেসাররা। তারা না পেরেছেন শুরুতে নতুন বলে ব্রেকথ্রু উপহার দিতে, না ডেথ ওভারে প্রতিপক্ষের উত্তাল উইলোবাজি থামাতে সক্ষম হয়েছেন। এমনিতেই ব্যাটারদের ব্যাটে রান নেই। তার ওপর পেসারদের অকার্যকারিতা, টিম বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের অবনতির পেছনে যে এটাও বড় এক কারণ।
ব্রেকিং :
প্রত্যাশা মেটাতে ব্যর্থ বাংলাদেশের পেসাররা
-
Reporter Name - Update Time : ০৬:২৭:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ নভেম্বর ২০২৩
- 135
জনপ্রিয়

























