নিউ মার্কেটে ব্যবসায়ী-ছাত্রের সংঘর্ষে প্রাণ গেল কুরিয়ার সার্ভিস কর্মীর

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:১৪:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ এপ্রিল ২০২২
  • 165

ফার্স্ট নিউজ ডেস্কঃ

ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিউ মার্কেটের দোকানকর্মীদের সংঘর্ষে আহত নাহিদ (১৮) নামে এক তরুণ মারা গেছেন। তিনি একটি কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মী ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। মঙ্গলবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নাহিদ।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া জানান, নিউমার্কেট এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢামেকের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে রাত পৌনে দশটার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, সারাদিন আমরা তার পরিচয় নিশ্চিত করতে পারিনি, পরে তার পরিচয় পাওয়া যায়। তিনি এলিফ্যান্ট রোডের একটি কুরিয়ার সার্ভিসে চাকরি করতেন। অফিসে যাওয়ার সময় সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে গুরুতর আহত হন।

সংঘর্ষের ঘটনায় মোরসালিন (২৬) নামে গুরুতর আহত আরেক যুবক লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন বলে জানান পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া।

নিহতের স্ত্রী ডালিয়া আক্তার জানান, নিউমার্কেট এলাকায় সংঘর্ষের সময় আহত অবস্থায় নাহিদ রাস্তায় পড়েছিলেন। নাহিদ বাটা সিগনাল এলাকায় কুরিয়ার সার্ভিসের একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন।

সকালে কামরাঙ্গীরচর দেওয়ান বাড়ি এলাকার বাসা থেকে তিনি কর্মস্থলে আসেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বামী নাহিদের হাসপাতালে ভর্তির সংবাদ পান।এদিকে সংঘর্ষে ঢাকা কলেজের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়। আহত শিক্ষার্থীদের কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। ঢাকা কলেজের চিকিৎসক, ঢাকা কলেজ রোভার স্কাউট গ্রুপ ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা আহত শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।

উল্লেখ্য, সোমবার রাত ১২টার দিকে রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় কথা কাটাকাটির জেরে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী ও দুই ব্যবসায়ী আহত হন। আহত হন বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যও।

এরপর মঙ্গলবার সকালে আবারও সংঘর্ষে জড়ান শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা। মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে তারা ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকেন। ছাত্রদের অনেকে হেলমেট পরে হাতে লাঠি নিয়ে সংঘর্ষে জড়ান। এতে উভয়পক্ষের শতাধিক ব্যক্তি আহত হন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

নিউ মার্কেটে ব্যবসায়ী-ছাত্রের সংঘর্ষে প্রাণ গেল কুরিয়ার সার্ভিস কর্মীর

Update Time : ১১:১৪:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ এপ্রিল ২০২২

ফার্স্ট নিউজ ডেস্কঃ

ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিউ মার্কেটের দোকানকর্মীদের সংঘর্ষে আহত নাহিদ (১৮) নামে এক তরুণ মারা গেছেন। তিনি একটি কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মী ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। মঙ্গলবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নাহিদ।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া জানান, নিউমার্কেট এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢামেকের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে রাত পৌনে দশটার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, সারাদিন আমরা তার পরিচয় নিশ্চিত করতে পারিনি, পরে তার পরিচয় পাওয়া যায়। তিনি এলিফ্যান্ট রোডের একটি কুরিয়ার সার্ভিসে চাকরি করতেন। অফিসে যাওয়ার সময় সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে গুরুতর আহত হন।

সংঘর্ষের ঘটনায় মোরসালিন (২৬) নামে গুরুতর আহত আরেক যুবক লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন বলে জানান পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া।

নিহতের স্ত্রী ডালিয়া আক্তার জানান, নিউমার্কেট এলাকায় সংঘর্ষের সময় আহত অবস্থায় নাহিদ রাস্তায় পড়েছিলেন। নাহিদ বাটা সিগনাল এলাকায় কুরিয়ার সার্ভিসের একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন।

সকালে কামরাঙ্গীরচর দেওয়ান বাড়ি এলাকার বাসা থেকে তিনি কর্মস্থলে আসেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বামী নাহিদের হাসপাতালে ভর্তির সংবাদ পান।এদিকে সংঘর্ষে ঢাকা কলেজের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়। আহত শিক্ষার্থীদের কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। ঢাকা কলেজের চিকিৎসক, ঢাকা কলেজ রোভার স্কাউট গ্রুপ ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা আহত শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।

উল্লেখ্য, সোমবার রাত ১২টার দিকে রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় কথা কাটাকাটির জেরে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী ও দুই ব্যবসায়ী আহত হন। আহত হন বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যও।

এরপর মঙ্গলবার সকালে আবারও সংঘর্ষে জড়ান শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা। মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে তারা ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকেন। ছাত্রদের অনেকে হেলমেট পরে হাতে লাঠি নিয়ে সংঘর্ষে জড়ান। এতে উভয়পক্ষের শতাধিক ব্যক্তি আহত হন।