মৃত্যুর ৭০ দিন পর আন্দোলনে নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫৪:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৪
  • 139

মেডিকেল প্রতিবেদক, ঢাকা

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে ৭০ দিন পড়ে থাকা নিহত ব্যক্তির ডিএনএ টেস্টের পর মরদেহ শনাক্ত করেছে স্বজনরা। জানা গেছে, নিহতের নাম মো. নুরুনবী (৪৭)। আন্দোলনের সময় তিনি যাত্রাবাড়ী থানায় ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্য হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

সোমবার সন্ধ্যায় নিহত নুরুন্নবীর পরিচয় শনাক্ত করেন তাঁর স্ত্রী ফাতেমা তুজ জোহরা। নিহত নুরুনবী নোয়াখালীর সুধারাম থানার পূর্ব অশ্বদিয়া গ্রামের মো. আব্দুর রউফের ছেলে। বর্তমানে যাত্রাবাড়ি থানার বেড়াকে থাকতেন।

নিহত নুরুন্নবীর ছেলে মো. তাজনুর সিফাত বলেন, ‘গত ৫ আগস্ট আমাকে ফোন করে বলে, বাবা বাইরে থেকে আমাদের দরজা বন্ধ করে দিয়েছে এটাই মনে হয় তোমাদের সাথে আমার শেষ কথা। এরপর থেকে বাবার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আমরা বাবাকে আর খুঁজে পাচ্ছিলাম না। পরদিন সাত তারিখে আমরা জানতে পারি ঢাকা মেডিকেলে অজ্ঞাত অনেকগুলো লাশ আছে। আমরা অনেক লাশ দেখেছি কিন্তু আমার বাবাকে চিনতে পারিনি। পরে আমাদের থেকে ডিএনএ টেস্টের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এরপর আজ আমাদের জানানো হয় একটি মরদেহের সাথে আপনার বাবার ডিএনএ ম্যাচ করেছে। এখন ঢাকা মেডিকেল থেকে আমার বাবার মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী সুধারাম থানায় এলাকায় যাচ্ছি।’

সে আরো জানায়, আমার বাবা কি দোষ করেছিল যে আমার বাবাকে এভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। আমার বাবা তো সামান্য একজন ব্যাটালিয়ন আনসার ছিলেন। আমরা দুই বোন এক ভাই আছি। আমার বাবাকে তো প্রায় আড়াই মাস পরে পেলাম কিভাবে আমাদের সংসার চলবে আমরা কিভাবে চলব সেটাই ভেবে পাচ্ছি না।

নিহতের স্ত্রী ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, ‘৫ আগস্ট এরপর আমাদের সাথে আর যোগাযোগ হয়নি। এরপর থেকে আমরা তাঁর লাশ আর খুঁজে পাচ্ছিলাম না। সে বেঁচে আছে না মারা গেছে কোনোটাই খুঁজে পাচ্ছিলাম না। পরে সেপ্টেম্বর মাসে ১৭ তারিখে ডিএনএ স্যাম্পল দেওয়া হয়। আজ আমাদের থানা থেকে খবর দেওয়া হয় আপনাদের সাথে অজ্ঞাত মরদেহ নুরুনবীর ডিএনএ সাথে মিলে গেছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে যাত্রাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই)মোশের্দ আলম বলেন, ‘গত ৫ আগস্টে যাত্রাবাড়ী থানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অনেকেই পুড়ে মারা যায়। সেখান থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেলে রাখা হয়। এরপর অনেক পরিবার খোঁজাখুজি করলেও তাঁর মরদেহ শনাক্ত করতে পারেনি। পরে আমরা ডিএনএ স্যাম্পল সংগ্রহ করে ফরেনসিক ল‍্যাবে পাঠাই। সেখান থেকে ডিএনএ স্যাম্পলের রিপোর্ট এলে নুরুনবীর পরিবারের সাথে মিলে যায়। আমরা তাঁর পরিবারকে খবর দিয়ে মরদেহ তাঁদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছি। নূরনবী যাত্রাবাড়ী থানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুড়িয়ে মারা যায় বলে জানান তিনি।’

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Din Mohammad

জনপ্রিয়

ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

মৃত্যুর ৭০ দিন পর আন্দোলনে নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত

Update Time : ১১:৫৪:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৪

মেডিকেল প্রতিবেদক, ঢাকা

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে ৭০ দিন পড়ে থাকা নিহত ব্যক্তির ডিএনএ টেস্টের পর মরদেহ শনাক্ত করেছে স্বজনরা। জানা গেছে, নিহতের নাম মো. নুরুনবী (৪৭)। আন্দোলনের সময় তিনি যাত্রাবাড়ী থানায় ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্য হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

সোমবার সন্ধ্যায় নিহত নুরুন্নবীর পরিচয় শনাক্ত করেন তাঁর স্ত্রী ফাতেমা তুজ জোহরা। নিহত নুরুনবী নোয়াখালীর সুধারাম থানার পূর্ব অশ্বদিয়া গ্রামের মো. আব্দুর রউফের ছেলে। বর্তমানে যাত্রাবাড়ি থানার বেড়াকে থাকতেন।

নিহত নুরুন্নবীর ছেলে মো. তাজনুর সিফাত বলেন, ‘গত ৫ আগস্ট আমাকে ফোন করে বলে, বাবা বাইরে থেকে আমাদের দরজা বন্ধ করে দিয়েছে এটাই মনে হয় তোমাদের সাথে আমার শেষ কথা। এরপর থেকে বাবার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আমরা বাবাকে আর খুঁজে পাচ্ছিলাম না। পরদিন সাত তারিখে আমরা জানতে পারি ঢাকা মেডিকেলে অজ্ঞাত অনেকগুলো লাশ আছে। আমরা অনেক লাশ দেখেছি কিন্তু আমার বাবাকে চিনতে পারিনি। পরে আমাদের থেকে ডিএনএ টেস্টের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এরপর আজ আমাদের জানানো হয় একটি মরদেহের সাথে আপনার বাবার ডিএনএ ম্যাচ করেছে। এখন ঢাকা মেডিকেল থেকে আমার বাবার মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী সুধারাম থানায় এলাকায় যাচ্ছি।’

সে আরো জানায়, আমার বাবা কি দোষ করেছিল যে আমার বাবাকে এভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। আমার বাবা তো সামান্য একজন ব্যাটালিয়ন আনসার ছিলেন। আমরা দুই বোন এক ভাই আছি। আমার বাবাকে তো প্রায় আড়াই মাস পরে পেলাম কিভাবে আমাদের সংসার চলবে আমরা কিভাবে চলব সেটাই ভেবে পাচ্ছি না।

নিহতের স্ত্রী ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, ‘৫ আগস্ট এরপর আমাদের সাথে আর যোগাযোগ হয়নি। এরপর থেকে আমরা তাঁর লাশ আর খুঁজে পাচ্ছিলাম না। সে বেঁচে আছে না মারা গেছে কোনোটাই খুঁজে পাচ্ছিলাম না। পরে সেপ্টেম্বর মাসে ১৭ তারিখে ডিএনএ স্যাম্পল দেওয়া হয়। আজ আমাদের থানা থেকে খবর দেওয়া হয় আপনাদের সাথে অজ্ঞাত মরদেহ নুরুনবীর ডিএনএ সাথে মিলে গেছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে যাত্রাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই)মোশের্দ আলম বলেন, ‘গত ৫ আগস্টে যাত্রাবাড়ী থানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অনেকেই পুড়ে মারা যায়। সেখান থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেলে রাখা হয়। এরপর অনেক পরিবার খোঁজাখুজি করলেও তাঁর মরদেহ শনাক্ত করতে পারেনি। পরে আমরা ডিএনএ স্যাম্পল সংগ্রহ করে ফরেনসিক ল‍্যাবে পাঠাই। সেখান থেকে ডিএনএ স্যাম্পলের রিপোর্ট এলে নুরুনবীর পরিবারের সাথে মিলে যায়। আমরা তাঁর পরিবারকে খবর দিয়ে মরদেহ তাঁদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছি। নূরনবী যাত্রাবাড়ী থানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুড়িয়ে মারা যায় বলে জানান তিনি।’