আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন চিত্রনায়িকা পরীমণি

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১২:৫৮:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • 1

ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণি।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রাহমানের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তিনি। শুনানি শেষে আদালত ৫০০ টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।

পরীমণির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত (সুরভী) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বুধবার এ মামলায় পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আদালত। এরপর বৃহস্পতিবার তিনি স্বেচ্ছায় আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, বুধবার মামলাটিতে সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। ওই দিন বাদীপক্ষ আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করেন। অন্যদিকে, পরীমণির আইনজীবী সময়ের আবেদন জানিয়ে আদালতকে জানান, অ্যালার্জিজনিত রোগে আক্রান্ত থাকায় তিনি হাজির হতে পারেননি। পরে আদালত বাদীপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে পরীমণির জামিন বাতিল এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

এর আগে, গত বছরের ২৬ জানুয়ারি এ মামলায় পরীমণিসহ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। সেদিনও পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (পিবিআই) ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন ২০২৪ সালে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে পরীমণি ও তার পোশাক পরিকল্পক জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে অপর আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

পরে আদালত পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে পরীমণি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমিকে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ২৫ জুন তারা ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন পান।

২০২১ সালের ৬ জুলাই ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব হাসানের আদালতে বোট ক্লাবের সভাপতি ও ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাদী হয়ে পরীমণিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। মামলার অন্য দুই আসামি হলেন পরীমণির সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি এবং জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম।

মামলার এজাহারে নাসির উদ্দিন মাহমুদ অভিযোগ করেন, ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর পরীমণি ও তার সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে প্রবেশ করেন। পরে তারা ক্লাবের ভেতরে বসে মদ্যপান করেন। রাত ১টা ১৫ মিনিটের দিকে নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তার সহযোগী শাহ শহিদুল আলম ক্লাব ত্যাগ করার সময় পরীমণি তাকে ডাকেন এবং তাদের সঙ্গে বসার অনুরোধ করেন।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, একপর্যায়ে পরীমণি একটি ব্লু লেবেল মদের বোতল বিনা মূল্যে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। এতে রাজি না হওয়ায় নাসির উদ্দিনকে গালিগালাজ করেন তিনি। পরে দুপক্ষের মধ্যে বাদানুবাদের একপর্যায়ে পরীমণি একটি গ্লাস ও হাতে থাকা মুঠোফোন নাসির উদ্দিনের দিকে ছুড়ে মারেন। এতে তার মাথা ও বুকে আঘাত লাগে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

নাসির উদ্দিনের অভিযোগ, পরীমণি ও তার সহযোগীরা তাকে মারধর, হত্যার হুমকি এবং বোট ক্লাবে ভাঙচুর করেন। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে পরীমণি সাভার থানায় নাসির উদ্দিনসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেছিলেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Din Mohammad

জনপ্রিয়

আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন চিত্রনায়িকা পরীমণি

আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন চিত্রনায়িকা পরীমণি

Update Time : ১২:৫৮:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণি।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রাহমানের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তিনি। শুনানি শেষে আদালত ৫০০ টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।

পরীমণির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত (সুরভী) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বুধবার এ মামলায় পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আদালত। এরপর বৃহস্পতিবার তিনি স্বেচ্ছায় আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, বুধবার মামলাটিতে সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। ওই দিন বাদীপক্ষ আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করেন। অন্যদিকে, পরীমণির আইনজীবী সময়ের আবেদন জানিয়ে আদালতকে জানান, অ্যালার্জিজনিত রোগে আক্রান্ত থাকায় তিনি হাজির হতে পারেননি। পরে আদালত বাদীপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে পরীমণির জামিন বাতিল এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

এর আগে, গত বছরের ২৬ জানুয়ারি এ মামলায় পরীমণিসহ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। সেদিনও পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (পিবিআই) ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন ২০২৪ সালে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে পরীমণি ও তার পোশাক পরিকল্পক জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে অপর আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

পরে আদালত পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে পরীমণি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমিকে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ২৫ জুন তারা ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন পান।

২০২১ সালের ৬ জুলাই ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব হাসানের আদালতে বোট ক্লাবের সভাপতি ও ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাদী হয়ে পরীমণিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। মামলার অন্য দুই আসামি হলেন পরীমণির সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি এবং জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম।

মামলার এজাহারে নাসির উদ্দিন মাহমুদ অভিযোগ করেন, ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর পরীমণি ও তার সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে প্রবেশ করেন। পরে তারা ক্লাবের ভেতরে বসে মদ্যপান করেন। রাত ১টা ১৫ মিনিটের দিকে নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তার সহযোগী শাহ শহিদুল আলম ক্লাব ত্যাগ করার সময় পরীমণি তাকে ডাকেন এবং তাদের সঙ্গে বসার অনুরোধ করেন।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, একপর্যায়ে পরীমণি একটি ব্লু লেবেল মদের বোতল বিনা মূল্যে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। এতে রাজি না হওয়ায় নাসির উদ্দিনকে গালিগালাজ করেন তিনি। পরে দুপক্ষের মধ্যে বাদানুবাদের একপর্যায়ে পরীমণি একটি গ্লাস ও হাতে থাকা মুঠোফোন নাসির উদ্দিনের দিকে ছুড়ে মারেন। এতে তার মাথা ও বুকে আঘাত লাগে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

নাসির উদ্দিনের অভিযোগ, পরীমণি ও তার সহযোগীরা তাকে মারধর, হত্যার হুমকি এবং বোট ক্লাবে ভাঙচুর করেন। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে পরীমণি সাভার থানায় নাসির উদ্দিনসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেছিলেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।