ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ। ফুরালো ১৯ বছরের অপেক্ষা। প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতলো টাইগাররা।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে মিরপুরে পাকিস্তানের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। যেখানে ৮ রানের জয় পায় স্বাগতিকরা। তাতে ১ ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতলো টাইগাররা।
মাইলস্টোন ট্রাজেডির বিষন্নতা বুকে নিয়েই মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। খুব করে চাওয়া ছিল শোকগ্রস্ত দেশটায় একটুখানি আনন্দের উপলক্ষ এনে দেয়া। সেই কাজটা খুব ভালো করেই করলো টাইগাররা।
টসে হেরে আগে ব্যাট করে তেমন সুবিধা করতে পারেনি বাংলাদেশ। ইনিংসের শেষ বলে গুটিয়ে যাওয়ার আগে জাকের আলির দারুণ ব্যাটিংয়ে আসে ১৩৩ রান৷ যা তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান থামে ১৯.২ ওভারে ১২৫ রানে।
শুরু থেকেই পাকিস্তানকে চেপে ধরে বাংলাদেশ। ইনিংস গুছিয়ে ওঠার আগেই ভেঙে দেয় মেরুদণ্ড। পাওয়ার প্লেতে মাত্র ১৭ রানে তুলে নেয় ৫ উইকেট। জোড়া উইকেট নিয়েছেন শরিফুল ও সাকিব।
প্রথম ওভারে মাত্র ৪ রানে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। ওভারের শেষ বলে রান আউট হয়ে ফেরেন সাইম আইয়ুব (১)।১.৩ ওভারে আঘাত আনেন শরিফুল। মোহাম্মদ হারিসকে উপহার দেন গোল্ডেন ডাক।
আর ৩.২ ওভারে তারই শিকার ফখর জামান (৮)। উইকেটের পেছনে লিটনের দারুণ ক্যাচে পরিণত হন তিনি। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তখনই অনেকটা পেয়ে যায় স্বাগতিকরা।
১৪ রানে ৩ উইকেট হারানোর পাকিস্তান পরের ২ উইকেট হারায় আর মাত্র ১ রান যোগ হতেই। নিজের প্রথম ওভার বল করতে এসে পরপর দুই বলে দুই উইকেট তুলে নেন তানজিম সাকিব।
৪.৩ ওভারে হাসান নাওয়াজ ও পরের বলে মোহাম্মদ নাওয়াজকে লিটনের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান তিনি। দুইজনের কেউ রানের খাতা খুলতে পারেননি। ১৭ রান নিয়ে শেষ হয় পাকিস্তানের পাওয়ার প্লে।
অধিনায়ক আগা সালমান থিতু হওয়ার চেষ্টার কমতি রাখেননি, তবে তার ২৩ বলের লড়াই শেষ হয় মাত্র ৯ রানে। আর খুশদিল শাহ ফেরেন ১৮ বলে ১৩ করে৷ দুজনকেই ফেরান শেখ মেহেদী।
১২ ওভারে মাত্র ৪৭ রানে পাকিস্তানের ৭ উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। তাতে একটা সময় টি-টোয়েন্টিতে তাদের সর্বনিম্ন রানে (৭৪) গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দেয়। যদিও পরের জুটিতে সেই শঙ্কা দূর হয়।
মাত্র ২৬ বলে ৪৭ রানের জুটি গড়েন আব্বাস আফ্রিদি ও ফাহিম আশরাফ মিলে। ১৬.১ ওভারে আব্বাসকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন শরিফুল। ১৩ বলে ১৯ রানে আউট হোন আব্বাস।
তবে থামেননি ফাহিম, ধরে রাখেন আগ্রাসন। যখন ১২ বলে ২৮ রান প্রয়োজন, তখন রিশাদের ১৯ তম ওভারে মাত্র ৫ বলে ১৫ রান তুলে ম্যাচ জমিয়ে তুলেন। মাত্র ৩১ তুলে নেন ফিফটিও। তবে শেষ বলে তার স্ট্যাম্প ভেঙে প্রতিশোধ নেন রিশাদ।
ফাহিম ফিরতেই স্বস্তি ফেরে বাংলাদেশ শিবিরে। শেষ ওভারে যখন পাকিস্তানের ১৩ রান প্রয়োজন, তখন ১ উইকেটে চাই টাইগারদের। তবে প্রথম বলে ৪ হাঁকালেও দ্বিতীয় বলে ক্যাচ তুলে দেন ডানিয়েল (১৭)।
শরিফুল ১৭ রানে ৩, তানজিম সাকিব ২৩ রানে ২ ও শেখ মেহেদী ২৫ রানে নেন ২ উইকেট। ৮ রানের জয় পায় বাংলাদেশ। নিশ্চিত করে সিরিজ। এই নিয়ে মাত্র তৃতীয়বার টি-টোয়েন্টিতে একাধিক সিরিজ জিতল টাইগাররা।
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। তবে পারভেজ ইমনের সাথে এদিন ছিলেন না তানজিদ তামিম, আসেন নাঈম শেখ। তবে প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি, দ্বিতীয় ওভারেই তার উইকেট হারায় দল।
ফাহিম আশরাফের ওভারের তৃতীয় বল স্কুপ করতে গিয়ে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দিয়ে বসেন নাঈম। ৭ বলে ৩ রানেই শেষ হয় তার দৌড়। তিনে নামেন অধিনায়ক লিটন দাস, তার ব্যাটেই আসে প্রথম বাউন্ডারি।
যখন মনে হচ্ছিলো হয়তো থিতু হয়ে গেছেন, তখনই বড় শট খেলতে গিয়ে উইকেট দিয়ে বসেন লিটন। ৯ বলে ৮ রানে ফেরেন সালমান মির্জার শিকার হয়ে। একই ওভারে ফেরেন তাওহীদ হৃদয়ও।
৩ বলের মাথায় ১ম রান নিতে গিয়ে রান আউট হয়ে ফেরেন হৃদয়। ২৫ রানে ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। চতুর্থ উইকেট হারাতেও সময় লাগেনি, পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে ফেরেন ইমন।
ওভারের পঞ্চম বলে দানিয়েলের বলে ফাহিম আশরাফকে ক্যাচ দিয়েছেন ইমন। ১৪ বলে ১৩ রান করে ফিরেছেন তিনি। বাংলাদেশ ৬ ওভারে মাত্র ২৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে।
এরপর জাকের আলি ও শেখ মেহেদীকে মিলে লড়াই শুরু করেন। দুজনের ৪৮ রানের জুটি আশা দেখায় দলকে, যোগ হয় ৫৩ রান। জাকের দেখেশুনে খেললেও আগ্রাসন ধরে রাখেন মেহেদী।
মেহেদীর বিদায়েই ভাঙে জুটি। দুইটা করে চার-ছক্কায় ২৫ বলে ৩৩ করে ফেরেন তিনি। দলীয় সংগ্রহ তখন ১৪ ওভারে ৫ উইকেটে ৮১। তবে সাতে নেমে সুবিধা করতে পারেননি শামীম (১)।
এরপর জাকেরকে রেখে ফেরেন তানজিম সাকিব (৭) ও রিশাদ হোসেন (৮)। তবে শেষ ওভারে এসে ৪৬ বলে ফিফটি তুলে নেন জাকের। ইনিংসের শেষ বলে আউট হন তিনি ৪৮ বলে ৫৫ করে।
ডেস্ক নিউজ 
























