ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, হকারদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে তাদের স্থায়ী রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও কিউআর কোড সম্বলিত আইডি কার্ড দেওয়া হবে। তবে এই সেবা কার্যক্রম বজায় রাখতে তাদের সামান্য ফি দিতে হতে পারে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর গুলশানের হোটেল রেনেসাঁসে ‘ঢাকা কি মৃত নগরী হতে যাচ্ছে? সমাধানে করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম বাংলাদেশ এই সেমিনারের আয়োজন করে।
শফিকুল ইসলাম খান বলেন, সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নেওয়ার পর আমার সবচেয়ে বড় অভিজ্ঞতা হয়েছে যে আমরা সাময়িক কাজগুলো বেশি করি। দীর্ঘমেয়াদী বা লং টাইম চিন্তা করে কাজ করছি না। এভাবে চলতে থাকলে আসলে কাজের কাজ কিছুই হবে না। শুধু সেমিনার আর ডকুমেন্টস করে লাভ নেই, আমাদের কাজের উদ্যোগে বেশি মনোযোগী হতে হবে।
হকারদের বিষয়ে সরকারের মানবিক পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন তারা মানুষ, তাদের জন্য একটা ব্যবস্থা করা যায় কি-না দেখতে। আমরা পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে ছয়টি খোলা জায়গা নির্ধারণ করেছি। সেখানে তাদের রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং কিউআর কোডসহ আইডি কার্ড দেব যাতে কেউ নকল করতে না পারে। তাদের নির্দিষ্ট ডিজাইনের চৌকি থাকবে, যা রাতে বাসায় নিয়ে যেতে হবে। সিটি করপোরেশন ওই জায়গাগুলো পরিষ্কার ও মেইনটেইন করার জন্য তাদের কাছ থেকে একটি সামান্য ফি নেবে।
মশা নিধনের কার্যকারিতা নিয়ে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ফগিং মেশিনে আসলে মশা মরে না, ধোঁয়ায় মশা একটু অজ্ঞান হয়। আমি নিজে ল্যাব টেস্ট দেখেছি, ২৪ ঘণ্টা পর বোঝা যায় মশা মরেছে কি-না। আমরা এখন নতুন ওষুধের কথা ভাবছি। একই ওষুধ বারবার ব্যবহার করলে মশা তা সহ্য করে ফেলে (রেজিস্ট্যান্ট হয়ে যায়), তাই অল্টারনেট করে ওষুধ ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ঢাকার জলাশয় নিয়ে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ঢাকার ২৯টি খালের মধ্যে ইতোমধ্যে ১৯টি পরিষ্কার করা হয়েছে।
তবে জনগণের সচেতনতার অভাব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্যারিস খাল আমি দুই মাসে ৯ বার পরিষ্কার করেছি। কিন্তু পরিষ্কারের তিনদিন পরেই দেখা যায় সেখানে প্লাস্টিকের বোতল আর কম্বল পড়ে আছে। এখন এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলাপ করে খালের আশপাশে যারা থাকে এবং ময়লা ফেলে, তাদের ওপর বড় ধরনের জরিমানার বিধান তৈরি করা খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সোসাইটির সভাপতি ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার ওমর সাদাত।
ডেস্ক নিউজ 
























