মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী সিতি হাসমাহ মারা গেছেন

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০১:২২:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 2

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী ও দেশটির সাবেক ফার্স্ট লেডি ড. সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলী মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১০০ বছর।

সোমবার সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট পরিবারের বরাত দিয়ে এ খবর নিশ্চিত করেছে। কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তবে তাঁর মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছেন, সিতি হাসমাহকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হবে। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দেশবাসী তাঁর মাতৃসুলভ ভূমিকা ও অবদানের কথা সবসময় স্মরণ করবে। একই সঙ্গে তিনি মাহাথির মোহাম্মদ ও সিতি হাসমাহর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

মালয়েশিয়ায় ‘ইবু নেগারা’ বা ‘জাতির মা’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন সিতি হাসমাহ। নারীর ক্ষমতায়ন, শিশুদের অধিকার ও সুরক্ষা এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন তিনি।

দেশটির প্রথমদিককার মালয় নারী চিকিৎসকদের একজন ছিলেন সিতি হাসমাহ। ১৯৫৫ সালে সিঙ্গাপুরের কিং এডওয়ার্ড সপ্তম কলেজ অব মেডিসিন থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা শেষ করেন তিনি। সেখানেই মাহাথিরের সঙ্গে তাঁর পরিচয়। পরের বছর ১৯৫৬ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। তাঁদের সাত সন্তান রয়েছে। সন্তানদের মধ্যে রয়েছেন সমাজকর্মী মারিনা, ব্যবসায়ী মিরজান ও মোখজানি এবং কেদাহর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মুখরিজ।

চিকিৎসক হিসেবে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে কাজ করেছেন সিতি হাসমাহ। মাহাথিরের নিজ রাজ্য কেদাহেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৭৪ সালে মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব নিয়ে দেশটির প্রথম নারী স্টেট মেডিকেল অফিসার হিসেবে নিয়োগ পান।

তবে ১৯৮১ সালে মাহাথির প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর সিতি হাসমাহ দেশজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। স্বামীর রাজনৈতিক জীবনে পাশে থাকলেও তিনি নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান বজায় রেখেছিলেন। গ্রামীণ নারীদের ক্ষমতায়ন, দরিদ্র ও প্রতিবন্ধীদের সহায়তায় তাঁর কাজ ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়।

১৯৯২ সালে মালয়েশিয়ার ব্যাডমিন্টন দল দীর্ঘ ২৫ বছর পর থমাস কাপ জয় করলে সিতি হাসমাহর আবেগঘন মুহূর্ত দেশটির মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। সে সময় তিনি মালয়েশিয়ার ব্যাডমিন্টন অ্যাসোসিয়েশনের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। দলের খেলোয়াড়দের নিজের সন্তানের মতো দেখতেন বলে এক সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেছিলেন।

মাহাথিরের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা বিতর্কের মধ্যেও সিতি হাসমাহর জনকল্যাণমূলক কাজ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাঁকে আলাদা পরিচিতি দেয়। দেশ-বিদেশে মাহাথিরের সরকারি সফরেও প্রায়ই তাঁর সঙ্গী ছিলেন তিনি।

২০১৬ সালে প্রকাশিত স্মৃতিকথায় মাহাথিরকে তিনি কেদাহর ধানখেতের এক সাধারণ পরিবারের ছেলে এবং নিজের পড়াশোনা শেষ করার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেন।

সিতি হাসমাহর মৃত্যুতে মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জনপ্রিয়

প্রাথমিকের বঞ্চিতরা ১ অক্টোবরের মধ্যে নিয়োগপত্র পাবেন : শিক্ষামন্ত্রী

মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী সিতি হাসমাহ মারা গেছেন

Update Time : ০১:২২:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী ও দেশটির সাবেক ফার্স্ট লেডি ড. সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলী মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১০০ বছর।

সোমবার সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট পরিবারের বরাত দিয়ে এ খবর নিশ্চিত করেছে। কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তবে তাঁর মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছেন, সিতি হাসমাহকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হবে। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দেশবাসী তাঁর মাতৃসুলভ ভূমিকা ও অবদানের কথা সবসময় স্মরণ করবে। একই সঙ্গে তিনি মাহাথির মোহাম্মদ ও সিতি হাসমাহর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

মালয়েশিয়ায় ‘ইবু নেগারা’ বা ‘জাতির মা’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন সিতি হাসমাহ। নারীর ক্ষমতায়ন, শিশুদের অধিকার ও সুরক্ষা এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন তিনি।

দেশটির প্রথমদিককার মালয় নারী চিকিৎসকদের একজন ছিলেন সিতি হাসমাহ। ১৯৫৫ সালে সিঙ্গাপুরের কিং এডওয়ার্ড সপ্তম কলেজ অব মেডিসিন থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা শেষ করেন তিনি। সেখানেই মাহাথিরের সঙ্গে তাঁর পরিচয়। পরের বছর ১৯৫৬ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। তাঁদের সাত সন্তান রয়েছে। সন্তানদের মধ্যে রয়েছেন সমাজকর্মী মারিনা, ব্যবসায়ী মিরজান ও মোখজানি এবং কেদাহর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মুখরিজ।

চিকিৎসক হিসেবে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে কাজ করেছেন সিতি হাসমাহ। মাহাথিরের নিজ রাজ্য কেদাহেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৭৪ সালে মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব নিয়ে দেশটির প্রথম নারী স্টেট মেডিকেল অফিসার হিসেবে নিয়োগ পান।

তবে ১৯৮১ সালে মাহাথির প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর সিতি হাসমাহ দেশজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। স্বামীর রাজনৈতিক জীবনে পাশে থাকলেও তিনি নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান বজায় রেখেছিলেন। গ্রামীণ নারীদের ক্ষমতায়ন, দরিদ্র ও প্রতিবন্ধীদের সহায়তায় তাঁর কাজ ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়।

১৯৯২ সালে মালয়েশিয়ার ব্যাডমিন্টন দল দীর্ঘ ২৫ বছর পর থমাস কাপ জয় করলে সিতি হাসমাহর আবেগঘন মুহূর্ত দেশটির মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। সে সময় তিনি মালয়েশিয়ার ব্যাডমিন্টন অ্যাসোসিয়েশনের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। দলের খেলোয়াড়দের নিজের সন্তানের মতো দেখতেন বলে এক সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেছিলেন।

মাহাথিরের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা বিতর্কের মধ্যেও সিতি হাসমাহর জনকল্যাণমূলক কাজ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাঁকে আলাদা পরিচিতি দেয়। দেশ-বিদেশে মাহাথিরের সরকারি সফরেও প্রায়ই তাঁর সঙ্গী ছিলেন তিনি।

২০১৬ সালে প্রকাশিত স্মৃতিকথায় মাহাথিরকে তিনি কেদাহর ধানখেতের এক সাধারণ পরিবারের ছেলে এবং নিজের পড়াশোনা শেষ করার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেন।

সিতি হাসমাহর মৃত্যুতে মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।