ছাত্র আন্দোলনের মুখে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০১:২৩:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 2

ছাত্র নেতৃত্বাধীন দীর্ঘ আন্দোলনের মধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার ভুসিচ। আগামী ২৫ অক্টোবরের আগাম নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি হিসেবে তিনি প্রেসিডেন্টের পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

২০১৪ সাল থেকে প্রেসিডেন্ট অথবা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সার্বিয়ার রাজনীতিতে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে আসা ভুসিচ এবার পার্লামেন্ট নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকার পথ খুঁজছেন। তার পদত্যাগের ফলে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ব্রনাবিচ

ভুসিচের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও পার্লামেন্টের স্পিকার আনা ব্রনাবিচ নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন।

ভুসিচ জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার শেষ দিকের একটি সিদ্ধান্ত ছিল ৪৯ জনকে ক্ষমা করা। তাদের মধ্যে ২৩ জন আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ছিলেন।

রেলস্টেশনের দুর্ঘটনা থেকে আন্দোলন

২০২৪ সালের ১ নভেম্বর সার্বিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় শহর নোভি সাদের একটি রেলস্টেশনের কংক্রিটের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হন। ওই দুর্ঘটনার পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। পরে এটি সার্বিয়ার সাম্প্রতিক দশকগুলোর অন্যতম বড় সরকারবিরোধী আন্দোলনে পরিণত হয়।

বিক্ষোভকারীরা দুর্নীতি, সরকারি কাজে স্বচ্ছতার অভাব এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন। তবে ভুসিচ ও তার সহযোগীরা এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

দুর্ঘটনার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মিলোস ভুচেভিচও পদত্যাগ করেছিলেন। তবে ভুসিচ প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে থেকে যান।

নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ‘স্টুডেন্টস উইন’

আগামী নির্বাচনে ‘স্টুডেন্টস উইন’ নামে অংশ নিচ্ছে আন্দোলনকারী পক্ষ। তাদের প্রার্থী তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছেন।

আন্দোলনকারীদের নির্বাচনি কর্মসূচিতে দুর্নীতির তদন্ত, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং সরকারি অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতার দাবি রয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কয়েকটি জনমত জরিপে ছাত্র-সমর্থিত এই আন্দোলনের উল্লেখযোগ্য সমর্থনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক সংকটের আশঙ্কা

সার্বিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য ও মানবাধিকারকর্মী আইদা কোরোভিচের মতে, দেশটির সংকট শুধু ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার আশঙ্কা, ২৫ অক্টোবরের নির্বাচনের পরও রাজনৈতিক সংকট অব্যাহত থাকতে পারে।

অন্যদিকে, বেলগ্রেডভিত্তিক সম্পাদক ও কলাম লেখক দেজান ইলিচের মতে, আগাম নির্বাচন আয়োজনকে শুধু ভুসিচের সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জনগণের আন্দোলন ও নির্বাচনের দাবিও এ সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে।

ভুসিচ বলেছেন, বিরোধীরা নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি ফল মেনে নেবেন এবং সেদিনই তাদের অভিনন্দন জানাবেন।

সূত্র: আল-জাজিরা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জনপ্রিয়

প্রাথমিকের বঞ্চিতরা ১ অক্টোবরের মধ্যে নিয়োগপত্র পাবেন : শিক্ষামন্ত্রী

ছাত্র আন্দোলনের মুখে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ

Update Time : ০১:২৩:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ছাত্র নেতৃত্বাধীন দীর্ঘ আন্দোলনের মধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার ভুসিচ। আগামী ২৫ অক্টোবরের আগাম নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি হিসেবে তিনি প্রেসিডেন্টের পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

২০১৪ সাল থেকে প্রেসিডেন্ট অথবা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সার্বিয়ার রাজনীতিতে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে আসা ভুসিচ এবার পার্লামেন্ট নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকার পথ খুঁজছেন। তার পদত্যাগের ফলে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ব্রনাবিচ

ভুসিচের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও পার্লামেন্টের স্পিকার আনা ব্রনাবিচ নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন।

ভুসিচ জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার শেষ দিকের একটি সিদ্ধান্ত ছিল ৪৯ জনকে ক্ষমা করা। তাদের মধ্যে ২৩ জন আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ছিলেন।

রেলস্টেশনের দুর্ঘটনা থেকে আন্দোলন

২০২৪ সালের ১ নভেম্বর সার্বিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় শহর নোভি সাদের একটি রেলস্টেশনের কংক্রিটের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হন। ওই দুর্ঘটনার পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। পরে এটি সার্বিয়ার সাম্প্রতিক দশকগুলোর অন্যতম বড় সরকারবিরোধী আন্দোলনে পরিণত হয়।

বিক্ষোভকারীরা দুর্নীতি, সরকারি কাজে স্বচ্ছতার অভাব এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন। তবে ভুসিচ ও তার সহযোগীরা এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

দুর্ঘটনার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মিলোস ভুচেভিচও পদত্যাগ করেছিলেন। তবে ভুসিচ প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে থেকে যান।

নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ‘স্টুডেন্টস উইন’

আগামী নির্বাচনে ‘স্টুডেন্টস উইন’ নামে অংশ নিচ্ছে আন্দোলনকারী পক্ষ। তাদের প্রার্থী তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছেন।

আন্দোলনকারীদের নির্বাচনি কর্মসূচিতে দুর্নীতির তদন্ত, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং সরকারি অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতার দাবি রয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কয়েকটি জনমত জরিপে ছাত্র-সমর্থিত এই আন্দোলনের উল্লেখযোগ্য সমর্থনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক সংকটের আশঙ্কা

সার্বিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য ও মানবাধিকারকর্মী আইদা কোরোভিচের মতে, দেশটির সংকট শুধু ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার আশঙ্কা, ২৫ অক্টোবরের নির্বাচনের পরও রাজনৈতিক সংকট অব্যাহত থাকতে পারে।

অন্যদিকে, বেলগ্রেডভিত্তিক সম্পাদক ও কলাম লেখক দেজান ইলিচের মতে, আগাম নির্বাচন আয়োজনকে শুধু ভুসিচের সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জনগণের আন্দোলন ও নির্বাচনের দাবিও এ সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে।

ভুসিচ বলেছেন, বিরোধীরা নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি ফল মেনে নেবেন এবং সেদিনই তাদের অভিনন্দন জানাবেন।

সূত্র: আল-জাজিরা