ঈদের আগে বাজারে মুরগির দাম চড়া

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৩:১৭:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
  • 113

প্রতিবছর ঈদুল ফিতর ঘিরে বাজারে মুরগির চাহিদা বাড়ে। চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে দাম। এ বছরও ঈদ সামনে রেখে চড়া মুরগির বাজার। গত এক সপ্তাহ ধরে বাজারে মুরগির দাম বাড়ছে। এ সময়ের ব্যবধানে প্রতি কেজি মুরগির দাম প্রায় ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সঙ্গে বেশ কয়েক মাস নিম্নমুখী থাকা ডিমের দামও কিছুটা বেড়েছে।

তবে ঈদের আগে অন্যান্য অধিকাংশ পণ্য স্থিতিশীল রয়েছে। আর চাহিদা কমায় রমজানের পণ্যসহ বেশকিছু সবজির দাম কমেছে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে ব্রয়লার, সোনালি, লেয়ার ও দেশি সব ধরনের মুরগির দামই বেড়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, ঈদে মুরগির চাহিদা বাড়ে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম বাড়ছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ২২০-২৩০ টাকা, সোনালি মুরগি ও লেয়ার মুরগি ৩৩০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, গত এক সপ্তাহে এসব মুরগি কেজিতে প্রায় ৫০ টাকা বেড়েছে। গত সপ্তাহেও ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৭০-১৮০ টাকা, সোনালি ২৮০-৩০০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ২৭০-২৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতো।

অন্যদিকে, বাজারে এখন প্রতি কেজি দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৬৫০-৭০০ টাকায়, যা সপ্তাহখানেক আগেও ছিল ৬০০ থেকে ৬২০ টাকা।

রাজধানীর রামপুরা বাজারের মুরগি বিক্রেতা ফরিদ হোসেন বলেন, রমজানের ঈদে অধিকাংশ মানুষ মুরগি খায়। বড়লোকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও বেশি কিনে। রেস্টুরেন্টেও চাহিদা বাড়ে। তবে চাহিদা বাড়লেও সেভাবে সরবরাহ নেই। প্রত্যন্ত এলাকা থেকে পর্যাপ্ত মুরগি আসছে না এবং পাইকারি বাজারেও প্রতিদিন ৫-১০ টাকা করে দাম বাড়ছে।

এদিকে, বাজারে অনেকদিন ধরে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম নিম্নমুখী ছিল। এখন সেই দাম কিছুটা বেড়েছে। এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০–১২০ টাকায়, যা প্রতি ডজনে প্রায় ১০ টাকা বেশি।

রমজান শেষের দিকে হওয়ায় বাজারে ছোলা ও ডালের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ১০ টাকা কমেছে। চিনির দাম ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

কিছুদিন ভোজ্যতেলের সংকট থাকলেও এখন সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। যদিও সংকট পুরোপুরি কাটেনি। প্রতি লিটার বোতলজাত তেল বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১৯৫ টাকা।

এছাড়া বাজারে বেশকিছু সবজির দাম কমেছে। বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহের তুলনায় ২০ টাকা কম। করলা ছাড়া অধিকাংশ সবজি ৬০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে।

বাজারে বর্তমানে আলু ১৫ থেকে ২০ টাকা এবং পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

শান্তিনগর বাজারের সবজি বিক্রেতা মহিবুল বলেন, এখন অনেক মানুষ ঢাকা ছাড়ছেন। ফলে বাজারে ক্রেতা কমেছে। সরবরাহের তুলনায় চাহিদা কম থাকায় সবজির দাম কমছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জনপ্রিয়

ঈদের আগে বাজারে মুরগির দাম চড়া

Update Time : ০৩:১৭:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

প্রতিবছর ঈদুল ফিতর ঘিরে বাজারে মুরগির চাহিদা বাড়ে। চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে দাম। এ বছরও ঈদ সামনে রেখে চড়া মুরগির বাজার। গত এক সপ্তাহ ধরে বাজারে মুরগির দাম বাড়ছে। এ সময়ের ব্যবধানে প্রতি কেজি মুরগির দাম প্রায় ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সঙ্গে বেশ কয়েক মাস নিম্নমুখী থাকা ডিমের দামও কিছুটা বেড়েছে।

তবে ঈদের আগে অন্যান্য অধিকাংশ পণ্য স্থিতিশীল রয়েছে। আর চাহিদা কমায় রমজানের পণ্যসহ বেশকিছু সবজির দাম কমেছে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে ব্রয়লার, সোনালি, লেয়ার ও দেশি সব ধরনের মুরগির দামই বেড়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, ঈদে মুরগির চাহিদা বাড়ে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম বাড়ছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ২২০-২৩০ টাকা, সোনালি মুরগি ও লেয়ার মুরগি ৩৩০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, গত এক সপ্তাহে এসব মুরগি কেজিতে প্রায় ৫০ টাকা বেড়েছে। গত সপ্তাহেও ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৭০-১৮০ টাকা, সোনালি ২৮০-৩০০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ২৭০-২৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতো।

অন্যদিকে, বাজারে এখন প্রতি কেজি দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৬৫০-৭০০ টাকায়, যা সপ্তাহখানেক আগেও ছিল ৬০০ থেকে ৬২০ টাকা।

রাজধানীর রামপুরা বাজারের মুরগি বিক্রেতা ফরিদ হোসেন বলেন, রমজানের ঈদে অধিকাংশ মানুষ মুরগি খায়। বড়লোকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও বেশি কিনে। রেস্টুরেন্টেও চাহিদা বাড়ে। তবে চাহিদা বাড়লেও সেভাবে সরবরাহ নেই। প্রত্যন্ত এলাকা থেকে পর্যাপ্ত মুরগি আসছে না এবং পাইকারি বাজারেও প্রতিদিন ৫-১০ টাকা করে দাম বাড়ছে।

এদিকে, বাজারে অনেকদিন ধরে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম নিম্নমুখী ছিল। এখন সেই দাম কিছুটা বেড়েছে। এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০–১২০ টাকায়, যা প্রতি ডজনে প্রায় ১০ টাকা বেশি।

রমজান শেষের দিকে হওয়ায় বাজারে ছোলা ও ডালের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ১০ টাকা কমেছে। চিনির দাম ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

কিছুদিন ভোজ্যতেলের সংকট থাকলেও এখন সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। যদিও সংকট পুরোপুরি কাটেনি। প্রতি লিটার বোতলজাত তেল বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১৯৫ টাকা।

এছাড়া বাজারে বেশকিছু সবজির দাম কমেছে। বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহের তুলনায় ২০ টাকা কম। করলা ছাড়া অধিকাংশ সবজি ৬০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে।

বাজারে বর্তমানে আলু ১৫ থেকে ২০ টাকা এবং পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

শান্তিনগর বাজারের সবজি বিক্রেতা মহিবুল বলেন, এখন অনেক মানুষ ঢাকা ছাড়ছেন। ফলে বাজারে ক্রেতা কমেছে। সরবরাহের তুলনায় চাহিদা কম থাকায় সবজির দাম কমছে।