রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

একবারের জ্বালানি দিয়েই দেড় বছর মিলবে বিদ্যুৎ

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০২:৪৮:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • 9

পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম। পারমাণবিক চুল্লিতে ইউরেনিয়াম সরবরাহের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশগুলোর তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে।

রূপপুরের প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ১,২০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক চুল্লিতে বিক্রিয়ার জন্য প্রয়োজন হবে মোট ১৬৩টি ইউরেনিয়াম বান্ডেল, যার প্রতিটিতে রয়েছে ১৫টি করে ইউরেনিয়াম পেলেটসমৃদ্ধ রড।

এরই মধ্যে দুই বছর আগে বাংলাদেশ ১৬৮টি বান্ডেল সংগ্রহ করে রেখেছে। এর মধ্যে ১৬৩টি চুল্লিতে ব্যবহার করা হবে এবং বাকি ৫টি সংরক্ষণে থাকবে।

এই বান্ডেলগুলো চুল্লিতে স্থাপন করতে সময় লাগবে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন। এরপর শুরু হবে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া প্রক্রিয়া। বিক্রিয়ায় উৎপন্ন তাপে পানি বাষ্পে পরিণত হবে এবং সেই বাষ্প টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে।

অন্যান্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো তেল, গ্যাস বা কয়লার ওপর নির্ভর করতে হবে না রূপপুরকে। একবার জ্বালানি লোড করার পর তা দিয়ে টানা দেড় বছর পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। এরপর একসঙ্গে সব জ্বালানি পরিবর্তন না করে প্রতি দেড় বছরে এক-তৃতীয়াংশ করে পরিবর্তন করলেই চলবে।

যদিও জ্বালানি লোডিং শেষ হলেই সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে না। এরপরও শতাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। সব ধাপ সফলভাবে শেষ হলে কয়েক মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

একবারের জ্বালানি দিয়েই দেড় বছর মিলবে বিদ্যুৎ

Update Time : ০২:৪৮:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম। পারমাণবিক চুল্লিতে ইউরেনিয়াম সরবরাহের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশগুলোর তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে।

রূপপুরের প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ১,২০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক চুল্লিতে বিক্রিয়ার জন্য প্রয়োজন হবে মোট ১৬৩টি ইউরেনিয়াম বান্ডেল, যার প্রতিটিতে রয়েছে ১৫টি করে ইউরেনিয়াম পেলেটসমৃদ্ধ রড।

এরই মধ্যে দুই বছর আগে বাংলাদেশ ১৬৮টি বান্ডেল সংগ্রহ করে রেখেছে। এর মধ্যে ১৬৩টি চুল্লিতে ব্যবহার করা হবে এবং বাকি ৫টি সংরক্ষণে থাকবে।

এই বান্ডেলগুলো চুল্লিতে স্থাপন করতে সময় লাগবে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন। এরপর শুরু হবে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া প্রক্রিয়া। বিক্রিয়ায় উৎপন্ন তাপে পানি বাষ্পে পরিণত হবে এবং সেই বাষ্প টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে।

অন্যান্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো তেল, গ্যাস বা কয়লার ওপর নির্ভর করতে হবে না রূপপুরকে। একবার জ্বালানি লোড করার পর তা দিয়ে টানা দেড় বছর পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। এরপর একসঙ্গে সব জ্বালানি পরিবর্তন না করে প্রতি দেড় বছরে এক-তৃতীয়াংশ করে পরিবর্তন করলেই চলবে।

যদিও জ্বালানি লোডিং শেষ হলেই সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে না। এরপরও শতাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। সব ধাপ সফলভাবে শেষ হলে কয়েক মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হবে।