কার্যকরের আগেই রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত ট্রাম্পের

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০১:৩৩:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • 14

রাশিয়ার জীবাশ্ম জ্বালানি বিক্রিসংশ্লিষ্ট নতুন একগুচ্ছ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগেই স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গত মাসে স্বাক্ষরিত একটি আইনের আওতায় নিষেধাজ্ঞাগুলো কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।

শুক্রবার এক নির্বাহী আদেশে এসব নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতির ঘোষণা দেন তিনি।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের বিরোধ বাড়তে থাকা এবং রাশিয়ার চার বছর ধরে চলা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কিয়েভের প্রতি ওয়াশিংটনের সমর্থনে ফাটল দেখা দেওয়ার প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত এল। এতে ইউরোপীয় মিত্রদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের পাঁচ বৃহত্তম আমদানিকারক দেশের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছিল। এসব দেশের মাধ্যমে রাশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্য দেশটির যুদ্ধের অর্থায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

শুক্রবার হোয়াইট হাউস প্রকাশিত নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প বলেন, “এ মুহূর্তে এ ধরনের অব্যাহতি দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থে- এ মর্মে আমি কংগ্রেসকে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছি।”

তবে কেন এ সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করবে, সে বিষয়ে আদেশে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ট্রাম্প প্রশাসন পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে না করা পর্যন্ত এ অব্যাহতি কার্যকর থাকবে।

নিষেধাজ্ঞাগুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল সাবেক সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে প্রণীত ‘গ্রাহাম অ্যাক্টে’। রাশিয়ার প্রতি কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত গ্রাহাম গত জুলাইয়ে মারা যান।

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন। তার ভাষায়, এটি নেতৃত্বের ‘চরম ও অনুমেয় ব্যর্থতা’।

তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে ট্রাম্প কংগ্রেসের নির্দেশনা উপেক্ষা করেছেন এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন।

আইনটির অন্যতম প্রণেতা সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথালও বলেন, এ অব্যাহতির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার কোনও সম্পর্ক নেই; বরং এটি পুতিনকে খুশি করার প্রচেষ্টা।

ইউক্রেনের সঙ্গে বাড়ছে দূরত্ব

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের সম্পর্কে টানাপোড়েনের পেছনে আরও কয়েকটি ঘটনা রয়েছে। গত সপ্তাহে ট্রাম্প রাশিয়ার ডিজেল রফতানির অনুমতি দিয়ে একটি সমঝোতা করেন। এতে ইউরোপীয় নেতারা বিস্মিত হন এবং জেলেনস্কি বলেন, তিনি নিজেকে প্রতারিত বোধ করেছেন।

দেশের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমাতে ইউক্রেনকে রাশিয়ার তেল স্থাপনায় হামলা বন্ধ করার জন্য চাপ দিচ্ছে হোয়াইট হাউস। ইউক্রেন সাময়িকভাবে হামলা বন্ধ করলেও পরে আবার তা শুরু করে।

অন্যদিকে, রাশিয়াও সপ্তাহজুড়ে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা অব্যাহত রেখেছে।

ট্রাম্প ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধকে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির জন্য দায়ী করেছেন। তবে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ নিয়েও তিনি সমালোচনার মুখে রয়েছেন।

এদিকে ইউক্রেনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইউক্রেনের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বন্ধ করেনি ওয়াশিংটন।

ইলন মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের সামরিক সংস্করণ ব্যবহারে বিধিনিষেধের কারণে ইউক্রেনের ড্রোন অভিযান, আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা, যোগাযোগ ও সামরিক রসদ সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটেছে। শুক্রবার জেলেনস্কি জানান, স্টারলিংকের কার্যক্রমের উন্নতি হয়েছে, তবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

বৃহস্পতিবার নিউজম্যাক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, পুতিনের তুলনায় জেলেনস্কির সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো তার কাছে বেশি কঠিন।

এদিকে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে ইউক্রেনের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র শেষ হয়ে গেছে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম অল্প কয়েকটি প্রতিরক্ষাব্যবস্থার একটি প্যাট্রিয়ট।

অন্যদিকে, ইউরোপীয় নেতারা জেলেনস্কির প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। শুক্রবার বেলজিয়ামে এক সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ইউরোপের ‘প্রকৃত নেতাদের’ প্রশংসা করেন। একই সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার বিরুদ্ধে ২২তম নিষেধাজ্ঞার প্যাকেজ প্রস্তুত করার কথা জানিয়েছে। তাদের অবস্থান, পুতিন যুদ্ধ বন্ধ না করলে মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করা হবে।

সূত্র: সিএনএন

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Din Mohammad

জনপ্রিয়

ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

কার্যকরের আগেই রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত ট্রাম্পের

Update Time : ০১:৩৩:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

রাশিয়ার জীবাশ্ম জ্বালানি বিক্রিসংশ্লিষ্ট নতুন একগুচ্ছ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগেই স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গত মাসে স্বাক্ষরিত একটি আইনের আওতায় নিষেধাজ্ঞাগুলো কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।

শুক্রবার এক নির্বাহী আদেশে এসব নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতির ঘোষণা দেন তিনি।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের বিরোধ বাড়তে থাকা এবং রাশিয়ার চার বছর ধরে চলা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কিয়েভের প্রতি ওয়াশিংটনের সমর্থনে ফাটল দেখা দেওয়ার প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত এল। এতে ইউরোপীয় মিত্রদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের পাঁচ বৃহত্তম আমদানিকারক দেশের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছিল। এসব দেশের মাধ্যমে রাশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্য দেশটির যুদ্ধের অর্থায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

শুক্রবার হোয়াইট হাউস প্রকাশিত নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প বলেন, “এ মুহূর্তে এ ধরনের অব্যাহতি দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থে- এ মর্মে আমি কংগ্রেসকে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছি।”

তবে কেন এ সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করবে, সে বিষয়ে আদেশে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ট্রাম্প প্রশাসন পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে না করা পর্যন্ত এ অব্যাহতি কার্যকর থাকবে।

নিষেধাজ্ঞাগুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল সাবেক সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে প্রণীত ‘গ্রাহাম অ্যাক্টে’। রাশিয়ার প্রতি কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত গ্রাহাম গত জুলাইয়ে মারা যান।

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন। তার ভাষায়, এটি নেতৃত্বের ‘চরম ও অনুমেয় ব্যর্থতা’।

তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে ট্রাম্প কংগ্রেসের নির্দেশনা উপেক্ষা করেছেন এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন।

আইনটির অন্যতম প্রণেতা সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথালও বলেন, এ অব্যাহতির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার কোনও সম্পর্ক নেই; বরং এটি পুতিনকে খুশি করার প্রচেষ্টা।

ইউক্রেনের সঙ্গে বাড়ছে দূরত্ব

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের সম্পর্কে টানাপোড়েনের পেছনে আরও কয়েকটি ঘটনা রয়েছে। গত সপ্তাহে ট্রাম্প রাশিয়ার ডিজেল রফতানির অনুমতি দিয়ে একটি সমঝোতা করেন। এতে ইউরোপীয় নেতারা বিস্মিত হন এবং জেলেনস্কি বলেন, তিনি নিজেকে প্রতারিত বোধ করেছেন।

দেশের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমাতে ইউক্রেনকে রাশিয়ার তেল স্থাপনায় হামলা বন্ধ করার জন্য চাপ দিচ্ছে হোয়াইট হাউস। ইউক্রেন সাময়িকভাবে হামলা বন্ধ করলেও পরে আবার তা শুরু করে।

অন্যদিকে, রাশিয়াও সপ্তাহজুড়ে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা অব্যাহত রেখেছে।

ট্রাম্প ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধকে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির জন্য দায়ী করেছেন। তবে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ নিয়েও তিনি সমালোচনার মুখে রয়েছেন।

এদিকে ইউক্রেনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইউক্রেনের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বন্ধ করেনি ওয়াশিংটন।

ইলন মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের সামরিক সংস্করণ ব্যবহারে বিধিনিষেধের কারণে ইউক্রেনের ড্রোন অভিযান, আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা, যোগাযোগ ও সামরিক রসদ সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটেছে। শুক্রবার জেলেনস্কি জানান, স্টারলিংকের কার্যক্রমের উন্নতি হয়েছে, তবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

বৃহস্পতিবার নিউজম্যাক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, পুতিনের তুলনায় জেলেনস্কির সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো তার কাছে বেশি কঠিন।

এদিকে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে ইউক্রেনের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র শেষ হয়ে গেছে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম অল্প কয়েকটি প্রতিরক্ষাব্যবস্থার একটি প্যাট্রিয়ট।

অন্যদিকে, ইউরোপীয় নেতারা জেলেনস্কির প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। শুক্রবার বেলজিয়ামে এক সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ইউরোপের ‘প্রকৃত নেতাদের’ প্রশংসা করেন। একই সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার বিরুদ্ধে ২২তম নিষেধাজ্ঞার প্যাকেজ প্রস্তুত করার কথা জানিয়েছে। তাদের অবস্থান, পুতিন যুদ্ধ বন্ধ না করলে মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করা হবে।

সূত্র: সিএনএন