চলতি সপ্তাহেই ৪৫তম বিসিএস পরীক্ষার সময় নির্ধারণ হতে পারে

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৪১:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৩
  • 205

নিজস্ব প্রতিবেদক

৪৫তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সময় চলতি সপ্তাহেই নির্ধারণ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইন।

তিনি বলেন, ৪৫তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা পূর্বঘোষিত সম্ভাব্য সময়ে আয়োজন করতে চাই। এ পরীক্ষার সময় পেছাতে চাই না। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা মার্চের মধ্যেই এ পরীক্ষা আয়োজন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রশ্ন ছাপানোর জন্য বিজি প্রেসকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তারা নির্ধারিত সময়ে প্রশ্ন সরবরাহ করতে পারলে পরীক্ষা পেছানো হবে না। তা না হলে কিছুটা সময় পেছাতে পারে। তাদের সঙ্গে এ সপ্তাহে সভা করে পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করা হবে।

সোমবার (২৩ জানুয়ারি) পিএসসির চেয়ারম্যান বলেন, বিজি প্রেসের সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হবে পরীক্ষা পেছাবে নাকি আগামী মার্চে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে। চলতি সপ্তাহে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

মো. সোহরাব হোসাইন বলেন, আমাদের ৪১তম বিসিএসের ভাইবা পরীক্ষা চলছে। এটি শেষ হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে। ৪৩তম বিসিএসের ভাইবার জন্য প্রস্তুতি চলছে। ৪১তম বিসিএসের ভাইবা শেষ হওয়ার আগে ৪৪তম বিসিএসের ভাইবার প্রস্তুতি শুরু হবে। ধারাবাহিকভাবে ভাইবা পরীক্ষার জট নিরসন করা হবে। এগুলো শেষ হলে আর জট থাকবে না।

তিনি বলেন, ৪৫তম বিসিএসের পরীক্ষা জট ছাড়াই শেষ করা সম্ভব হবে। যত দ্রুত বিসিএস পরীক্ষা শেষ করা যায় তার জন্য আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছি। মান উন্নয়নে আমাদের চেষ্টা চলছে। রাতারাতি সব পরিবর্তন করা সম্ভব হবে না, এর জন্য সময় লাগবে। ধীরে ধীরে এর পরিবর্তন বোঝা যাবে।

জানা গেছে, ৪৫তম বিসিএসে আবেদন করেছেন ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৯৫০ জন প্রার্থী। গত বছরের ৩০ নভেম্বর পিএসসির ওয়েবসাইটে ৪৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। আবেদন শুরু হয় ১০ ডিসেম্বর। শেষ তারিখ ছিল ৩১ ডিসেম্বর। ৪৫তম বিসিএসের মাধ্যমে মোট ২ হাজার ৩০৯ জন ক্যাডার নেওয়া হবে। নন-ক্যাডারে নেওয়া হবে ১ হাজার ২২ জনকে। আগামী মার্চের মাঝামাঝি সময়ে এ পরীক্ষা আয়োজনের সম্ভাব্য সময় বিজ্ঞপ্তিতে ঘোষণা করা হয়।

ক্যাডার পদের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো নন-ক্যাডার পদের সংখ্যা উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি। ক্যাডার পদে যেমন পছন্দ নির্দিষ্ট করে দেওয়া যায়, তেমনি নন-ক্যাডার পদেও পছন্দের তালিকা নির্দিষ্ট করে দিতে পারবেন প্রার্থীরা।

৪৫তম বিসিএসে ২ হাজার ৩০৯ ক্যাডারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিয়োগ হবে চিকিৎসায়। সহকারী ও ডেন্টাল সার্জন মিলিয়ে ৫৩৯ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। চিকিৎসার পর সবচেয়ে বেশি শিক্ষা ক্যাডারে, নিয়োগ পাবেন ৪৩৭ জন। এছাড়া পুলিশে ৮০, কাস্টমসে ৫৪, প্রশাসনে ২৭৪ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে।

প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ২০০ নম্বরের এমসিকিউ প্রশ্ন থাকবে। প্রতিটি শুদ্ধ উত্তরের জন্য ১ নম্বর এবং ভুল উত্তর দিলে প্রতিটি ভুলের জন্য মোট প্রাপ্ত নম্বর থেকে ০.৫০ নম্বর করে কাটা যাবে।

এদিকে ৪৫তম বিসিএসের আবেদন করতে গিয়ে সমস্যা হওয়ায় ক্যাডার ও নন-ক্যাডার পদের কোড সংশোধন করেছে পিএসসি। এবছর আবেদনের সঙ্গে সঙ্গে প্রবেশপত্র সরবরাহ করেনি পিএসসি। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রবেশপত্র প্রদান শুরু হবে।

এ বিষয়ে পিএসসি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, পরীক্ষার্থীরা একসঙ্গে আবেদন করে ও টাকা জমা দিয়ে পাশাপাশি রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও পাশাপাশি বসে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পান বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে এবার সম্পূর্ণ দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রার্থীদের রেজিস্ট্রেশন নম্বর জেনারেট হবে। যে কারণে এবার সঙ্গে সঙ্গে প্রবেশপত্র ইস্যু না করে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ইস্যু করা হবে।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

চলতি সপ্তাহেই ৪৫তম বিসিএস পরীক্ষার সময় নির্ধারণ হতে পারে

Update Time : ০৯:৪১:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

৪৫তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সময় চলতি সপ্তাহেই নির্ধারণ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইন।

তিনি বলেন, ৪৫তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা পূর্বঘোষিত সম্ভাব্য সময়ে আয়োজন করতে চাই। এ পরীক্ষার সময় পেছাতে চাই না। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা মার্চের মধ্যেই এ পরীক্ষা আয়োজন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রশ্ন ছাপানোর জন্য বিজি প্রেসকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তারা নির্ধারিত সময়ে প্রশ্ন সরবরাহ করতে পারলে পরীক্ষা পেছানো হবে না। তা না হলে কিছুটা সময় পেছাতে পারে। তাদের সঙ্গে এ সপ্তাহে সভা করে পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করা হবে।

সোমবার (২৩ জানুয়ারি) পিএসসির চেয়ারম্যান বলেন, বিজি প্রেসের সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হবে পরীক্ষা পেছাবে নাকি আগামী মার্চে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে। চলতি সপ্তাহে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

মো. সোহরাব হোসাইন বলেন, আমাদের ৪১তম বিসিএসের ভাইবা পরীক্ষা চলছে। এটি শেষ হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে। ৪৩তম বিসিএসের ভাইবার জন্য প্রস্তুতি চলছে। ৪১তম বিসিএসের ভাইবা শেষ হওয়ার আগে ৪৪তম বিসিএসের ভাইবার প্রস্তুতি শুরু হবে। ধারাবাহিকভাবে ভাইবা পরীক্ষার জট নিরসন করা হবে। এগুলো শেষ হলে আর জট থাকবে না।

তিনি বলেন, ৪৫তম বিসিএসের পরীক্ষা জট ছাড়াই শেষ করা সম্ভব হবে। যত দ্রুত বিসিএস পরীক্ষা শেষ করা যায় তার জন্য আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছি। মান উন্নয়নে আমাদের চেষ্টা চলছে। রাতারাতি সব পরিবর্তন করা সম্ভব হবে না, এর জন্য সময় লাগবে। ধীরে ধীরে এর পরিবর্তন বোঝা যাবে।

জানা গেছে, ৪৫তম বিসিএসে আবেদন করেছেন ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৯৫০ জন প্রার্থী। গত বছরের ৩০ নভেম্বর পিএসসির ওয়েবসাইটে ৪৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। আবেদন শুরু হয় ১০ ডিসেম্বর। শেষ তারিখ ছিল ৩১ ডিসেম্বর। ৪৫তম বিসিএসের মাধ্যমে মোট ২ হাজার ৩০৯ জন ক্যাডার নেওয়া হবে। নন-ক্যাডারে নেওয়া হবে ১ হাজার ২২ জনকে। আগামী মার্চের মাঝামাঝি সময়ে এ পরীক্ষা আয়োজনের সম্ভাব্য সময় বিজ্ঞপ্তিতে ঘোষণা করা হয়।

ক্যাডার পদের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো নন-ক্যাডার পদের সংখ্যা উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি। ক্যাডার পদে যেমন পছন্দ নির্দিষ্ট করে দেওয়া যায়, তেমনি নন-ক্যাডার পদেও পছন্দের তালিকা নির্দিষ্ট করে দিতে পারবেন প্রার্থীরা।

৪৫তম বিসিএসে ২ হাজার ৩০৯ ক্যাডারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিয়োগ হবে চিকিৎসায়। সহকারী ও ডেন্টাল সার্জন মিলিয়ে ৫৩৯ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। চিকিৎসার পর সবচেয়ে বেশি শিক্ষা ক্যাডারে, নিয়োগ পাবেন ৪৩৭ জন। এছাড়া পুলিশে ৮০, কাস্টমসে ৫৪, প্রশাসনে ২৭৪ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে।

প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ২০০ নম্বরের এমসিকিউ প্রশ্ন থাকবে। প্রতিটি শুদ্ধ উত্তরের জন্য ১ নম্বর এবং ভুল উত্তর দিলে প্রতিটি ভুলের জন্য মোট প্রাপ্ত নম্বর থেকে ০.৫০ নম্বর করে কাটা যাবে।

এদিকে ৪৫তম বিসিএসের আবেদন করতে গিয়ে সমস্যা হওয়ায় ক্যাডার ও নন-ক্যাডার পদের কোড সংশোধন করেছে পিএসসি। এবছর আবেদনের সঙ্গে সঙ্গে প্রবেশপত্র সরবরাহ করেনি পিএসসি। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রবেশপত্র প্রদান শুরু হবে।

এ বিষয়ে পিএসসি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, পরীক্ষার্থীরা একসঙ্গে আবেদন করে ও টাকা জমা দিয়ে পাশাপাশি রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও পাশাপাশি বসে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পান বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে এবার সম্পূর্ণ দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রার্থীদের রেজিস্ট্রেশন নম্বর জেনারেট হবে। যে কারণে এবার সঙ্গে সঙ্গে প্রবেশপত্র ইস্যু না করে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ইস্যু করা হবে।