জ্বালানি তেল বিতরণে সব ধরনের বিধিনিষেধ প্রত্যাহার

দেশে জ্বালানি তেল বিক্রির ওপর আরোপিত রেশনিং ব্যবস্থা ও সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে সরকার।

রোববার (১৫ মার্চ) থেকে দেশের সব ফিলিং স্টেশন ও বিতরণ পয়েন্টে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী স্বাভাবিকভাবে তেল বিক্রি শুরু হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য অফিসার মুহাম্মদ আরিফ সাদেক স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ লাইনে সমস্যার সৃষ্টি হওয়ায় দেশে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় আগে কিছু নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

তবে বর্তমানে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সরকার এই নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার পেছনে প্রধান তিনটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে:

১. পর্যাপ্ত মজুত: ইতিমধ্যে আমদানিকৃত বেশ কয়েকটি জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে, ফলে দেশে তেলের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত হয়েছে।
২. নির্বিঘ্ন ঈদ যাত্রা: আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাধারণ মানুষের যাতায়াত যেন কোনো বাধার মুখে না পড়ে, তা নিশ্চিত করা।
৩. বোরো চাষ: বর্তমান বোরো মৌসুমে কৃষকদের সেচ কাজের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেলের চাহিদা মেটানো।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আজ থেকেই দেশের সব এলাকায় গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল বিতরণ অব্যাহত থাকবে। এর আগে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য তেলের পরিমাণ সীমিত করে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল।

সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে পরিবহন মালিক ও সাধারণ জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। বিশেষ করে আসন্ন ঈদের আগে যাতায়াত খরচ ও ভোগান্তি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জনপ্রিয়

জ্বালানি তেল বিতরণে সব ধরনের বিধিনিষেধ প্রত্যাহার

Update Time : ০৯:১৫:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

দেশে জ্বালানি তেল বিক্রির ওপর আরোপিত রেশনিং ব্যবস্থা ও সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে সরকার।

রোববার (১৫ মার্চ) থেকে দেশের সব ফিলিং স্টেশন ও বিতরণ পয়েন্টে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী স্বাভাবিকভাবে তেল বিক্রি শুরু হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য অফিসার মুহাম্মদ আরিফ সাদেক স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ লাইনে সমস্যার সৃষ্টি হওয়ায় দেশে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় আগে কিছু নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

তবে বর্তমানে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সরকার এই নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার পেছনে প্রধান তিনটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে:

১. পর্যাপ্ত মজুত: ইতিমধ্যে আমদানিকৃত বেশ কয়েকটি জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে, ফলে দেশে তেলের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত হয়েছে।
২. নির্বিঘ্ন ঈদ যাত্রা: আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাধারণ মানুষের যাতায়াত যেন কোনো বাধার মুখে না পড়ে, তা নিশ্চিত করা।
৩. বোরো চাষ: বর্তমান বোরো মৌসুমে কৃষকদের সেচ কাজের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেলের চাহিদা মেটানো।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আজ থেকেই দেশের সব এলাকায় গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল বিতরণ অব্যাহত থাকবে। এর আগে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য তেলের পরিমাণ সীমিত করে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল।

সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে পরিবহন মালিক ও সাধারণ জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। বিশেষ করে আসন্ন ঈদের আগে যাতায়াত খরচ ও ভোগান্তি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।