পদত্যাগ করলেন শিল্পকলার মহাপরিচালক সৈয়দ জামিল আহমেদ

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০২:১৭:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ মার্চ ২০২৫
  • 136

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব সৈয়দ জামিল আহমেদ। শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পদত্যাগের কথা সামনে আনেন তিনি।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর শিল্পকলার মহাপরিচালকের দায়িত্ব নেন জামিল আহমেদ। এর সাড়ে পাঁচ মাস পর পদ ছাড়লেন তিনি।

শুক্রবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির প্রশিক্ষণ বিভাগের আয়োজনে ‘মুনীর চৌধুরী প্রথম জাতীয় নাট্যোৎসব’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামিল আহমেদ।

অনুষ্ঠানের মঞ্চে থাকা শিল্পকলা একাডেমির সচিব মোহাম্মদ ওয়ারেছ হোসেনের হাতে পদত্যাগপত্র তুলে দেন এই নাট্যব্যক্তিত্ব।

তবে মহাপরিচালকের পদত্যাগপত্র শিল্পকলার সচিবের গ্রহণের এখতিয়ার নেই। শিল্পকলার সচিব মোহাম্মদ ওয়ারেছ হোসেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকের সামনে বলেন, ‘শিল্পকলার সচিব হিসেবে এটি (পদত্যাগপত্র) শুধু হাতে নিয়েছি। কিন্তু শিল্পকলা একাডেমির কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী এই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেননি।’

পদত্যাগপত্র। ছবি: সংগৃহীতপদত্যাগপত্র। ছবি: সংগৃহীত

বক্তৃতার সময় সৈয়দ জামিল আহমেদ বর্তমান প্রশাসন এবং সচিবালয়ের অযাচিত হস্তক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছিলেন না, তাই তিনি এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি আরও জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিল্পকলার বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রায়ই নানা গড়িমসি করা হয়েছে এবং শিল্পকলার বিকাশে প্রয়োজনীয় বরাদ্দও দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে সৈয়দ জামিল আরও জানান, উপদেষ্টাদের অসহযোগিতা, শিল্পকলার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অসহযোগিতা এবং দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের কারণে তিনি কাজ করতে পারছিলেন না, যা তার পদত্যাগের প্রধান কারণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. মফিদুর রহমান শুক্রবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে জানান, তিনি এখনো চিঠি পাননি, তবে বিষয়টি শুনেছেন। চিঠি পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে পারবেন। বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য জানতে সৈয়দ জামিল আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।

ছাত্র-জনতা অভ্যুত্থানের পটভূমিকায় গত ১২ আগস্ট বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক পদ ছাড়েন লিয়াকত আলী লাকী। টানা ১৩ বছর পর এই দায়িত্বে ছিলেন তিনি। লাকীর পদত্যাগের পর অনেকে সৈয়দ জামিল আহমেদকে মহাপরিচালকের দায়িত্বে আনার দাবি তুলেছিলেন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রশ্নে আগ্রহী ছিলেন না তিনি। সে সময় গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি একদমই নিতে চাইনি। উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সাহেব আমাকে কল দিয়েছিলেন। আমাকে বোঝালেন, ওনার কথাগুলো গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে। এতগুলো মানুষ শহীদ হয়েছে, এখন পরিবর্তনের সুযোগ এসেছে। শহীদদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে দায়িত্ব নিচ্ছি।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Din Mohammad

জনপ্রিয়

৭ নভেম্বরের চেতনায় দেশবিরোধী সব ষড়যন্ত্র রুখতে বিএনপি প্রস্তুত: রিজভী

পদত্যাগ করলেন শিল্পকলার মহাপরিচালক সৈয়দ জামিল আহমেদ

Update Time : ০২:১৭:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ মার্চ ২০২৫

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব সৈয়দ জামিল আহমেদ। শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পদত্যাগের কথা সামনে আনেন তিনি।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর শিল্পকলার মহাপরিচালকের দায়িত্ব নেন জামিল আহমেদ। এর সাড়ে পাঁচ মাস পর পদ ছাড়লেন তিনি।

শুক্রবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির প্রশিক্ষণ বিভাগের আয়োজনে ‘মুনীর চৌধুরী প্রথম জাতীয় নাট্যোৎসব’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামিল আহমেদ।

অনুষ্ঠানের মঞ্চে থাকা শিল্পকলা একাডেমির সচিব মোহাম্মদ ওয়ারেছ হোসেনের হাতে পদত্যাগপত্র তুলে দেন এই নাট্যব্যক্তিত্ব।

তবে মহাপরিচালকের পদত্যাগপত্র শিল্পকলার সচিবের গ্রহণের এখতিয়ার নেই। শিল্পকলার সচিব মোহাম্মদ ওয়ারেছ হোসেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকের সামনে বলেন, ‘শিল্পকলার সচিব হিসেবে এটি (পদত্যাগপত্র) শুধু হাতে নিয়েছি। কিন্তু শিল্পকলা একাডেমির কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী এই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেননি।’

পদত্যাগপত্র। ছবি: সংগৃহীতপদত্যাগপত্র। ছবি: সংগৃহীত

বক্তৃতার সময় সৈয়দ জামিল আহমেদ বর্তমান প্রশাসন এবং সচিবালয়ের অযাচিত হস্তক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছিলেন না, তাই তিনি এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি আরও জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিল্পকলার বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রায়ই নানা গড়িমসি করা হয়েছে এবং শিল্পকলার বিকাশে প্রয়োজনীয় বরাদ্দও দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে সৈয়দ জামিল আরও জানান, উপদেষ্টাদের অসহযোগিতা, শিল্পকলার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অসহযোগিতা এবং দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের কারণে তিনি কাজ করতে পারছিলেন না, যা তার পদত্যাগের প্রধান কারণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. মফিদুর রহমান শুক্রবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে জানান, তিনি এখনো চিঠি পাননি, তবে বিষয়টি শুনেছেন। চিঠি পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে পারবেন। বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য জানতে সৈয়দ জামিল আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।

ছাত্র-জনতা অভ্যুত্থানের পটভূমিকায় গত ১২ আগস্ট বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক পদ ছাড়েন লিয়াকত আলী লাকী। টানা ১৩ বছর পর এই দায়িত্বে ছিলেন তিনি। লাকীর পদত্যাগের পর অনেকে সৈয়দ জামিল আহমেদকে মহাপরিচালকের দায়িত্বে আনার দাবি তুলেছিলেন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রশ্নে আগ্রহী ছিলেন না তিনি। সে সময় গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি একদমই নিতে চাইনি। উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সাহেব আমাকে কল দিয়েছিলেন। আমাকে বোঝালেন, ওনার কথাগুলো গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে। এতগুলো মানুষ শহীদ হয়েছে, এখন পরিবর্তনের সুযোগ এসেছে। শহীদদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে দায়িত্ব নিচ্ছি।’