Dhaka ০২:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খুলনায় জোরপূর্বক দখল হওয়া জমি ফেরত পেতে ভুক্তভোগীর আবেদন

খুলনার নিচখামার বিসমিল্লাহ মহল্লায় জোরপূর্বক দখল হওয়া জমি ফেরতের দাবিতে ভুক্তভোগীরা আবেদন করেছেন। বুধবার (৫ মার্চ) দুপুর ৩টায় নিজ জমির সামনে উপস্থিত হয়ে মোসাম্মৎ শাহানাজ বেগম ও মোহাম্মদ আক্তার আহাম্মেদ খান তাদের বৈধ সম্পত্তি দখলমুক্ত করার দাবি জানান।

ভুক্তভোগী মোহাম্মদ আক্তার আহাম্মেদ খান জানান, ২০০২ সালে আবুল কালাম শেখের পক্ষে চিত্তরঞ্জন গাইন ও জবান আলীর কাছ থেকে বারো কাঠা জমি ক্রয় করে মিউটেশন সম্পন্ন করেন। এরপর দীর্ঘদিন ভোগদখলে থাকার পর উক্ত জমি আল-আরাফাহ ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণগ্রহণ করা হয়। ২০১২ সাল পর্যন্ত ব্যাংকের সাইনবোর্ডও সেখানে ছিল। পরবর্তীতে ঋণ পরিশোধের পর জমিটি পুনরায় তার দখলে আসে।

তিনি অভিযোগ করেন, খুলনার সাবেক যুবলীগ নেতা মনিরুজ্জামান সাগর ২০১০ সালে ভুয়া দলিল তৈরি করে জমির দখল নেওয়ার চেষ্টা চালান। তার মৃত্যু হলে তার প্রধান সহযোগী ফিরোজ ফকির সেখানে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ করেন এবং ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।

এ বিষয়ে দখলকারী হালিমা নামে এক নারীর কাছ থেকে জানা যায়, ফিরোজ ফকিরের সহযোগী মিন্টু তাদের বিনা পয়সায় সেখানে থাকতে দিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ২০০২ সালে শাহানাজ বেগম ও মোহাম্মদ আক্তার আহাম্মেদ খান জমি কেনার পর থেকেই সেখানে চাষাবাদ করে আসছেন। তবে গত ১০-১৫ বছর ধরে একটি চক্র নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে জমি দখলে নেয়।

জোরপূর্বক জমি দখলের শাস্তি:

বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে, অন্যের জমি জোরপূর্বক দখল করা ফৌজদারি অপরাধ। দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪৪১, ৪৪২, ৪৪৭ ও ৪৪৮ ধারায় অনধিকার প্রবেশ ও দখল সংক্রান্ত বিধান রয়েছে। এছাড়া, বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪-এর ১৫(৪) ধারা অনুযায়ী, যদি কেউ বেআইনিভাবে জমি দখল করে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে এবং দোষী সাব্যস্ত হলে কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে।

ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করে তাদের জমি পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জনপ্রিয়

খুলনায় জোরপূর্বক দখল হওয়া জমি ফেরত পেতে ভুক্তভোগীর আবেদন

Update Time : ১২:০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ মার্চ ২০২৫

খুলনার নিচখামার বিসমিল্লাহ মহল্লায় জোরপূর্বক দখল হওয়া জমি ফেরতের দাবিতে ভুক্তভোগীরা আবেদন করেছেন। বুধবার (৫ মার্চ) দুপুর ৩টায় নিজ জমির সামনে উপস্থিত হয়ে মোসাম্মৎ শাহানাজ বেগম ও মোহাম্মদ আক্তার আহাম্মেদ খান তাদের বৈধ সম্পত্তি দখলমুক্ত করার দাবি জানান।

ভুক্তভোগী মোহাম্মদ আক্তার আহাম্মেদ খান জানান, ২০০২ সালে আবুল কালাম শেখের পক্ষে চিত্তরঞ্জন গাইন ও জবান আলীর কাছ থেকে বারো কাঠা জমি ক্রয় করে মিউটেশন সম্পন্ন করেন। এরপর দীর্ঘদিন ভোগদখলে থাকার পর উক্ত জমি আল-আরাফাহ ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণগ্রহণ করা হয়। ২০১২ সাল পর্যন্ত ব্যাংকের সাইনবোর্ডও সেখানে ছিল। পরবর্তীতে ঋণ পরিশোধের পর জমিটি পুনরায় তার দখলে আসে।

তিনি অভিযোগ করেন, খুলনার সাবেক যুবলীগ নেতা মনিরুজ্জামান সাগর ২০১০ সালে ভুয়া দলিল তৈরি করে জমির দখল নেওয়ার চেষ্টা চালান। তার মৃত্যু হলে তার প্রধান সহযোগী ফিরোজ ফকির সেখানে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ করেন এবং ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।

এ বিষয়ে দখলকারী হালিমা নামে এক নারীর কাছ থেকে জানা যায়, ফিরোজ ফকিরের সহযোগী মিন্টু তাদের বিনা পয়সায় সেখানে থাকতে দিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ২০০২ সালে শাহানাজ বেগম ও মোহাম্মদ আক্তার আহাম্মেদ খান জমি কেনার পর থেকেই সেখানে চাষাবাদ করে আসছেন। তবে গত ১০-১৫ বছর ধরে একটি চক্র নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে জমি দখলে নেয়।

জোরপূর্বক জমি দখলের শাস্তি:

বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে, অন্যের জমি জোরপূর্বক দখল করা ফৌজদারি অপরাধ। দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪৪১, ৪৪২, ৪৪৭ ও ৪৪৮ ধারায় অনধিকার প্রবেশ ও দখল সংক্রান্ত বিধান রয়েছে। এছাড়া, বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪-এর ১৫(৪) ধারা অনুযায়ী, যদি কেউ বেআইনিভাবে জমি দখল করে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে এবং দোষী সাব্যস্ত হলে কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে।

ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করে তাদের জমি পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।