বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে প্রেস ক্লাব খুলনা-২ এর
সাইনবোর্ড ব্যাবহার করে জুয়া পরিচালনা করছে জুয়াসম্রাট মনা
খুলনা ব্যুরো : মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশানুযায়ী ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের পর বন্ধ রয়েছে খুলনার ক্লাব পাড়াসহ বেশিরভাগ ক্লাবের জুয়ার আসর। তবে খুলনার কয়েকটি জায়গায় কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছে না মানসিক ব্যাধি ও পারিবারিক কলহ সৃষ্টিকারী জুয়া। পুলিশ এবং র্যাবের জুয়া ও ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে এসকল জুয়াড়ীদেরকে আটক করা হলেও, আইনের ফাঁকফোকড়ে জামিনে বেরিয়ে বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে পুনরায় জুয়ার বোর্ড পরিচালনা করছে খুলনার কথিত সম্রাটেরা।

প্রেস ক্লাব খুলনা -২ এর ভিতর জুয়া পরিচালক মনা ও বাদল
মনোয়ার হোসেন মনা ওরফে ডাকবাংলা মনা। খুলনার সোনাডাঙ্গা আবাসিকের অভিজাত একটি ভাড়া বাসায় বসবাস তার।বর্তমানে খুলনার জুয়াবোর্ড পরিচালনায় তার নাম এখন শীর্ষে। জুয়া ও মাদক মামলায় কয়েকবার আটক হলেও আইনের ফাঁকফোকড়ে বেরিয়ে একই কাজ করছে পুনরায়। খুলনার বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে বর্তমানে নির্বিঘ্নে জুয়া পরিচালনা করছে নগরীর বেণী বাবু রোডের প্রেসক্লাব খুলনা -২ এর ভেতর। দীর্ঘ ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই জুয়াকার্য পরিচালনা করে আসছে মনা।
গত জুন মাসে বেণী বাবু রোডস্থ প্রেস ক্লাব খুলনা – ২ সাইনবোর্ড ব্যাবহার করে জুয়া চালানোর তথ্য বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হলে কিছুদিন বন্ধ থাকে। পরবর্তীতে খুলনা শামসুর রহমান রোডের একটি বাসার দ্বিতীয় তলায় বিভিন্ন স্থানের জুয়াড়িদের নিয়ে জুয়া চালাতে থাকে মনা। ২৮ জুন সোমবার কে এম পি’র ডিবি পুলিশের একটি টিম গোপন সুত্রের ভিত্তিতে ০৪ নং শামসুর রহমান রোডস্থ যুবক ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে মূলহোতা মনোয়ার হোসেন মনাসহ ২১ জনকে আটক করে। পরে ধৃত জুয়াড়ীদের বিরুদ্ধে ১৮৬৮ সালের জুয়া আইনে মামলা রূজুর মাধ্যমে আদালতে প্রেরণ করা হয়।
তবে জামিনে বের হওয়ার পর পূর্বস্থানে (বেণী বাবু রোডস্থ প্রেস ক্লাব খুলনা-২ এর সাইনবোর্ড ব্যাবহার করে) একই ধারাবাহিকতায় জুয়াকার্য পরিচালনা করছে জুয়াড়ীহোতা মনা। খুলনায় জুয়ার আসন শক্ত করার চেষ্টায় মরিয়া হয়ে বিভিন্ন সাংবাদিক ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নাম ভাঙ্গাচ্ছে প্রতিনিয়ত। জানা যায় , কয়েকবার জুয়া মামলায় আটক হলেও একটি মহলকে ম্যানেজ করে পুনরায় জুয়া চালাচ্ছে সে।
করোনা মহামারীর প্রকোপতা কমাতে সরকার যেখানে লকডাউনসহ নানা পদক্ষেপ গ্রহন করছে, প্রতিনিয়ত বিভিন্ন স্থান থেকে আগত জুয়াড়ীদের অংশগ্রহণে সেখানে চলছে জুয়ার আসর। বিশ্বস্ত সুত্রে জানা যায়, প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত চলমান এ জুয়ার মেলায় ১৫ থেকে ২৫ জন জুয়াড়ীর সমাগম হয় । আঞ্চলিক কাটাকাটি নামক খেলায় প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ২০ লাখ টাকার জুয়া চলে । এদের মধ্যে মোঃ বাদল সহ ৩ জন ব্যাক্তি জুয়াড়িদেরকে সুদে টাকা দেওয়ার জন্য উপস্থিত থাকে। বাকিরা সকলেই খেলোয়ার।
এবিষয়ে র্যাব -৬ এর কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে জানান, খুলনার বিভিন্ন স্থানে প্রায়ই জুয়াবিরোধী অভিযানের মাধ্যমে জুয়াড়ীদেরকে আটক করা হয়েছে। এমতাবস্থায় সকল জুয়াড়ী এবং জুয়ারবোর্ড পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি ।
Reporter Name 



















