রূপপুরের জ্বালানি পরিবহনে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারে অস্বীকৃতি ‘কারিগরি বিষয়’

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০১:৫১:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 8

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ার ঘটনাকে ‘কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত বিষয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছে পাকিস্তান।

মঙ্গলবার ঢাকায় অবস্থিত পাকিস্তান হাইকমিশন এক ব্যাখ্যায় জানায়, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক নীতিমালার প্রতি পাকিস্তানের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি রয়েছে। নির্ধারিত নিয়ন্ত্রক নির্দেশিকা ও বেসামরিক বিমান চলাচলসংক্রান্ত প্রোটোকল অনুসরণ করে কূটনৈতিক ফ্লাইট ও আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতির আবেদন প্রক্রিয়া করা হয়।

হাইকমিশনের ব্যাখ্যায় বলা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর বিষয়ে জানানো যাচ্ছে যে, বিষয়টি ফ্লাইটের রুট এবং আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতির সঙ্গে সম্পর্কিত কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত বিষয়ের মধ্যে পড়ে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষসহ অন্যান্য সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে। এর ফলে কখনো কখনো ফ্লাইটের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।

পাকিস্তান হাইকমিশন আরও জানায়, বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিষয়টিকে সঠিক কারিগরি প্রেক্ষাপটে দেখা উচিত এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ক্ষুণ্ন করতে পারে—এমন কোনো প্রতিবেদন বা বিবরণীকে অপ্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়।

এর আগে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম জ্বালানি পরিবহনে বিলম্বের কথা জানানো হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর ওই জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না থাকায় নির্ধারিত সময়ে তা পৌঁছায়নি।

বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ইউরেনিয়াম বহনকারী একটি কার্গো বিমান ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল বলে তারা জানতে পেরেছিলেন। কিন্তু বিমানটিকে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ে ইউরেনিয়াম দেশে পৌঁছাতে পারেনি।

তিনি বলেন, পাকিস্তান কেন আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি, তার সুনির্দিষ্ট কারণ তখনও জানা যায়নি। তবে নতুন করে একটি তারিখ প্রস্তাব করা হয়েছে। রাশিয়া ইঙ্গিত দিয়েছে, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ইউরেনিয়াম বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম এএনআইকে জানান, ইউরেনিয়ামবাহী বিমান আসার কথা থাকায় বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে অপেক্ষা করা হচ্ছিল। পরে রোসাটমের লিয়াজোঁ কর্মকর্তা আকাশসীমা ব্যবহারে জটিলতার কথা জানান। ফলে নির্ধারিত সময়ে জ্বালানি পাঠানো সম্ভব হয়নি। এ কারণে নতুন করে সময়সূচি নির্ধারণ করতে হতে পারে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটমের কারিগরি সহায়তায় নির্মিত হচ্ছে। পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নে পদ্মা নদীর তীরে রূপপুর গ্রামে নির্মাণাধীন এই প্রকল্প বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

প্রকল্পের আওতায় তৃতীয় প্রজন্মের দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর ইউনিট নির্মাণ করা হচ্ছে। দুটি ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য নিম্ন-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জ্বালানির প্রথম চালান বাংলাদেশে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে দেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের যাত্রা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। ২০২৩ সালের অক্টোবরে রাশিয়ার মস্কো থেকে একটি ভারী কার্গো বিমানে করে ১৬৪টি নতুন জ্বালানি সংযোজনী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়েছিল।

পরে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় তেজস্ক্রিয়তা নিরোধক কনটেইনারে রাখা জ্বালানি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তায় বিশেষ ‘গ্রিন করিডোর’-এর মাধ্যমে পাবনার ঈশ্বরদীতে প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জনপ্রিয়

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে তাড়াহুড়োর কিছু নেই: দীনেশ ত্রিবেদী

রূপপুরের জ্বালানি পরিবহনে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারে অস্বীকৃতি ‘কারিগরি বিষয়’

Update Time : ০১:৫১:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ার ঘটনাকে ‘কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত বিষয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছে পাকিস্তান।

মঙ্গলবার ঢাকায় অবস্থিত পাকিস্তান হাইকমিশন এক ব্যাখ্যায় জানায়, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক নীতিমালার প্রতি পাকিস্তানের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি রয়েছে। নির্ধারিত নিয়ন্ত্রক নির্দেশিকা ও বেসামরিক বিমান চলাচলসংক্রান্ত প্রোটোকল অনুসরণ করে কূটনৈতিক ফ্লাইট ও আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতির আবেদন প্রক্রিয়া করা হয়।

হাইকমিশনের ব্যাখ্যায় বলা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর বিষয়ে জানানো যাচ্ছে যে, বিষয়টি ফ্লাইটের রুট এবং আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতির সঙ্গে সম্পর্কিত কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত বিষয়ের মধ্যে পড়ে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষসহ অন্যান্য সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে। এর ফলে কখনো কখনো ফ্লাইটের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।

পাকিস্তান হাইকমিশন আরও জানায়, বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিষয়টিকে সঠিক কারিগরি প্রেক্ষাপটে দেখা উচিত এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ক্ষুণ্ন করতে পারে—এমন কোনো প্রতিবেদন বা বিবরণীকে অপ্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়।

এর আগে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম জ্বালানি পরিবহনে বিলম্বের কথা জানানো হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর ওই জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না থাকায় নির্ধারিত সময়ে তা পৌঁছায়নি।

বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ইউরেনিয়াম বহনকারী একটি কার্গো বিমান ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল বলে তারা জানতে পেরেছিলেন। কিন্তু বিমানটিকে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ে ইউরেনিয়াম দেশে পৌঁছাতে পারেনি।

তিনি বলেন, পাকিস্তান কেন আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি, তার সুনির্দিষ্ট কারণ তখনও জানা যায়নি। তবে নতুন করে একটি তারিখ প্রস্তাব করা হয়েছে। রাশিয়া ইঙ্গিত দিয়েছে, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ইউরেনিয়াম বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম এএনআইকে জানান, ইউরেনিয়ামবাহী বিমান আসার কথা থাকায় বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে অপেক্ষা করা হচ্ছিল। পরে রোসাটমের লিয়াজোঁ কর্মকর্তা আকাশসীমা ব্যবহারে জটিলতার কথা জানান। ফলে নির্ধারিত সময়ে জ্বালানি পাঠানো সম্ভব হয়নি। এ কারণে নতুন করে সময়সূচি নির্ধারণ করতে হতে পারে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটমের কারিগরি সহায়তায় নির্মিত হচ্ছে। পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নে পদ্মা নদীর তীরে রূপপুর গ্রামে নির্মাণাধীন এই প্রকল্প বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

প্রকল্পের আওতায় তৃতীয় প্রজন্মের দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর ইউনিট নির্মাণ করা হচ্ছে। দুটি ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য নিম্ন-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জ্বালানির প্রথম চালান বাংলাদেশে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে দেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের যাত্রা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। ২০২৩ সালের অক্টোবরে রাশিয়ার মস্কো থেকে একটি ভারী কার্গো বিমানে করে ১৬৪টি নতুন জ্বালানি সংযোজনী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়েছিল।

পরে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় তেজস্ক্রিয়তা নিরোধক কনটেইনারে রাখা জ্বালানি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তায় বিশেষ ‘গ্রিন করিডোর’-এর মাধ্যমে পাবনার ঈশ্বরদীতে প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়।