হাউজ বিল্ডিং এর কর্মকর্তা খায়রুলের বিপুল সম্পদের সন্ধান
স্টাফ রিপোর্টার : ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তোপের মুখে পড়ে পদত্যাগ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা । এরপর একের পর এক আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও পুলিশ সহ সরকারি কর্মকর্তাগন বাধা পড়ে আইনের বেড়াজালে। কঠিন এই পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পাওয়ার আশায়, দেশ ত্যাগের সময় আটক হয়েছে অনেকেই। দেশ ত্যাগের সময় কেউবা দিয়েছেন প্রাণ ও। এছাড়া দূর্ণীতি ও অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের করা হয়েছে অপসারণ।
তবে সীমাহীন দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক বনে যাওয়া সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোঃ খায়রুল ইসলাম জীবন বহাল তবিয়াতে অফিস করে যাচ্ছেন। ছাত্র জনতার আন্দোলনে পুলিশ কর্মকর্তা ও ছাত্রলীগকে সহযোগিতা করলেও এখনো পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে নেওয়া হয়নি দাপ্তরিক ব্যবস্থা। এ বিষয়ে যেন সংশয় কাটছে না জনমনে। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের ডিজিএম এডমিন হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তার গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার থানার খেজুরবাড়িয়া গ্রামে। একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের “এসএম ছাত্র হল” ছাত্রলীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক পদে নিযুক্ত ছিলেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সুপারিশে বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশনে নিয়োগপ্রাপ্ত হন । আওয়ামী লীগের ক্ষমতা বলে সরকারি প্রতিষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন পদে কর্মরত থেকে করেছেন সীমাহীন দুর্নীতি।
সম্প্রতি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সরকার তথা পুলিশ ও ছাত্রলীগের পক্ষে ব্যাপক সহযোগিতা করেছেন বলে জানা যায়। একটি বিশেষ সূত্র জানায়, এই আন্দোলনে ছাত্রদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে ছাত্রলীগকে বিভিন্ন সময় অর্থসহ নানা সুযোগ সুবিধা দিয়েছে এই কর্মকর্তা। ছাত্র জনতার উপর আন্দোলনে পুলিশি অভিযান চালানোর ব্যাপারে সহযোগিতা করেন তিনি।
সূত্রটি আরো জানায়, নারী পুলিশ কান্ডে জড়িত পুলিশের কর্মকর্তা এডিসি হারুন তার নিকট বন্ধু। হারুনের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি থানায়। দুই বন্ধুর মাঝে দারুণ সখ্যতা থাকায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন পন্ড করতে তারা অবলম্বন করেন নানা কৌশল। পল্টন এলাকায় অভিযান চালানোর সময় পরোক্ষভাবে এডিসি হারুনকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন তিনি।
বর্তমানে এডিসি হারুন পলাতক থাকলেও, নিয়মিত খাদ্য সরবরাহ করে আসছেন হাউজ বিল্ডিং এর এই কর্মকর্তা।
সরকারি এই দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হওয়ায় নামে- বেনামে গড়েছেন বিপুল সম্পদ। অদৃশ্য আলাদিনের চেরাগের ছোঁয়ায় বনে গেছেন শত-শত কোটি টাকার মালিক। উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরে শ্যালিকার নামে কিনেছেন ১ টি আলিশান ফ্ল্যাট এবং নিজের নামে কিনেছেন ২ টি ফ্লাট। উত্তরা তৃতীয় আবাসিকে রয়েছে দামি প্লট। এছাড়া ঢাকা ও সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন স্থানে নামে বেনামে গড়েছেন অগাধ সম্পত্তি।
অনুসন্ধানে জানা যায় বদলি, লোন, ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে গড়েছেন এই সম্পদের পাহাড়। শুধু তাই নয়, তার বিরুদ্ধে অফিসের সুন্দরী নারী কর্মকর্তাদের সাথে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপনের তথ্য পাওয়া যায়। অফিসে কর্মরত একাধিক নারী কর্মকর্তা ও নারী গ্রাহকগন তার লালসার শিকার হয়েছেন। বাড়তি সুযোগ-সুবিধা ও অর্থ সম্পদের লোভ দেখিয়ে এ সকল নারীদেরকে ভোগ করতেন বলে জানা যায়।
হাউজ বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশনের একজন কর্মচারী জানান, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হওয়ায়, কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করতেন না এই কর্মকর্তা। দুর্নীতি ও লোন বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্জিত অর্থের কিছু অংশ ব্যয় করতো নারীদের উপর।
এ বিষয়ে জানতে তার মুঠোফোনে কল করলে, তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে এই কর্মকর্তার অপসারণসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির অধস্থান কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সাধারণ জনগণ।
Reporter Name 



















