যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির শোচনীয় পরাজয়ের জন্য ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
বুধবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমাদের পরাজয়ের কারণ যুদ্ধ। প্রেসিডেন্ট নিজেই গত রাতে এ কথা বলেছেন।’
মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিজ দলের বড় ধরনের পরাজয়ের পর এই প্রথম প্রকাশ্যে মন্তব্য করলেন ভ্যান্স।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও স্বীকার করেছিলেন, নির্বাচনে ইরান যুদ্ধের প্রভাব ছিল। তবে ইরানে হামলা চালানোর সিদ্ধান্তের পক্ষে নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে আসছেন ভ্যান্স। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থিতার কথা মাথায় রেখে অজনপ্রিয় ইরান যুদ্ধ থেকে নিজের অবস্থান আলাদা করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন তিনি।
রিপাবলিকানদের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণ জানতে জনমত জরিপকারীদের সঙ্গে কথা বলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ভ্যান্স বলেন, সমস্যাটি এই নয় যে রিপাবলিকান ভোটাররা ভোট দিতে আসেননি।
তিনি বলেন, ‘মূল সমস্যা হলো, ২০২৪ সালে যারা ট্রাম্প-ভ্যান্সকে ভোট দিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই ২০২৬ সালে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিয়েছেন।’
ভ্যান্সের ভাষ্য, ইরান যুদ্ধ, জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি এবং ইসরাইলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সম্পর্ক নিয়ে প্রশাসনের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন ভোটাররা। ইসরাইল প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ সহায়তা পেয়ে থাকে।
ভ্যান্স আরও বলেন, ‘কেউ যদি মনে করেন এই যুদ্ধের জন্য নির্বাচনে হারা বা আগামী ছয় বছর সিনেটের ক্ষমতা হারানো ঠিক ছিল, তবে তাঁরা সে যুক্তি দিতেই পারেন। আপনারা আমার সঙ্গে একমত হন আর না-ই হন, অন্তত সততার সঙ্গে এই সত্য স্বীকার করুন যে এ যুদ্ধের কারণে আমাদের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেল।’
ভ্যান্স বলেন, ‘আমাদের পরাজয়ের কারণ সবার জানা। এখন ভুল শুধরে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য যেকোনো আলোচনা এ সত্য স্বীকার করার মাধ্যমেই শুরু হওয়া উচিত।’
গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরাইলের সঙ্গে মিলে ট্রাম্প যখন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন, তখন থেকেই এ যুদ্ধের বিষয়ে সংশয়ী ছিলেন ভ্যান্স।
জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির কারণে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ।
নির্বাচনের পর পরিচালিত এক্সিট পোলের ফল অনুযায়ী, প্রায় ৮০ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, মূল্যস্ফীতির কারণে তাঁরা আর্থিক সংকটে পড়েছেন। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির জন্য ৬০ শতাংশ ভোটার ট্রাম্পের নীতিকে দায়ী করেছেন।
সূত্র: বিবিসি
অনলাইন ডেস্ক 





















