Dhaka ০৩:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেন জাতীয় দল ছেড়ে গিয়েছিলেন, জানালেন নাফিস ইকবাল

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:০৪:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • 111

ক্রীড়া প্রতিবেদক
বাংলাদেশ ক্রিকেটে ঘটছে নাটকের পর নাটক। দল ঘোষণা, তামিম ইকবাল, সাকিবের অধিনায়কত্ব ছাড়ার গুঞ্জন এবং বিশ্বকাপে খেলতে যাওযার আগে একটি টিভিতে তার বলা কথা নিয়ে লেজে-গোবরে অবস্থা এখন বাংলাদেশ ক্রিকেটে।
এরই মধ্যে ঘটেছে অপারেশন্স ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্বে থাকার নাফিস ইকবালের নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ম্যাচ চলাকালীন জাতীয় দল ছেড়ে যাওয়ার ঘটনা। ২৬ তারিখই এ নিয়ে তুমুল আলোচনা তৈরি হয়েছিলো। অনেকে বলেছিলেন, ছোটভাই তামিমের সঙ্গে নানা ঘটনার কারণে ক্ষোভে নাফিস দল ছেড়ে গেছেন। যদিও ওই সময় জাগো নিউজকে তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি পদত্যাগ করেননি।
অর্থ্যাৎ, তখনই বোঝা গিয়েছিলো নাফিস ইকবাল নিজে পদত্যাগ করেননি। তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে বিসিবির পক্ষ থেকেই। দুইদিন পর এ নিয়ে মুখ খুলেছেন নাফিস ইকবাল। তিনি জানিয়েছেন, কোনো আবেগের বশে দায়িত্ব ছেড়ে দেননি। তাকে বিসিবির পক্ষ থেকেই সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এমনকি তাকে এই যে সরিয়ে দেয়া, এর সঙ্গে তামিমের ঘটনাবলীরও কোনো সম্পর্ক নেই।
ফেসবুক পোস্টে নাফিস ইকবাল বলেন, ‘আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই যে, নিউজিল্যান্ড বিপক্ষে ৩য় ওয়ানডেতে জাতীয় দল ছাড়ার বিষয়টা আমার কোনো আবেগের বশে ছিল না। এর মূল কারণ ছিল, ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে আমাকে জানানো হয়েছিল যে, আমি বিশ্বকাপ দলের সঙ্গে থাকবো না। গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগেও একই ঘটনা ঘটেছিল। আমিও তো একজন মানুষ, সবার মত আমার আবেগ আছে।’
নাফিস জানান, তিনি নিজে পদত্যাগ করেননি। তিনি বলেন, ‘আমি অবশ্যই বিসিবি থেকে পদত্যাগ করিনি এবং ছোট ভাই তামিম ইকবালের চলমান ঘটনাবলির সঙ্গেও আমার এই পদক্ষেপের কোন সম্পর্ক নেই। আমি যখন মাঠ থেকে বিদায় নিয়েছি, তারও ৬/৭ ঘন্টা পর বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করা হয়েছিলো।’

তামিম ইকবাল বিশ্বকাপ দলে থাকবেন কী থাকবেন না, তা নিয়ে অনেক কথা-বার্তা তৈরি হয়। তামিম বেছে বেছে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলবেন- এ ধরনের কথা ছড়িয়ে পড়লে, সাকিব আল হাসান হুমকি দেন অধিনায়কত্বই করবেন না। শেষ পর্যন্ত নানা নাটকীয়তার পর তামিমকে ছাড়াই দল ঘোষণা করা হয়। নাফিস ইকবাল জানিয়ে দিয়েছেন, এ সবের সঙ্গে তার ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই।

বরং নাফিস জানিয়েছেন, তার কর্মকাণ্ড সব নিয়ম মেনেই করেছেন। তিনি বলেন, ‘ওইদিন আমি বোর্ডের সাথে সমস্ত প্রটোকল ও আচরণবিধি সম্পূর্ণভাবে মেনে চলেছি। মাঠে নামার আগে প্রধান কোচ এবং এরপর সংশ্লিষ্ট বিসিবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমার মতামত জানিয়েছি।’
জাতীয় দল ছেড়ে যাওয়ার আগে সব কর্মকাণ্ড নিয়মমাফিক করেছেন বলেও জানান নাফিস। তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত করেছি যে খেলার জন্য টিমশিটে স্বাক্ষর করা, নিউজিল্যান্ড সিরিজের জন্য অ্যাকাউন্ট বিভাগের কাগজ ঠিক করা, বিশ্বকাপের জন্য আমাকে দেওয়া দৈনিক ভাতা ফেরত দেওয়া- সবই করে গিয়েছি।’
নিজের ক্যারিয়ারে নাফিস সৎ ছিলেন, দলের সঙ্গে যুক্ত হয়েও সৎ ছিলেন বলে দাবি করেন নাফিস। তিনি বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, যে পরিস্থিতি যেমন কিছু সম্মান প্রাপ্য এবং সত্য না জেনে কেউ তার মতামত দিতে পারে না। ক্রিকেট ক্যারিয়ারে সবসময় সৎ ছিলাম এবং এখন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ম্যানেজমেন্টের অংশ হিসেবে আমি আমার সেরা আউটপুট দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছি এবং ভবিষ্যতেও করব।’

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জনপ্রিয়

কেন জাতীয় দল ছেড়ে গিয়েছিলেন, জানালেন নাফিস ইকবাল

Update Time : ০২:০৪:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩

ক্রীড়া প্রতিবেদক
বাংলাদেশ ক্রিকেটে ঘটছে নাটকের পর নাটক। দল ঘোষণা, তামিম ইকবাল, সাকিবের অধিনায়কত্ব ছাড়ার গুঞ্জন এবং বিশ্বকাপে খেলতে যাওযার আগে একটি টিভিতে তার বলা কথা নিয়ে লেজে-গোবরে অবস্থা এখন বাংলাদেশ ক্রিকেটে।
এরই মধ্যে ঘটেছে অপারেশন্স ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্বে থাকার নাফিস ইকবালের নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ম্যাচ চলাকালীন জাতীয় দল ছেড়ে যাওয়ার ঘটনা। ২৬ তারিখই এ নিয়ে তুমুল আলোচনা তৈরি হয়েছিলো। অনেকে বলেছিলেন, ছোটভাই তামিমের সঙ্গে নানা ঘটনার কারণে ক্ষোভে নাফিস দল ছেড়ে গেছেন। যদিও ওই সময় জাগো নিউজকে তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি পদত্যাগ করেননি।
অর্থ্যাৎ, তখনই বোঝা গিয়েছিলো নাফিস ইকবাল নিজে পদত্যাগ করেননি। তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে বিসিবির পক্ষ থেকেই। দুইদিন পর এ নিয়ে মুখ খুলেছেন নাফিস ইকবাল। তিনি জানিয়েছেন, কোনো আবেগের বশে দায়িত্ব ছেড়ে দেননি। তাকে বিসিবির পক্ষ থেকেই সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এমনকি তাকে এই যে সরিয়ে দেয়া, এর সঙ্গে তামিমের ঘটনাবলীরও কোনো সম্পর্ক নেই।
ফেসবুক পোস্টে নাফিস ইকবাল বলেন, ‘আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই যে, নিউজিল্যান্ড বিপক্ষে ৩য় ওয়ানডেতে জাতীয় দল ছাড়ার বিষয়টা আমার কোনো আবেগের বশে ছিল না। এর মূল কারণ ছিল, ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে আমাকে জানানো হয়েছিল যে, আমি বিশ্বকাপ দলের সঙ্গে থাকবো না। গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগেও একই ঘটনা ঘটেছিল। আমিও তো একজন মানুষ, সবার মত আমার আবেগ আছে।’
নাফিস জানান, তিনি নিজে পদত্যাগ করেননি। তিনি বলেন, ‘আমি অবশ্যই বিসিবি থেকে পদত্যাগ করিনি এবং ছোট ভাই তামিম ইকবালের চলমান ঘটনাবলির সঙ্গেও আমার এই পদক্ষেপের কোন সম্পর্ক নেই। আমি যখন মাঠ থেকে বিদায় নিয়েছি, তারও ৬/৭ ঘন্টা পর বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করা হয়েছিলো।’

তামিম ইকবাল বিশ্বকাপ দলে থাকবেন কী থাকবেন না, তা নিয়ে অনেক কথা-বার্তা তৈরি হয়। তামিম বেছে বেছে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলবেন- এ ধরনের কথা ছড়িয়ে পড়লে, সাকিব আল হাসান হুমকি দেন অধিনায়কত্বই করবেন না। শেষ পর্যন্ত নানা নাটকীয়তার পর তামিমকে ছাড়াই দল ঘোষণা করা হয়। নাফিস ইকবাল জানিয়ে দিয়েছেন, এ সবের সঙ্গে তার ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই।

বরং নাফিস জানিয়েছেন, তার কর্মকাণ্ড সব নিয়ম মেনেই করেছেন। তিনি বলেন, ‘ওইদিন আমি বোর্ডের সাথে সমস্ত প্রটোকল ও আচরণবিধি সম্পূর্ণভাবে মেনে চলেছি। মাঠে নামার আগে প্রধান কোচ এবং এরপর সংশ্লিষ্ট বিসিবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমার মতামত জানিয়েছি।’
জাতীয় দল ছেড়ে যাওয়ার আগে সব কর্মকাণ্ড নিয়মমাফিক করেছেন বলেও জানান নাফিস। তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত করেছি যে খেলার জন্য টিমশিটে স্বাক্ষর করা, নিউজিল্যান্ড সিরিজের জন্য অ্যাকাউন্ট বিভাগের কাগজ ঠিক করা, বিশ্বকাপের জন্য আমাকে দেওয়া দৈনিক ভাতা ফেরত দেওয়া- সবই করে গিয়েছি।’
নিজের ক্যারিয়ারে নাফিস সৎ ছিলেন, দলের সঙ্গে যুক্ত হয়েও সৎ ছিলেন বলে দাবি করেন নাফিস। তিনি বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, যে পরিস্থিতি যেমন কিছু সম্মান প্রাপ্য এবং সত্য না জেনে কেউ তার মতামত দিতে পারে না। ক্রিকেট ক্যারিয়ারে সবসময় সৎ ছিলাম এবং এখন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ম্যানেজমেন্টের অংশ হিসেবে আমি আমার সেরা আউটপুট দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছি এবং ভবিষ্যতেও করব।’