চাঁদাবাজদের ‘নিরপেক্ষ তালিকা’ করছে র‍্যাব, শিগগির অভিযান

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০১:০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • 89

দেশজুড়ে চাঁদাবাজদের একটি নিরপেক্ষ তালিকা তৈরি করছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। তালিকা প্রস্তুত শেষে এতে থাকা সব অপরাধীর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে কারওয়ান বাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।

তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে চাঁদাবাজদের একটি ‘আনবায়াসড’ তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। র‍্যাবের ১৫টি ব্যাটালিয়ন এরই মধ্যে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। যারাই তালিকায় থাকবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

তালিকায় রাজনৈতিক ব্যক্তি থাকলে কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তালিকা হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব থাকবে না। যে অপরাধী, তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালিকা সম্পন্নের নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো না হলেও তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব কাজ শেষ করে মাঠে অভিযান শুরু করা হবে।

র‍্যাব জানায়, চাঁদাবাজি শুধু একটি নির্দিষ্ট খাতে সীমাবদ্ধ নয়। পরিবহন খাতে মহাসড়ক-কেন্দ্রিক চাঁদাবাজি, বাজারে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাপ সৃষ্টি—সব ধরনের চাঁদাবাজিকে এই তালিকার আওতায় আনা হচ্ছে। ছোট থেকে বড় সব স্তরের অপরাধীকেই বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা ভয় বা নিরাপত্তাজনিত কারণে অভিযোগ করেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্য, মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধান এবং বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।

কল্যাণপুরে একটি হাসপাতালের উদ্যোক্তার কাছ থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি প্রথমে পুলিশের কাছে গেছে এবং যাচাই-বাছাই চলছে। একই সঙ্গে র‍্যাবও ছায়া তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগ প্রমাণ হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক একটি বড় ইয়াবা চালান আটকের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ে যারা ধরা পড়ে তারা সাধারণত নিম্নস্তরের সদস্য। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূল হোতা বা গডফাদারদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চালানো হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর কোনো ধরনের চাপ আছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, র‍্যাব স্বাধীনভাবেই কাজ করছে এবং কোনো ধরনের বেআইনি চাপ নেই। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়, অপরাধী যেই হোক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জনপ্রিয়

চাঁদাবাজদের ‘নিরপেক্ষ তালিকা’ করছে র‍্যাব, শিগগির অভিযান

Update Time : ০১:০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

দেশজুড়ে চাঁদাবাজদের একটি নিরপেক্ষ তালিকা তৈরি করছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। তালিকা প্রস্তুত শেষে এতে থাকা সব অপরাধীর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে কারওয়ান বাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।

তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে চাঁদাবাজদের একটি ‘আনবায়াসড’ তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। র‍্যাবের ১৫টি ব্যাটালিয়ন এরই মধ্যে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। যারাই তালিকায় থাকবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

তালিকায় রাজনৈতিক ব্যক্তি থাকলে কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তালিকা হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব থাকবে না। যে অপরাধী, তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালিকা সম্পন্নের নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো না হলেও তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব কাজ শেষ করে মাঠে অভিযান শুরু করা হবে।

র‍্যাব জানায়, চাঁদাবাজি শুধু একটি নির্দিষ্ট খাতে সীমাবদ্ধ নয়। পরিবহন খাতে মহাসড়ক-কেন্দ্রিক চাঁদাবাজি, বাজারে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাপ সৃষ্টি—সব ধরনের চাঁদাবাজিকে এই তালিকার আওতায় আনা হচ্ছে। ছোট থেকে বড় সব স্তরের অপরাধীকেই বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা ভয় বা নিরাপত্তাজনিত কারণে অভিযোগ করেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্য, মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধান এবং বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।

কল্যাণপুরে একটি হাসপাতালের উদ্যোক্তার কাছ থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি প্রথমে পুলিশের কাছে গেছে এবং যাচাই-বাছাই চলছে। একই সঙ্গে র‍্যাবও ছায়া তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগ প্রমাণ হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক একটি বড় ইয়াবা চালান আটকের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ে যারা ধরা পড়ে তারা সাধারণত নিম্নস্তরের সদস্য। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূল হোতা বা গডফাদারদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চালানো হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর কোনো ধরনের চাপ আছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, র‍্যাব স্বাধীনভাবেই কাজ করছে এবং কোনো ধরনের বেআইনি চাপ নেই। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়, অপরাধী যেই হোক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।