বগুড়ায় দুর্বৃত্তের ধারালো অস্ত্রের কোপে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা খুন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৫৯:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • 156


জয়দেব কুমার দাস:
বগুড়ায় পূর্বশত্রুতার জেরে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের কোপে মিজানুর রহমান মিজান (৩৫) অর্থাৎ গোকুলী মিজান স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা নিহত হয়েছেন।একই ঘটনায় লেদু নামে হামলাকারীদের একজন আহত হয়ে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।সোমবার রাত ৯টার দিকে বগুড়া সদর উপজেলার গোকুল স্ট্যান্ডে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

মিজানুর রহমান মিজান বগুড়া সদর উপজেলার গোকুলের আফছার আলীর ছেলে এবং সদর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ছিলেন।আর লেদু গোকুল দক্ষিণ পাড়ার বাসিন্দা।

মিজানের নিহতের ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে শজিমেক হাসপাতালে বিএনপির নেতা-কর্মীরা ভিড় করেন। তার দলীয় পরিচয় নিশ্চিত করে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর তালুকদার হেনা জানান, মিজান সদর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক।তাকে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মিজান রাত ৮টার দিকে ওই ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের সামনে ৬-৭ জনের সাথে বসে গল্প করছিলেন, এসময় বিদ্যুৎ ছিল না। তখন কয়েকজন দুর্বৃত্ত এসে তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা মিজানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে চলে যায়।

পরে তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক)হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ সময় হাসপাতাল চত্বরে জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুর রশিদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এর কিছুক্ষণ পর পুলিশের একটি গাড়ি গোকুল থেকে লেদুকে আহত অবস্থায় শজিমেক হাসপাতালের জরুরী বিভাগে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসে।

প্রতক্ষদর্শীরা জানায়, লেদুকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পর মিজানের পক্ষের লোকজন উত্তেজিত হয়ে পড়ে।তারা পুলিশী বাধা উপেক্ষা করে জরুরী বিভাগে ঢুকে পড়েন। সেখানে তারা হামলা ও ভাঙচুর চালান। এ সময় জরুরী বিভাগে সংবাদ সংগ্রহে থাকা যমুনা টেলিভিশনের বগুড়া ব্যুরো প্রধান মেহেরুল সুজনসহ কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে জানা যায় লেদু জরুরী বিভাগে থাকা অবস্থায় মারা যান।

ছিলিমপুর মেডিকেল ফাঁড়ির এসআই রুবেল জানান, গোকুলের হামলার ঘটনায় মিজান ও লেদু নামে দুজনের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রেখেছি আমরা। এর মধ্যে মিজান আগেই মারা যান। আর আহত অবস্থায় আনার পর লেদু মারা গেছে।

ফার্স্ট নিউজ ৭১/ ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

বগুড়ায় দুর্বৃত্তের ধারালো অস্ত্রের কোপে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা খুন

Update Time : ০১:৫৯:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪


জয়দেব কুমার দাস:
বগুড়ায় পূর্বশত্রুতার জেরে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের কোপে মিজানুর রহমান মিজান (৩৫) অর্থাৎ গোকুলী মিজান স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা নিহত হয়েছেন।একই ঘটনায় লেদু নামে হামলাকারীদের একজন আহত হয়ে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।সোমবার রাত ৯টার দিকে বগুড়া সদর উপজেলার গোকুল স্ট্যান্ডে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

মিজানুর রহমান মিজান বগুড়া সদর উপজেলার গোকুলের আফছার আলীর ছেলে এবং সদর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ছিলেন।আর লেদু গোকুল দক্ষিণ পাড়ার বাসিন্দা।

মিজানের নিহতের ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে শজিমেক হাসপাতালে বিএনপির নেতা-কর্মীরা ভিড় করেন। তার দলীয় পরিচয় নিশ্চিত করে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর তালুকদার হেনা জানান, মিজান সদর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক।তাকে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মিজান রাত ৮টার দিকে ওই ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের সামনে ৬-৭ জনের সাথে বসে গল্প করছিলেন, এসময় বিদ্যুৎ ছিল না। তখন কয়েকজন দুর্বৃত্ত এসে তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা মিজানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে চলে যায়।

পরে তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক)হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ সময় হাসপাতাল চত্বরে জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুর রশিদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এর কিছুক্ষণ পর পুলিশের একটি গাড়ি গোকুল থেকে লেদুকে আহত অবস্থায় শজিমেক হাসপাতালের জরুরী বিভাগে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসে।

প্রতক্ষদর্শীরা জানায়, লেদুকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পর মিজানের পক্ষের লোকজন উত্তেজিত হয়ে পড়ে।তারা পুলিশী বাধা উপেক্ষা করে জরুরী বিভাগে ঢুকে পড়েন। সেখানে তারা হামলা ও ভাঙচুর চালান। এ সময় জরুরী বিভাগে সংবাদ সংগ্রহে থাকা যমুনা টেলিভিশনের বগুড়া ব্যুরো প্রধান মেহেরুল সুজনসহ কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে জানা যায় লেদু জরুরী বিভাগে থাকা অবস্থায় মারা যান।

ছিলিমপুর মেডিকেল ফাঁড়ির এসআই রুবেল জানান, গোকুলের হামলার ঘটনায় মিজান ও লেদু নামে দুজনের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রেখেছি আমরা। এর মধ্যে মিজান আগেই মারা যান। আর আহত অবস্থায় আনার পর লেদু মারা গেছে।

ফার্স্ট নিউজ ৭১/ ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪