সৌদিগামী প্লেন থেকে ১৬ ভিক্ষুক নামিয়ে নিলো পাকিস্তান

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:২৬:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ অক্টোবর ২০২৩
  • 150

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

পাকিস্তান থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে যাওয়া একটি প্লেন থেকে ১৬ জন ভিক্ষুককে নামিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির পাঞ্জাব প্রদেশের মুলতান বিমানবন্দর থেকে প্লেনে চেপে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের উদ্দেশে উড়ে যাচ্ছিলেন ওই ১৬ জন। তাদের প্রত্যেককেই নামিয়ে নেন পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ফেডেরাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এফআইএ) কর্মকর্তারা।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ১৬ জনের মধ্যে ১১ জন নারী, চার জন পুরুষ ও একটি শিশু ছিল। মূলত মূলত ওমরা পালন ও সে সুযোগে অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ হিসেবে ভিক্ষা করতে সৌদি আরব যাচ্ছিলেন তারা।
জানা গেছে, ভিক্ষুকের দলটি একটি ভ্রমণ সংস্থার এজেন্টকে এক লাখ ৮৫ হাজার পাকিস্তানি রুপি দিয়েছিল। জাভেদ নামের ওই এজেন্টই তাদের সৌদি আরবের ভিসার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন।
এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা বলেছে, প্লেন থেকে নামিয়ে দেওয়া সবার পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে। আইনি ব্যবস্থার জন্য তাদের মানবপাচার ও চোরাচালান বিরোধী শাখায় পাঠানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মানবপাচার আইন, ২০১৮-এর অধীনে মামলা হবে।
কিছুদিন আগেই আর্থিক সমস্যায় জর্জরিত পাকিস্তান সরকারকে হজযাত্রী বাছাইয়ের বিষয়ে কিছু পরামর্শ দিয়েছিল সৌদি সরকার। হজযাত্রায় কোটায় আবেদনকারীদের মনোনয়নের বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার কথা বলা হয় ওই বার্তায়। কোনোভাবেই যাতে ভিক্ষুক কিংবা পকেটমারের মতো অপরাধীরা হজের সুযোগ না পান, সে কথা স্পষ্ট জানিয়ে দেয় রিয়াদ।
আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে জানিয়ে পাকিস্তানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে সৌদি সরকার বলে, আমাদের কারাগারগুলো আপনাদের দেশের কয়েদিতে ভরে গেছে। আর জায়গা নেই। এর আগে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কমিটি জানায়, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভিক্ষুক অবৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সচিব জুলফিকার হায়দার বলেছিলেন, সৌদি আরব, ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য কয়েকটি দেশে আটক হওয়া ভিক্ষুকদের মধ্যে ৯০ শতাংশই পাকিস্তানের।
হজযাত্রীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে প্রতিটি দেশের জন্য কোটা বেঁধে করে দেয় সৌদি আরব। কোন দেশ থেকে কতজন মক্কায় আসবেন, তা সৌদিকে আগে থেকে জানাতে হয়। কোটার মাধ্যমে আর্থিক সাহায্যও মেলে। সেই কোটার সুযোগে যাতে ভিক্ষুক কিংবা অপরাধীরা ঢুকে পড়তে না পারে সে বিষয়ে আগে থেকেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সৌদি আরব।

সূত্র: ডন

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জনপ্রিয়

সৌদিগামী প্লেন থেকে ১৬ ভিক্ষুক নামিয়ে নিলো পাকিস্তান

Update Time : ০১:২৬:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ অক্টোবর ২০২৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

পাকিস্তান থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে যাওয়া একটি প্লেন থেকে ১৬ জন ভিক্ষুককে নামিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির পাঞ্জাব প্রদেশের মুলতান বিমানবন্দর থেকে প্লেনে চেপে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের উদ্দেশে উড়ে যাচ্ছিলেন ওই ১৬ জন। তাদের প্রত্যেককেই নামিয়ে নেন পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ফেডেরাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এফআইএ) কর্মকর্তারা।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ১৬ জনের মধ্যে ১১ জন নারী, চার জন পুরুষ ও একটি শিশু ছিল। মূলত মূলত ওমরা পালন ও সে সুযোগে অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ হিসেবে ভিক্ষা করতে সৌদি আরব যাচ্ছিলেন তারা।
জানা গেছে, ভিক্ষুকের দলটি একটি ভ্রমণ সংস্থার এজেন্টকে এক লাখ ৮৫ হাজার পাকিস্তানি রুপি দিয়েছিল। জাভেদ নামের ওই এজেন্টই তাদের সৌদি আরবের ভিসার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন।
এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা বলেছে, প্লেন থেকে নামিয়ে দেওয়া সবার পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে। আইনি ব্যবস্থার জন্য তাদের মানবপাচার ও চোরাচালান বিরোধী শাখায় পাঠানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মানবপাচার আইন, ২০১৮-এর অধীনে মামলা হবে।
কিছুদিন আগেই আর্থিক সমস্যায় জর্জরিত পাকিস্তান সরকারকে হজযাত্রী বাছাইয়ের বিষয়ে কিছু পরামর্শ দিয়েছিল সৌদি সরকার। হজযাত্রায় কোটায় আবেদনকারীদের মনোনয়নের বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার কথা বলা হয় ওই বার্তায়। কোনোভাবেই যাতে ভিক্ষুক কিংবা পকেটমারের মতো অপরাধীরা হজের সুযোগ না পান, সে কথা স্পষ্ট জানিয়ে দেয় রিয়াদ।
আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে জানিয়ে পাকিস্তানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে সৌদি সরকার বলে, আমাদের কারাগারগুলো আপনাদের দেশের কয়েদিতে ভরে গেছে। আর জায়গা নেই। এর আগে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কমিটি জানায়, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভিক্ষুক অবৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সচিব জুলফিকার হায়দার বলেছিলেন, সৌদি আরব, ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য কয়েকটি দেশে আটক হওয়া ভিক্ষুকদের মধ্যে ৯০ শতাংশই পাকিস্তানের।
হজযাত্রীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে প্রতিটি দেশের জন্য কোটা বেঁধে করে দেয় সৌদি আরব। কোন দেশ থেকে কতজন মক্কায় আসবেন, তা সৌদিকে আগে থেকে জানাতে হয়। কোটার মাধ্যমে আর্থিক সাহায্যও মেলে। সেই কোটার সুযোগে যাতে ভিক্ষুক কিংবা অপরাধীরা ঢুকে পড়তে না পারে সে বিষয়ে আগে থেকেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সৌদি আরব।

সূত্র: ডন