Dhaka ০১:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেকলেস-চুলে রং পরিহারসহ ব্রাজিল ফুটবলারদের কঠোর নির্দেশনা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৫১:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪
  • 120


স্পোর্টস ডেস্ক
স্প্যানিশ ক্লাব জিরোনাতে খেলার সুবাদে জার্সির সঙ্গে মিলিয়ে গোলাপী রংয়ের চুলে খেলতে দেখা যায় ইয়ান কৌতোকে। কিন্তু সেটিতে বাধ সেধেছে ব্রাজিল জাতীয় দল। যদিও স্বদেশি ফুটবল ফেডারেশনের (সিবিএফ) আপত্তিতে তিনি চুলের রং করা অংশ ছেটে ফেলেছেন। সেই ইস্যু নিয়ে শুরু, এরপর ব্রাজিল জাতীয় দলের ফুটবলারদের শৃঙ্খলার মধ্যে রাখতে কোপা আমেরিকার আগমুহূর্তে একগাদা নির্দেশনা জারি করেছে সিবিএফ।
ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘ও গ্লোবো’ জানিয়েছে, ফুলব্যাক ইয়া কৌতোকে সিবিএফ চুলে রং না করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছিল। তাতে কোনো সমস্যা দেখেন না কৌতোও, সে কারণে কোনো যুক্তি না দেখিয়েই তিনি সেই অনুরোধ মেনে নিয়েছেন। এ ছাড়া কয়েকজন ফুটবলারের আচরণে নীতিমালা ভঙ্গ হতে পারে কিংবা স্পন্সর প্রতিষ্ঠান মনঃক্ষুণ্ন হতে পারে ভেবে বড় আকারে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে সিবিএফ।
ব্রাজিল ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির প্রণীত ‘রুলস অব কনডাক্ট’-এ দেওয়া নির্দেশনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে– মাঠের বাইরেও খেলোয়াড়দের ‘ইমেজের’ ব্যাপারে সচেতন থাকা, চটকদার কানের দুল, গলার মালা (নেকলেস) পরিহার করা, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিচক্ষণ হওয়া, আহারের সময় ফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকা (খাবারের শেষে ব্যবহার করা যাবে), স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের দেওয়া ক্যাপই পরিধান করা ইত্যাদি।
এ ছাড়াও নতুন এই নির্দেশনায় রয়েছে, হেডফোন ব্যবহার বা জোরাল মিউজিক শুনতে শুনতে স্টেডিয়ামে আসা থেকে বিরত থাকা, লকার রুমে খেলোয়াড়দের গান শোনা কিংবা (গেম) খেলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে না দেওয়া, অনুশীলন সূচি ও খাবারের বিষয়ে মনোযোগী হওয়া, সময়ানুবর্তী হওয়া এবং সিবিএফের পরিকল্পনাগুলোকে সম্মান করার নির্দেশনা। হেডফোন পরিহারসহ কিছু বিষয় আগে থেকেই ফিফা এবং লাতিন ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবলের নির্দেশনায়ও উল্লেখ ছিল।
নতুন নির্দেশনা বিশেষত চুলে রং না করা নিয়ে ইয়ান কৌতো জানান, ‘এটা (সিবিএফের) অনুরোধ ছিল। তারা আমাকে বলেছিল গোলাপি রং অসংযত ধরনের বা এরকম কিছু একটা জানায়। আমি এটা বিশ্বাস করি না, কিন্তু তাদের মতকে আমি শ্রদ্ধা করব। তারা আমাকে বলেছে ফেলে দিতে এবং আমি সেটাই করব। আমি মৌসুমজুড়েই গোলাপি রঙ করা চুল নিয়ে খেলেছি। এটা আসলে আমার পছন্দ। ভালোই চলছিল, মজার ছিল। বিষয়টি জিরোনায় ভিন্ন রকম ছিল, সেখানে অনেক মানুষ তাদের চুল রঙিন করে; এটা ফ্যাশনের মতো। এখানে, জাতীয় দলে সেই চক্রের শেষ। আমি কালো চুলের ইয়ান, তাতে কোনো কিছুই বদলাবে না। আমি আছি আগের মতোই।’
আগামী ২০ জুন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে পর্দা উঠবে কোপা আমেরিকার। যেখানে ৯বারের শিরোপাধারী ব্রাজিলের যাত্রা শুরু হবে আগামী ২৪ জুন থেকে। প্রথম ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ কোস্টারিকা। ‘ডি’ গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া ও প্যারাগুয়ে। তবে টুর্নামেন্টটি শুরুর আগমুহূর্তে ফুটবলারের জন্য কড়াকড়ি আরোপ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও শোনা যাচ্ছে। কারও কারও মতে এটি ফুটবলারদের ব্যক্তি স্বাধীনতাও লঙ্ঘন করবে।
তবে এমনটা মনে করে না সিবিএফ। বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, ‘সিবিএফ খেলোয়াড়দের স্বাধীনতা, বহুত্ব (পছন্দ), মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ব্যক্তি স্বাতন্ত্র বজায় রাখার নিশ্চয়তা দিচ্ছে। সবমিলিয়ে ব্রাজিল জাতীয় দলে যে কারও ব্যক্তিগত আচরণের দায়ভার সম্পূর্ণ তার নিজের। তাদের যেকোনো ধরনের মতামত, বিশ্বাস, লিঙ্গগত ধারণায় আমরা স্বাধীনতা দিই। একইসঙ্গে সিবিএফ প্রশাসন শুরু থেকে যেকোনো বর্ণবাদী ও অন্যায্য আচরণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আসছে।’

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জনপ্রিয়

নেকলেস-চুলে রং পরিহারসহ ব্রাজিল ফুটবলারদের কঠোর নির্দেশনা

Update Time : ০৭:৫১:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪


স্পোর্টস ডেস্ক
স্প্যানিশ ক্লাব জিরোনাতে খেলার সুবাদে জার্সির সঙ্গে মিলিয়ে গোলাপী রংয়ের চুলে খেলতে দেখা যায় ইয়ান কৌতোকে। কিন্তু সেটিতে বাধ সেধেছে ব্রাজিল জাতীয় দল। যদিও স্বদেশি ফুটবল ফেডারেশনের (সিবিএফ) আপত্তিতে তিনি চুলের রং করা অংশ ছেটে ফেলেছেন। সেই ইস্যু নিয়ে শুরু, এরপর ব্রাজিল জাতীয় দলের ফুটবলারদের শৃঙ্খলার মধ্যে রাখতে কোপা আমেরিকার আগমুহূর্তে একগাদা নির্দেশনা জারি করেছে সিবিএফ।
ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘ও গ্লোবো’ জানিয়েছে, ফুলব্যাক ইয়া কৌতোকে সিবিএফ চুলে রং না করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছিল। তাতে কোনো সমস্যা দেখেন না কৌতোও, সে কারণে কোনো যুক্তি না দেখিয়েই তিনি সেই অনুরোধ মেনে নিয়েছেন। এ ছাড়া কয়েকজন ফুটবলারের আচরণে নীতিমালা ভঙ্গ হতে পারে কিংবা স্পন্সর প্রতিষ্ঠান মনঃক্ষুণ্ন হতে পারে ভেবে বড় আকারে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে সিবিএফ।
ব্রাজিল ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির প্রণীত ‘রুলস অব কনডাক্ট’-এ দেওয়া নির্দেশনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে– মাঠের বাইরেও খেলোয়াড়দের ‘ইমেজের’ ব্যাপারে সচেতন থাকা, চটকদার কানের দুল, গলার মালা (নেকলেস) পরিহার করা, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিচক্ষণ হওয়া, আহারের সময় ফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকা (খাবারের শেষে ব্যবহার করা যাবে), স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের দেওয়া ক্যাপই পরিধান করা ইত্যাদি।
এ ছাড়াও নতুন এই নির্দেশনায় রয়েছে, হেডফোন ব্যবহার বা জোরাল মিউজিক শুনতে শুনতে স্টেডিয়ামে আসা থেকে বিরত থাকা, লকার রুমে খেলোয়াড়দের গান শোনা কিংবা (গেম) খেলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে না দেওয়া, অনুশীলন সূচি ও খাবারের বিষয়ে মনোযোগী হওয়া, সময়ানুবর্তী হওয়া এবং সিবিএফের পরিকল্পনাগুলোকে সম্মান করার নির্দেশনা। হেডফোন পরিহারসহ কিছু বিষয় আগে থেকেই ফিফা এবং লাতিন ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবলের নির্দেশনায়ও উল্লেখ ছিল।
নতুন নির্দেশনা বিশেষত চুলে রং না করা নিয়ে ইয়ান কৌতো জানান, ‘এটা (সিবিএফের) অনুরোধ ছিল। তারা আমাকে বলেছিল গোলাপি রং অসংযত ধরনের বা এরকম কিছু একটা জানায়। আমি এটা বিশ্বাস করি না, কিন্তু তাদের মতকে আমি শ্রদ্ধা করব। তারা আমাকে বলেছে ফেলে দিতে এবং আমি সেটাই করব। আমি মৌসুমজুড়েই গোলাপি রঙ করা চুল নিয়ে খেলেছি। এটা আসলে আমার পছন্দ। ভালোই চলছিল, মজার ছিল। বিষয়টি জিরোনায় ভিন্ন রকম ছিল, সেখানে অনেক মানুষ তাদের চুল রঙিন করে; এটা ফ্যাশনের মতো। এখানে, জাতীয় দলে সেই চক্রের শেষ। আমি কালো চুলের ইয়ান, তাতে কোনো কিছুই বদলাবে না। আমি আছি আগের মতোই।’
আগামী ২০ জুন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে পর্দা উঠবে কোপা আমেরিকার। যেখানে ৯বারের শিরোপাধারী ব্রাজিলের যাত্রা শুরু হবে আগামী ২৪ জুন থেকে। প্রথম ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ কোস্টারিকা। ‘ডি’ গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া ও প্যারাগুয়ে। তবে টুর্নামেন্টটি শুরুর আগমুহূর্তে ফুটবলারের জন্য কড়াকড়ি আরোপ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও শোনা যাচ্ছে। কারও কারও মতে এটি ফুটবলারদের ব্যক্তি স্বাধীনতাও লঙ্ঘন করবে।
তবে এমনটা মনে করে না সিবিএফ। বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, ‘সিবিএফ খেলোয়াড়দের স্বাধীনতা, বহুত্ব (পছন্দ), মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ব্যক্তি স্বাতন্ত্র বজায় রাখার নিশ্চয়তা দিচ্ছে। সবমিলিয়ে ব্রাজিল জাতীয় দলে যে কারও ব্যক্তিগত আচরণের দায়ভার সম্পূর্ণ তার নিজের। তাদের যেকোনো ধরনের মতামত, বিশ্বাস, লিঙ্গগত ধারণায় আমরা স্বাধীনতা দিই। একইসঙ্গে সিবিএফ প্রশাসন শুরু থেকে যেকোনো বর্ণবাদী ও অন্যায্য আচরণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আসছে।’