Dhaka ০২:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খুলনা সওজ’র হিসাবরক্ষকের বিলাসবহুল বাড়িসহ বিপুল অর্থ-সম্পত্তির সন্ধান

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:০৬:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০২২
  • 228

খুলনা প্রতিনিধিঃ

বেতন পান ২৫-৩০  হাজার টাকা । অথচ থাকেন বিলাসবহুল ভবনে। গড়েছেন ৫তলা ভবন। রয়েছে ফিক্সড ডিপোজিট, ডিপিএস । খুলনা খালিশপুরের মুজগুন্নী আবাসিক এলাকার বারো নম্বর সড়কে ঢুকলে দেখা মিলবে চোখ ধাঁধানো বহুতলবিশিষ্ট “কবি কুঞ্জ” নামক একটি বাড়ি। তিনি খুলনা সড়ক ও জনপদ বিভাগের বিভাগীয় হিসাব রক্ষক মোল্যা বাদশা মিয়া। সরকারি চাকরি পেয়ে রাতারাতি অঢেল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।

বাইরের ফটক দেখলে মনে হবে বাড়ির মালিক আমেরিকা অথবা ইউরোপ প্রবাসী কিংবা কোনো ধনাঢ্য ব্যবসায়ী। কিন্তু না , বিলাসবহুল এই বাড়িটি খুলনা সড়ক ও জনপদ’র হিসাবরক্ষক মোল্যা বাদশা মিয়ার। একজন হিসাবরক্ষক হয়ে কিভাবে এ বাড়ির মালিক হলেন তা ভাবনাতীত।

একটি বিশেষ সূত্রে জানা যায়,আন্ডার টেবিল বানিজ্যের আশায়  ঠিকাদারদের ফাইল আটকে মোটা অংকের টাকা দাবি করেন তিনি। টাকা দিলে তবেই স্বাক্ষর হবে ঠিকাদারদের বিলের ফাইলে। সম্প্রতি এ বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে কানাঘোষা হওয়ায় বাদশা মিয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
খালিশপুরের মুজগুন্নী এলাকায় কবি কুঞ্জ নামে একটি বহুতল বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করেন তিনি।  তার বিরুদ্ধে নামে – বেনামে  সম্পদ ও  ফিক্সড ডিপোজিট রিসিপ্ট (এফ ডি আর) ক্রয়ের তথ্য পাওয়া গেছে ।
পূর্বে বাদশা মিয়া খুলনা গনঃপূর্ত কার্যালয়ের হিসাবরক্ষক ছিলেন। অর্থ মন্ত্রনালয়ের অধীনে নিয়োগপ্রাপ্ত বাদশা মিয়া ডেপুটেশনের মাধ্যমে খুলনা গণপূর্তে হিসাব শাখায় বদলী হয়। পরবর্তীতে বদলী হন খুলনা সড়ক ও জনপদ কার্যালয়ে।
জানা যায়, গনপূর্ত কার্যালয়ে থাকাকালীন সময়ে ঠিকাদারদের নিকট থেকে অবৈধভাবে আদায় করেছেন বিপুল অর্থ।ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মালেক কন্সট্রাকশন (ছদ্মনাম) এর স্বত্তাধিকারী জানান, বিলে স্বাক্ষর করাতে হলে টাকা তো কিছু দেওয়াই লাগে। নইলে হয়রানী হওয়ার ভয় থাকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাক্তি জানান, বাদশা মিয়া কে টাকা না দিলে বিলের কপিতে স্বাক্ষর করেন না । তাকে মোট বিলের  নির্দিষ্ট পার্সেন্টে টাকা না দিলে স্বাক্ষর হয় না বিলে। তবে টাকা দিলে ঘোরাঘুরি করতে হয়না।

এছাড়া বিলের টাকা আটকে যাওয়ার ভয়ে অনেকেই সেসময় মুখ খুলতে সাহস পায়নি বলে জানান এক ঠিকাদার। বর্তমানে সড়ক ও জনপদ কার্যালয়ের বিভাগীয় হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত থেকেও একই অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।
এসকল বিষয়ে বাদশা মিয়ার নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন ” আমি একজন হাজী এবং কবি মনের মানুষ।তাছাড়া এ বাড়িটি নির্মাণ করা লোনের মাধ্যমে, এখন পর্যন্ত লোনের কিস্তি পরিশোধ করে আসছি। আমার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।একটি কুচক্রীমহল আমার সম্মানহানি করার জন্য এরুপ অপপ্রচার চালাচ্ছে ।”

এছাড়া সংবাদ সংগ্রহকালে রাজনৈতিক নেতাসহ একটি বিশেষ পরিবারের নাম ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে সংবাদ প্রচারে বাঁধাপ্রদানের চেষ্টা করেন এই বাদশা মিয়া।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

খুলনা সওজ’র হিসাবরক্ষকের বিলাসবহুল বাড়িসহ বিপুল অর্থ-সম্পত্তির সন্ধান

Update Time : ০১:০৬:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০২২

খুলনা প্রতিনিধিঃ

বেতন পান ২৫-৩০  হাজার টাকা । অথচ থাকেন বিলাসবহুল ভবনে। গড়েছেন ৫তলা ভবন। রয়েছে ফিক্সড ডিপোজিট, ডিপিএস । খুলনা খালিশপুরের মুজগুন্নী আবাসিক এলাকার বারো নম্বর সড়কে ঢুকলে দেখা মিলবে চোখ ধাঁধানো বহুতলবিশিষ্ট “কবি কুঞ্জ” নামক একটি বাড়ি। তিনি খুলনা সড়ক ও জনপদ বিভাগের বিভাগীয় হিসাব রক্ষক মোল্যা বাদশা মিয়া। সরকারি চাকরি পেয়ে রাতারাতি অঢেল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।

বাইরের ফটক দেখলে মনে হবে বাড়ির মালিক আমেরিকা অথবা ইউরোপ প্রবাসী কিংবা কোনো ধনাঢ্য ব্যবসায়ী। কিন্তু না , বিলাসবহুল এই বাড়িটি খুলনা সড়ক ও জনপদ’র হিসাবরক্ষক মোল্যা বাদশা মিয়ার। একজন হিসাবরক্ষক হয়ে কিভাবে এ বাড়ির মালিক হলেন তা ভাবনাতীত।

একটি বিশেষ সূত্রে জানা যায়,আন্ডার টেবিল বানিজ্যের আশায়  ঠিকাদারদের ফাইল আটকে মোটা অংকের টাকা দাবি করেন তিনি। টাকা দিলে তবেই স্বাক্ষর হবে ঠিকাদারদের বিলের ফাইলে। সম্প্রতি এ বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে কানাঘোষা হওয়ায় বাদশা মিয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
খালিশপুরের মুজগুন্নী এলাকায় কবি কুঞ্জ নামে একটি বহুতল বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করেন তিনি।  তার বিরুদ্ধে নামে – বেনামে  সম্পদ ও  ফিক্সড ডিপোজিট রিসিপ্ট (এফ ডি আর) ক্রয়ের তথ্য পাওয়া গেছে ।
পূর্বে বাদশা মিয়া খুলনা গনঃপূর্ত কার্যালয়ের হিসাবরক্ষক ছিলেন। অর্থ মন্ত্রনালয়ের অধীনে নিয়োগপ্রাপ্ত বাদশা মিয়া ডেপুটেশনের মাধ্যমে খুলনা গণপূর্তে হিসাব শাখায় বদলী হয়। পরবর্তীতে বদলী হন খুলনা সড়ক ও জনপদ কার্যালয়ে।
জানা যায়, গনপূর্ত কার্যালয়ে থাকাকালীন সময়ে ঠিকাদারদের নিকট থেকে অবৈধভাবে আদায় করেছেন বিপুল অর্থ।ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মালেক কন্সট্রাকশন (ছদ্মনাম) এর স্বত্তাধিকারী জানান, বিলে স্বাক্ষর করাতে হলে টাকা তো কিছু দেওয়াই লাগে। নইলে হয়রানী হওয়ার ভয় থাকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাক্তি জানান, বাদশা মিয়া কে টাকা না দিলে বিলের কপিতে স্বাক্ষর করেন না । তাকে মোট বিলের  নির্দিষ্ট পার্সেন্টে টাকা না দিলে স্বাক্ষর হয় না বিলে। তবে টাকা দিলে ঘোরাঘুরি করতে হয়না।

এছাড়া বিলের টাকা আটকে যাওয়ার ভয়ে অনেকেই সেসময় মুখ খুলতে সাহস পায়নি বলে জানান এক ঠিকাদার। বর্তমানে সড়ক ও জনপদ কার্যালয়ের বিভাগীয় হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত থেকেও একই অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।
এসকল বিষয়ে বাদশা মিয়ার নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন ” আমি একজন হাজী এবং কবি মনের মানুষ।তাছাড়া এ বাড়িটি নির্মাণ করা লোনের মাধ্যমে, এখন পর্যন্ত লোনের কিস্তি পরিশোধ করে আসছি। আমার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।একটি কুচক্রীমহল আমার সম্মানহানি করার জন্য এরুপ অপপ্রচার চালাচ্ছে ।”

এছাড়া সংবাদ সংগ্রহকালে রাজনৈতিক নেতাসহ একটি বিশেষ পরিবারের নাম ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে সংবাদ প্রচারে বাঁধাপ্রদানের চেষ্টা করেন এই বাদশা মিয়া।