ঈদ সামনে রেখে টুংটাং শব্দে মুখর খুলনার কামারপল্লী

আসন্ন ঈদুল আজহা ঘিরে এখন টুংটাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে খুলনার বিভিন্ন কামারপল্লী। ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে কামারদের ব্যস্ততা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আগুনে লোহা গরম করে হাতুড়ির আঘাতে তৈরি হচ্ছে দা, বঁটি, ছুরি, চাপাতিসহ কোরবানির প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর বিভিন্ন কামারপাড়ায় এখন চলছে পুরোদমে কাজ। আগুনের তাপে লাল হয়ে ওঠা লোহা পিটিয়ে তৈরি করা হচ্ছে নানা ধরনের লৌহজাত সামগ্রী। কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার জন্য প্রয়োজনীয় এসব সরঞ্জাম কিনতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন ক্রেতারা।

কামাররা জানান, সারা বছর তুলনামূলক কম কাজ থাকলেও কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে কয়েক গুণ বেড়ে যায় কাজের চাপ। এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় অর্ডারও বেশি পাচ্ছেন তারা। এতে কামারপল্লীতে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য।

নাজমুল হাসান বলেন, “১৯৮৮ সাল থেকে আমাদের পরিবার এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আগে বাবা এই কাজ করতেন, এখন আমি করছি। কোরবানির ঈদ এলেই কাজের চাপ বেড়ে যায়। তখন দিন-রাত পরিশ্রম করেও অর্ডার সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে।”

শ্যামল কর্মকার বলেন, “ঈদ সামনে এলেই আমাদের কাজের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে। অনেক ক্রেতাই আগেভাগে অর্ডার দিচ্ছেন।

তবে লোহা ও কয়লার দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো লাভ থাকে না। তারপরও পুরোনো এই পেশাকে টিকিয়ে রাখতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছি।”

কামাররা জানান, বর্তমানে দা ও বঁটি প্রতি কেজি ১ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের ছুড়ি ৬০ থেকে ৮০ টাকা পিস এবং চাপাতি প্রতি কেজি ৭০০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। পাশাপাশি পুরোনো দা-বঁটিতে ধার দেওয়ার কাজও চলছে সমানতালে।

কামারপল্লীতে সরঞ্জাম কিনতে আসা ক্রেতারা জানান, ঈদের কোরবানিকে কেন্দ্র করে ভালো মানের দা ও ছুরির চাহিদা বেড়েছে। দাম কিছুটা বেশি হলেও টেকসই জিনিস কেনার দিকেই ঝুঁকছেন তারা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বছরের অন্য সময় তুলনামূলক নিরব থাকলেও কোরবানির ঈদ সামনে এলেই প্রাণ ফিরে পায় কামারপল্লী। টুংটাং শব্দ, আগুনের ঝলকানি আর ব্যস্ত কর্মচাঞ্চল্যে জমে ওঠে পুরো এলাকা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জনপ্রিয়

ঈদ সামনে রেখে টুংটাং শব্দে মুখর খুলনার কামারপল্লী

Update Time : ০৬:৪৯:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

আসন্ন ঈদুল আজহা ঘিরে এখন টুংটাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে খুলনার বিভিন্ন কামারপল্লী। ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে কামারদের ব্যস্ততা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আগুনে লোহা গরম করে হাতুড়ির আঘাতে তৈরি হচ্ছে দা, বঁটি, ছুরি, চাপাতিসহ কোরবানির প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর বিভিন্ন কামারপাড়ায় এখন চলছে পুরোদমে কাজ। আগুনের তাপে লাল হয়ে ওঠা লোহা পিটিয়ে তৈরি করা হচ্ছে নানা ধরনের লৌহজাত সামগ্রী। কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার জন্য প্রয়োজনীয় এসব সরঞ্জাম কিনতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন ক্রেতারা।

কামাররা জানান, সারা বছর তুলনামূলক কম কাজ থাকলেও কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে কয়েক গুণ বেড়ে যায় কাজের চাপ। এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় অর্ডারও বেশি পাচ্ছেন তারা। এতে কামারপল্লীতে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য।

নাজমুল হাসান বলেন, “১৯৮৮ সাল থেকে আমাদের পরিবার এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আগে বাবা এই কাজ করতেন, এখন আমি করছি। কোরবানির ঈদ এলেই কাজের চাপ বেড়ে যায়। তখন দিন-রাত পরিশ্রম করেও অর্ডার সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে।”

শ্যামল কর্মকার বলেন, “ঈদ সামনে এলেই আমাদের কাজের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে। অনেক ক্রেতাই আগেভাগে অর্ডার দিচ্ছেন।

তবে লোহা ও কয়লার দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো লাভ থাকে না। তারপরও পুরোনো এই পেশাকে টিকিয়ে রাখতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছি।”

কামাররা জানান, বর্তমানে দা ও বঁটি প্রতি কেজি ১ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের ছুড়ি ৬০ থেকে ৮০ টাকা পিস এবং চাপাতি প্রতি কেজি ৭০০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। পাশাপাশি পুরোনো দা-বঁটিতে ধার দেওয়ার কাজও চলছে সমানতালে।

কামারপল্লীতে সরঞ্জাম কিনতে আসা ক্রেতারা জানান, ঈদের কোরবানিকে কেন্দ্র করে ভালো মানের দা ও ছুরির চাহিদা বেড়েছে। দাম কিছুটা বেশি হলেও টেকসই জিনিস কেনার দিকেই ঝুঁকছেন তারা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বছরের অন্য সময় তুলনামূলক নিরব থাকলেও কোরবানির ঈদ সামনে এলেই প্রাণ ফিরে পায় কামারপল্লী। টুংটাং শব্দ, আগুনের ঝলকানি আর ব্যস্ত কর্মচাঞ্চল্যে জমে ওঠে পুরো এলাকা।