করজোরে ক্ষমা চাইলেন পলক

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৩৬:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অগাস্ট ২০২৪
  • 176


প্রতিনিধি, নাটোর:
ইন্টারনেট ব্যাহত ও সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব প্রতিরোধে ব্যর্থতার দায় নিয়ে তরুণ প্রজন্মের কাছে করজোরে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। শুক্রবার (২ আগস্ট) বিকেলে নাটোরের সিংড়ায় নিজ বাসভবনে জাতীয় শোক দিবস স্মরণে সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভা, দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠানে তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
পলক বলেন, আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে তরুণ প্রজন্মের কাছে যদি ভুলত্রুটি হয়ে থাকে, তাহলে করজোরে প্রকাশ্যে ক্ষমাপ্রার্থনা করছি এবং ইন্টারনেট ব্যাহত হওয়া, সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব প্রতিরোধে ব্যর্থ হওয়া এ সকল কিছুর দায়, দায়িত্ব ও ব্যর্থতা আমি নিজের কাধে তুলে নিচ্ছি। সেইসাথে যে কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।
তিনি বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে দূরত্ব হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের দোষ নেই, এই দোষ আমাদের। এই দায় আমাদের, আমরা যারা দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছি। এই ব্যর্থতা আমাদের এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
পলক বলেন, আমাদের দেশে ৫ কোটি ছাত্রছাত্রী রয়েছেন। আমাদের যদি কোনো ভুল হয়, অপরাধ হয়, তাহলে সে ভুলের শাস্তি বা সংশোধনের সুযোগ আপনারা আমাদেরকে দেবেন। দয়া করে আপনারা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ভুল বুঝবেন না। শেখ হাসিনা যদি নিরাপদ না থাকে, তাহলে বাংলাদেশ নিরাপদ থাকবে না।
তিনি বলেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যদি গুজব প্রতিরোধে ব্যর্থ হই, সাইবার নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হই, তাহলে আমার আওয়ামী লীগের, ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতাকর্মীরা আপনারা আমাকে দোষারোপ করেন। আমাকে শাস্তি দেন।
পলক বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে এই ব্যর্থতা আমারও। আমার নির্বাচনী এলাকার ৮৫ হাজার ছাত্রছাত্রী তারা রাজপথে না নামলেও তারা সোশ্যাল মিডিয়াতে তাদের মতামত দিচ্ছে, আবেগ-অনুভূতি প্রকাশ করছে। সরকারের প্রতি আমাদের প্রতি তাদের মনোভাব প্রকাশ করছে। এখন আমরা যদি মনে করি এর জন্য তারা ( শিক্ষার্থীরা) দায়ী এটা ঠিক হবে না। আমাদের সন্তানেরা যারা হাইস্কুলে, কলেজে , বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে তাদের চোখের ভাষা বুঝতে হবে। তাদের মনের কথা শুনতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, কখনো তাদের প্রতি কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে সমাধান করা সম্ভব নয়। আমরা যদি তাদের প্রতি সংবেদনশীল হই, তাদের প্রতি স্নেহ মমতা নিয়ে তাদের সাথে বসে কথা শুনি তাহলে আমার বিশ্বাস এই ভুল বোঝাবুঝি শেষ হবে।
এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওহিদুল ইসলাম, সিংড়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

করজোরে ক্ষমা চাইলেন পলক

Update Time : ০৮:৩৬:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অগাস্ট ২০২৪


প্রতিনিধি, নাটোর:
ইন্টারনেট ব্যাহত ও সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব প্রতিরোধে ব্যর্থতার দায় নিয়ে তরুণ প্রজন্মের কাছে করজোরে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। শুক্রবার (২ আগস্ট) বিকেলে নাটোরের সিংড়ায় নিজ বাসভবনে জাতীয় শোক দিবস স্মরণে সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভা, দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠানে তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
পলক বলেন, আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে তরুণ প্রজন্মের কাছে যদি ভুলত্রুটি হয়ে থাকে, তাহলে করজোরে প্রকাশ্যে ক্ষমাপ্রার্থনা করছি এবং ইন্টারনেট ব্যাহত হওয়া, সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব প্রতিরোধে ব্যর্থ হওয়া এ সকল কিছুর দায়, দায়িত্ব ও ব্যর্থতা আমি নিজের কাধে তুলে নিচ্ছি। সেইসাথে যে কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।
তিনি বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে দূরত্ব হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের দোষ নেই, এই দোষ আমাদের। এই দায় আমাদের, আমরা যারা দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছি। এই ব্যর্থতা আমাদের এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
পলক বলেন, আমাদের দেশে ৫ কোটি ছাত্রছাত্রী রয়েছেন। আমাদের যদি কোনো ভুল হয়, অপরাধ হয়, তাহলে সে ভুলের শাস্তি বা সংশোধনের সুযোগ আপনারা আমাদেরকে দেবেন। দয়া করে আপনারা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ভুল বুঝবেন না। শেখ হাসিনা যদি নিরাপদ না থাকে, তাহলে বাংলাদেশ নিরাপদ থাকবে না।
তিনি বলেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যদি গুজব প্রতিরোধে ব্যর্থ হই, সাইবার নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হই, তাহলে আমার আওয়ামী লীগের, ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতাকর্মীরা আপনারা আমাকে দোষারোপ করেন। আমাকে শাস্তি দেন।
পলক বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে এই ব্যর্থতা আমারও। আমার নির্বাচনী এলাকার ৮৫ হাজার ছাত্রছাত্রী তারা রাজপথে না নামলেও তারা সোশ্যাল মিডিয়াতে তাদের মতামত দিচ্ছে, আবেগ-অনুভূতি প্রকাশ করছে। সরকারের প্রতি আমাদের প্রতি তাদের মনোভাব প্রকাশ করছে। এখন আমরা যদি মনে করি এর জন্য তারা ( শিক্ষার্থীরা) দায়ী এটা ঠিক হবে না। আমাদের সন্তানেরা যারা হাইস্কুলে, কলেজে , বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে তাদের চোখের ভাষা বুঝতে হবে। তাদের মনের কথা শুনতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, কখনো তাদের প্রতি কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে সমাধান করা সম্ভব নয়। আমরা যদি তাদের প্রতি সংবেদনশীল হই, তাদের প্রতি স্নেহ মমতা নিয়ে তাদের সাথে বসে কথা শুনি তাহলে আমার বিশ্বাস এই ভুল বোঝাবুঝি শেষ হবে।
এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওহিদুল ইসলাম, সিংড়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।