খুলনা মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র ডাকবাংলা মোড়ে প্রকাশ্যে গুলিতে নিহত হয়েছেন রূপসা–বাগেরহাট আন্তঃজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও শ্রমিক দল নেতা মো. মাসুম বিল্লাহ (৫২)।
বুধবার (৪ মার্চ) রাত সোয়া ৯টার দিকে বাটার শোরুমের সামনে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে অশোক ঘোষ নামে এক ব্যক্তিকে একটি বিদেশি পিস্তলসহ আটক করেছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত মিনহাজ উদ্দিন মৌলভীর ছেলে মাসুম বিল্লাহ স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে ঈদের কেনাকাটার উদ্দেশ্যে নগরীতে আসেন। কেনাকাটা শেষে বাড়ি ফেরার পথে ডাকবাংলা মোড়ে পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তার ওপর হামলা চালায়।
প্রথমে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। প্রাণ বাঁচাতে তিনি পাশের একটি জুতার দোকানে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করলে সেখানেই তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি শুরু করে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি সূত্র জানায়, পালিয়ে যাওয়ার সময় অশোক ঘোষ নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্রটি হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে কিনা, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে বলেও দাবি পুলিশের।
নিহত মাসুম বিল্লাহ বাংলাদেশ শ্রমিক দল-এর রূপসা উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতি এবং রূপসা–বাগেরহাট আন্তঃজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ছিলেন। শ্রমিক রাজনীতিতে তিনি দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের পর তার পরিবারের আরেকটি আলোচিত ঘটনার প্রসঙ্গও সামনে এসেছে। মাসুম বিল্লাহর বড় ভাই, নৈহাটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল ওরফে মিনা কামাল, ২০২০ সালের ৩০ জুলাই র্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। সে সময় ঘটনাটি খুলনা জুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।
বর্তমান হত্যাকাণ্ডের পেছনে পূর্ব শত্রুতা, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব নাকি আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কোনো বিরোধ কাজ করেছে—তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ জানিয়েছে, মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু জানাতে রাজি হননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
স্টাফ রিপোর্টার 























