আজহারী-তাসনিম জারার নামে ভুয়া বিজ্ঞাপনে ঔষধ বিক্রি, গ্রেফতার ১০

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০১:০৩:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • 5

প্রযুক্তির মাধ্যমে কণ্ঠ ও চেহারা নকল করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে ড. মিজানুর রহমান আজহারী, ডা. তাসনিম জারা ও ডা. জাহাঙ্গীর কবিরসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ভুয়া বিজ্ঞাপন তৈরি করে যৌন উত্তেজক ঔষধ বিক্রি করে আসছিল গ্রেফতার চক্রটির সদস্যরা।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ড. মিজানুর রহমান আজহারী সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ভুয়া বিজ্ঞাপন তৈরি করে যৌন উত্তেজক ঔষধ বিক্রয়ের সাথে জড়িত চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পল্টন মডেল থানা পুলিশ।

গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন শেরশাহ কলোনী এলাকা থেকে ৯ অভিযুক্তদের ও শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে মোহাম্মদপুর থানাধীন চন্দ্রিমা মডেল টাউনস্থ এভিনিউ-১ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মো. ইমরানকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতাররা হলেন- মো. সারাফাত হোসেন (২১), সাফায়েত হোসেন শুভ (২১), তৌকি তাজওয়ার ইলহাম (১৯), তাকিবুল হাসান (২১), আব্দুল্লাহ আল ফাহিম (২২), মিনহাজুর রহমান শাহেদ (১৯), শাহামান তৌফিক (২১), ইমন হোসেন বিজয় (২১), অমিদ হাসান (২১) ও মো. ইমরান (২৪)। গ্রেফতারের সময় তাদের থেকে ১১ টি ল্যাপটপ, ৪৭ টি স্মার্ট মোবাইলফোন, দুইটি পেনড্রাইভ, ২১ সিম ও বিপুল পরিমাণে যৌন উত্তেজক অবৈধ ঔষধ উদ্ধার করা হয়।

মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি, যখন ভুক্তভোগী জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারী প্রথম এসব ভুয়া ভিডিও দেখতে পান। পরে তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সতর্কতামূলক পোস্ট দেন। পরবর্তীতে চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি পল্টন মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

তিনি বলেন, জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারীর নাম, ছবি, কণ্ঠস্বর ও ভিডিও ব্যবহার করে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও ডিপফেক প্রযুক্তির মাধ্যমে ভুয়া প্রচারণা চালিয়ে প্রতারণার অভিযোগে একাধিক ফেসবুক পেজ, আইডি ও ওয়েবসাইটের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীর পক্ষে বিল্লাল হোসেন (৫৭) এর অভিযোগের প্রেক্ষিতে পল্টন থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

উপ-পুলিশ কমিশনার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই চক্র ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভুয়া ভিডিও তৈরি করে ভেষজ ওষুধসহ বিভিন্ন পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করে আসছে। এসব ভিডিও এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন ড. আজহারী নিজেই পণ্যগুলোর প্রচার করছেন, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার কণ্ঠ ও চেহারা নকল করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সুনাম ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।

তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতাররা অসাধু চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ড. মিজানুর রহমান আজহারী, ডা. তাসনিম জারা ও ডা. জাহাঙ্গীর কবিরসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ভুয়া বিজ্ঞাপন তৈরি করে যৌন উত্তেজক ঔষধ বিক্রয়ের সাথে জড়িত মর্মে স্বীকার করেছে। গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

আজহারী-তাসনিম জারার নামে ভুয়া বিজ্ঞাপনে ঔষধ বিক্রি, গ্রেফতার ১০

Update Time : ০১:০৩:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

প্রযুক্তির মাধ্যমে কণ্ঠ ও চেহারা নকল করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে ড. মিজানুর রহমান আজহারী, ডা. তাসনিম জারা ও ডা. জাহাঙ্গীর কবিরসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ভুয়া বিজ্ঞাপন তৈরি করে যৌন উত্তেজক ঔষধ বিক্রি করে আসছিল গ্রেফতার চক্রটির সদস্যরা।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ড. মিজানুর রহমান আজহারী সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ভুয়া বিজ্ঞাপন তৈরি করে যৌন উত্তেজক ঔষধ বিক্রয়ের সাথে জড়িত চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পল্টন মডেল থানা পুলিশ।

গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন শেরশাহ কলোনী এলাকা থেকে ৯ অভিযুক্তদের ও শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে মোহাম্মদপুর থানাধীন চন্দ্রিমা মডেল টাউনস্থ এভিনিউ-১ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মো. ইমরানকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতাররা হলেন- মো. সারাফাত হোসেন (২১), সাফায়েত হোসেন শুভ (২১), তৌকি তাজওয়ার ইলহাম (১৯), তাকিবুল হাসান (২১), আব্দুল্লাহ আল ফাহিম (২২), মিনহাজুর রহমান শাহেদ (১৯), শাহামান তৌফিক (২১), ইমন হোসেন বিজয় (২১), অমিদ হাসান (২১) ও মো. ইমরান (২৪)। গ্রেফতারের সময় তাদের থেকে ১১ টি ল্যাপটপ, ৪৭ টি স্মার্ট মোবাইলফোন, দুইটি পেনড্রাইভ, ২১ সিম ও বিপুল পরিমাণে যৌন উত্তেজক অবৈধ ঔষধ উদ্ধার করা হয়।

মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি, যখন ভুক্তভোগী জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারী প্রথম এসব ভুয়া ভিডিও দেখতে পান। পরে তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সতর্কতামূলক পোস্ট দেন। পরবর্তীতে চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি পল্টন মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

তিনি বলেন, জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারীর নাম, ছবি, কণ্ঠস্বর ও ভিডিও ব্যবহার করে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও ডিপফেক প্রযুক্তির মাধ্যমে ভুয়া প্রচারণা চালিয়ে প্রতারণার অভিযোগে একাধিক ফেসবুক পেজ, আইডি ও ওয়েবসাইটের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীর পক্ষে বিল্লাল হোসেন (৫৭) এর অভিযোগের প্রেক্ষিতে পল্টন থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

উপ-পুলিশ কমিশনার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই চক্র ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভুয়া ভিডিও তৈরি করে ভেষজ ওষুধসহ বিভিন্ন পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করে আসছে। এসব ভিডিও এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন ড. আজহারী নিজেই পণ্যগুলোর প্রচার করছেন, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার কণ্ঠ ও চেহারা নকল করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সুনাম ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।

তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতাররা অসাধু চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ড. মিজানুর রহমান আজহারী, ডা. তাসনিম জারা ও ডা. জাহাঙ্গীর কবিরসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ভুয়া বিজ্ঞাপন তৈরি করে যৌন উত্তেজক ঔষধ বিক্রয়ের সাথে জড়িত মর্মে স্বীকার করেছে। গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।