ইরান যুদ্ধ : ২০২২ সালের পর তেলের সর্বোচ্চ দাম দেখছে এশিয়া

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০১:৩৭:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • 11

ইরান যুদ্ধ এবং তার জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের মতো এশিয়া অঞ্চলেও অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে। বর্তমানে এশিয়ায় যে দামে তেল বিক্রি হচ্ছে— তা গত চার বছরের রেকর্ড ছাড়িয়েছে।

অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দু’টি বেঞ্চমার্ক আছে— ব্রেন্ট ক্রুড এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)। এশিয়ার দেশগুলো ব্রেন্ট ক্রুডের গ্রাহক।

আজ বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, এশিয়ার বাজারে প্রতি ব্যারেল (১৫৯ লিটার) ব্রেন্ট ক্রুড বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১২৬ ডলারে, যা যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতির তুলনায় শতকরা ৭ শতাংশ বেশি।

এর আগে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানি তেলের দামে এমন উল্লম্ফন দেখেছিল এশিয়া। তবে সেবারও শতকরা ৭ শতাংশ দাম বৃদ্ধির ঘটনা দেখা যায়নি।

উল্লেখ্য, আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্ত করা ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি জ্বালানি পণ্যের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য খুবিই গুরুত্বপূর্ণ রুট। এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের এক পঞ্চমাংশ জ্বালানি পণ্য বহন করা হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করে ইরান। তারপর থেকেই এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। ফলে এশিয়াসহ বিশ্বের প্রায় সবজাগায় জ্বালানি পণ্যের মূল্য বাড়ছে।

ব্রেন্ট ক্রুডের চাহিদা বেশি থাকায় এই তেলের দাম বৃদ্ধির হার বেশি। তবে ডব্লিউটিআইও ‘পিছিয়ে নেই’। বিবিসির তথ্য অনুসারে, যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতির তুলনায় বর্তমানে প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআই বিক্রি হচ্ছে ১১৩ ডলারে, যা যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতির তুলনায় ২ শতাংশ বেশি।

সূত্র : বিবিসি

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

ইরান যুদ্ধ : ২০২২ সালের পর তেলের সর্বোচ্চ দাম দেখছে এশিয়া

Update Time : ০১:৩৭:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

ইরান যুদ্ধ এবং তার জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের মতো এশিয়া অঞ্চলেও অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে। বর্তমানে এশিয়ায় যে দামে তেল বিক্রি হচ্ছে— তা গত চার বছরের রেকর্ড ছাড়িয়েছে।

অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দু’টি বেঞ্চমার্ক আছে— ব্রেন্ট ক্রুড এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)। এশিয়ার দেশগুলো ব্রেন্ট ক্রুডের গ্রাহক।

আজ বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, এশিয়ার বাজারে প্রতি ব্যারেল (১৫৯ লিটার) ব্রেন্ট ক্রুড বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১২৬ ডলারে, যা যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতির তুলনায় শতকরা ৭ শতাংশ বেশি।

এর আগে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানি তেলের দামে এমন উল্লম্ফন দেখেছিল এশিয়া। তবে সেবারও শতকরা ৭ শতাংশ দাম বৃদ্ধির ঘটনা দেখা যায়নি।

উল্লেখ্য, আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্ত করা ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি জ্বালানি পণ্যের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য খুবিই গুরুত্বপূর্ণ রুট। এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের এক পঞ্চমাংশ জ্বালানি পণ্য বহন করা হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করে ইরান। তারপর থেকেই এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। ফলে এশিয়াসহ বিশ্বের প্রায় সবজাগায় জ্বালানি পণ্যের মূল্য বাড়ছে।

ব্রেন্ট ক্রুডের চাহিদা বেশি থাকায় এই তেলের দাম বৃদ্ধির হার বেশি। তবে ডব্লিউটিআইও ‘পিছিয়ে নেই’। বিবিসির তথ্য অনুসারে, যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতির তুলনায় বর্তমানে প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআই বিক্রি হচ্ছে ১১৩ ডলারে, যা যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতির তুলনায় ২ শতাংশ বেশি।

সূত্র : বিবিসি