গুরুতর আহত মোজতবা খামেনির প্লাস্টিক সার্জারি প্রয়োজন হতে পারে

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০১:৫৮:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • 125

ইরানের রাজনৈতিক ও ক্ষমতার কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত অবস্থায় থাকায় রাষ্ট্র পরিচালনার ভার কার্যত চলে গেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি)–এর শীর্ষ জেনারেলদের হাতে।

নিউইয়র্ক টাইমস–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মোজতবার বাবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। ওই হামলায় মোজতবা নিজেও মারাত্মক আহত হন এবং তার স্ত্রী ও ছেলেও নিহত হন। এরপর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। বর্তমানে তার সঙ্গে যোগাযোগ কঠোরভাবে সীমিত; কেবল চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মীরাই তার কাছে প্রবেশের অনুমতি পাচ্ছেন।

নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতারাও তার সঙ্গে সরাসরি দেখা এড়িয়ে চলছেন, যাতে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাকে লক্ষ্য করে নতুন হামলার সুযোগ না তৈরি হয়। তার চিকিৎসা তত্ত্বাবধান করছেন ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, যিনি নিজেও একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোজতবার অবস্থা গুরুতর। একটি পায়ে তিনবার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং সেখানে প্রস্থেটিক বা কৃত্রিম পা লাগানো হবে। তার একটি হাতেও অস্ত্রোপচার হয়েছে, যা ধীরে ধীরে কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে পাচ্ছে। তবে তার মুখ ও ঠোঁট মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় কথা বলা কঠিন, এমনকি প্লাস্টিক সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

কর্মকর্তাদের দাবি, মোজতবা মানসিকভাবে সতর্ক ও সক্রিয় আছেন। দুর্বলতা প্রকাশ না করতে তিনি মৌখিক বক্তব্য এড়িয়ে চলছেন এবং কেবল লিখিত বার্তার মাধ্যমে নির্দেশনা দিচ্ছেন।

এই বাস্তবতায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়েছে রেভল্যুশনারি গার্ডসের জেনারেলদের মধ্যে। সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের ঘনিষ্ঠ এবং মোজতবার পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আব্দোলরেজা দাভারি বলেন, মোজতবা এখন বোর্ডের চেয়ারম্যানের মতো ভূমিকা পালন করছেন, আর জেনারেলরাই বোর্ড সদস্য হিসেবে সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

ইরানের নির্বাচিত সরকার এ সময় অনেকটাই পাশে সরে গেছে। প্রেসিডেন্ট ও তার মন্ত্রিসভাকে মূলত অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা রক্ষা, খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত এবং দৈনন্দিন প্রশাসন চালানোর দায়িত্বে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।

পররাষ্ট্র নীতিতেও পরিবর্তন এসেছে। আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এখন তুলনামূলকভাবে প্রান্তিক, আর সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বিদেশি সম্পৃক্ততায় বেশি প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বর্তমান ক্ষমতার ভারসাম্য স্পষ্টভাবে সামরিক প্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। আর আপাতত সেই শক্ত অবস্থানে বড় কোনো ভাঙনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে শপথ নিলেন খলিলুর রহমান

গুরুতর আহত মোজতবা খামেনির প্লাস্টিক সার্জারি প্রয়োজন হতে পারে

Update Time : ০১:৫৮:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের রাজনৈতিক ও ক্ষমতার কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত অবস্থায় থাকায় রাষ্ট্র পরিচালনার ভার কার্যত চলে গেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি)–এর শীর্ষ জেনারেলদের হাতে।

নিউইয়র্ক টাইমস–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মোজতবার বাবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। ওই হামলায় মোজতবা নিজেও মারাত্মক আহত হন এবং তার স্ত্রী ও ছেলেও নিহত হন। এরপর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। বর্তমানে তার সঙ্গে যোগাযোগ কঠোরভাবে সীমিত; কেবল চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মীরাই তার কাছে প্রবেশের অনুমতি পাচ্ছেন।

নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতারাও তার সঙ্গে সরাসরি দেখা এড়িয়ে চলছেন, যাতে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাকে লক্ষ্য করে নতুন হামলার সুযোগ না তৈরি হয়। তার চিকিৎসা তত্ত্বাবধান করছেন ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, যিনি নিজেও একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোজতবার অবস্থা গুরুতর। একটি পায়ে তিনবার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং সেখানে প্রস্থেটিক বা কৃত্রিম পা লাগানো হবে। তার একটি হাতেও অস্ত্রোপচার হয়েছে, যা ধীরে ধীরে কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে পাচ্ছে। তবে তার মুখ ও ঠোঁট মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় কথা বলা কঠিন, এমনকি প্লাস্টিক সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

কর্মকর্তাদের দাবি, মোজতবা মানসিকভাবে সতর্ক ও সক্রিয় আছেন। দুর্বলতা প্রকাশ না করতে তিনি মৌখিক বক্তব্য এড়িয়ে চলছেন এবং কেবল লিখিত বার্তার মাধ্যমে নির্দেশনা দিচ্ছেন।

এই বাস্তবতায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়েছে রেভল্যুশনারি গার্ডসের জেনারেলদের মধ্যে। সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের ঘনিষ্ঠ এবং মোজতবার পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আব্দোলরেজা দাভারি বলেন, মোজতবা এখন বোর্ডের চেয়ারম্যানের মতো ভূমিকা পালন করছেন, আর জেনারেলরাই বোর্ড সদস্য হিসেবে সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

ইরানের নির্বাচিত সরকার এ সময় অনেকটাই পাশে সরে গেছে। প্রেসিডেন্ট ও তার মন্ত্রিসভাকে মূলত অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা রক্ষা, খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত এবং দৈনন্দিন প্রশাসন চালানোর দায়িত্বে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।

পররাষ্ট্র নীতিতেও পরিবর্তন এসেছে। আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এখন তুলনামূলকভাবে প্রান্তিক, আর সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বিদেশি সম্পৃক্ততায় বেশি প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বর্তমান ক্ষমতার ভারসাম্য স্পষ্টভাবে সামরিক প্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। আর আপাতত সেই শক্ত অবস্থানে বড় কোনো ভাঙনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।