এ বছর স্থানীয় সরকার নির্বাচন হচ্ছে না, ধারণা প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৩:৪৬:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 8

চলতি বছর স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন না স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তাঁর ধারণা, আগামী বছর থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া শুরু করবে নির্বাচন কমিশন।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনো নির্ধারণ করেনি নির্বাচন কমিশন। কমিশন জানিয়েছে, আগামী ৬ জুনের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো শেষ করতে চায় তারা। সে হিসেবে চলতি বছরে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন না তিনি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে মীর শাহে আলম বলেন, সরকারকে না জানিয়েই নির্বাচন কমিশন প্রথমে একটি তারিখ ঘোষণা করেছিল। পরে বিষয়টি তুলে ধরার পর কমিশন সচিব পর্যায়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করে। বৈঠকের পর কমিশন জানিয়েছে, আগামী ৬ জুনের মধ্যে নির্বাচন শুরু ও শেষ করা হবে।

তিনি বলেন, রমজান, এসএসসি পরীক্ষা ও ডিসেম্বরের বার্ষিক পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করেই নির্বাচন কমিশন এ সময়সীমা নির্ধারণ করে থাকতে পারে। কারণ, সাধারণত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে নির্বাচন কমিশন ঠিক কবে ভোট শুরু ও শেষ করবে এবং মোট কত টাকা ব্যয় হবে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো সরকারকে জানায়নি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশনকেই নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ করতে হবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সচিবরা এ বিষয়ে বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। প্রয়োজন হলে তারা আবারও বৈঠক করবেন।

নির্বাচনের জন্য অর্থ বরাদ্দের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন প্রাথমিক হিসাবে পাঁচটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছে। সরকারও মোটামুটি ওই পরিমাণ অর্থ বরাদ্দের ব্যবস্থা রেখেছে। তবে প্রকৃত ব্যয় কিছুটা কমবেশি হতে পারে।

মীর শাহে আলম জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রায় ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা এবং উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রায় ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। এ দুটি নির্বাচনেই মূলত বেশি ব্যয় হবে। এ ছাড়া ৩৩০টি পৌরসভা ও ১৩টি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনেও ব্যয় হবে, তবে তুলনামূলকভাবে তা কম।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী চলতি বছরে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না। আগামী ৬ জুনের মধ্যে নির্বাচন শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করায় তাঁর ধারণা, আগামী বছর থেকেই নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কমিশন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলতি মাসের শেষ দিকে অথবা অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন কমিশন আবার বৈঠক করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সেখানে সরকারের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকবেন।

নির্বাচন কখন শুরু হবে—এ বিষয়ে সরকারের কোনো পরামর্শ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। সরকারের চাওয়া হলো, নির্ধারিত অর্থবছরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো শেষ করা। তবে নির্বাচন শুরুর সময় সরকার নির্ধারণ করবে না।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করবে। তাই সরকার থেকে নির্বাচনের শুরুর সময় বলে দেওয়া হলে কমিশন বিব্রত হতে পারে। ফলে কবে থেকে নির্বাচন শুরু হবে, সেটি কমিশনকেই ঠিক করতে হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

এ বছর স্থানীয় সরকার নির্বাচন হচ্ছে না, ধারণা প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের

এ বছর স্থানীয় সরকার নির্বাচন হচ্ছে না, ধারণা প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের

Update Time : ০৩:৪৬:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চলতি বছর স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন না স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তাঁর ধারণা, আগামী বছর থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া শুরু করবে নির্বাচন কমিশন।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনো নির্ধারণ করেনি নির্বাচন কমিশন। কমিশন জানিয়েছে, আগামী ৬ জুনের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো শেষ করতে চায় তারা। সে হিসেবে চলতি বছরে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন না তিনি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে মীর শাহে আলম বলেন, সরকারকে না জানিয়েই নির্বাচন কমিশন প্রথমে একটি তারিখ ঘোষণা করেছিল। পরে বিষয়টি তুলে ধরার পর কমিশন সচিব পর্যায়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করে। বৈঠকের পর কমিশন জানিয়েছে, আগামী ৬ জুনের মধ্যে নির্বাচন শুরু ও শেষ করা হবে।

তিনি বলেন, রমজান, এসএসসি পরীক্ষা ও ডিসেম্বরের বার্ষিক পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করেই নির্বাচন কমিশন এ সময়সীমা নির্ধারণ করে থাকতে পারে। কারণ, সাধারণত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে নির্বাচন কমিশন ঠিক কবে ভোট শুরু ও শেষ করবে এবং মোট কত টাকা ব্যয় হবে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো সরকারকে জানায়নি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশনকেই নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ করতে হবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সচিবরা এ বিষয়ে বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। প্রয়োজন হলে তারা আবারও বৈঠক করবেন।

নির্বাচনের জন্য অর্থ বরাদ্দের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন প্রাথমিক হিসাবে পাঁচটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছে। সরকারও মোটামুটি ওই পরিমাণ অর্থ বরাদ্দের ব্যবস্থা রেখেছে। তবে প্রকৃত ব্যয় কিছুটা কমবেশি হতে পারে।

মীর শাহে আলম জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রায় ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা এবং উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রায় ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। এ দুটি নির্বাচনেই মূলত বেশি ব্যয় হবে। এ ছাড়া ৩৩০টি পৌরসভা ও ১৩টি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনেও ব্যয় হবে, তবে তুলনামূলকভাবে তা কম।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী চলতি বছরে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না। আগামী ৬ জুনের মধ্যে নির্বাচন শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করায় তাঁর ধারণা, আগামী বছর থেকেই নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কমিশন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলতি মাসের শেষ দিকে অথবা অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন কমিশন আবার বৈঠক করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সেখানে সরকারের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকবেন।

নির্বাচন কখন শুরু হবে—এ বিষয়ে সরকারের কোনো পরামর্শ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। সরকারের চাওয়া হলো, নির্ধারিত অর্থবছরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো শেষ করা। তবে নির্বাচন শুরুর সময় সরকার নির্ধারণ করবে না।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করবে। তাই সরকার থেকে নির্বাচনের শুরুর সময় বলে দেওয়া হলে কমিশন বিব্রত হতে পারে। ফলে কবে থেকে নির্বাচন শুরু হবে, সেটি কমিশনকেই ঠিক করতে হবে।