ইসরায়েলকে ড. ইউনূসের ১০০০ কোটি টাকা দেওয়ার তথ্য ভুয়া : প্রেস উইং ফ্যাক্ট

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০২:১৫:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৫
  • 180

ইসরায়েলকে এক হাজার কোটি টাকা সহায়তা দিয়েছেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। যিনি বর্তমানে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা।

সম্প্রতি মুফতি আলাউদ্দিন জিহাদী নামের একজন বক্তা কোনো এক বয়ানে এমনটা দাবি করেছেন। তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

তবে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং বলছে, ড. ইউনূস ইসরায়েলকে টাকা দেওয়ার তথ্যটি ভুয়া। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের ফ্যাক্ট বিভাগ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রেস উইং দাবি করেছে, ওই মুফতির ভুয়া বক্তব্য আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা প্রচার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। এ ধরনের মিথ্যা ও বানোয়াট প্রচারণা মূলত প্রফেসর ইউনূস ও তার নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে চলমান যে সংঘবদ্ধ ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার তারই অংশ।

স্বতন্ত্র ফ‍্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, প্রফেসর ইউনূসের প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ আমেরিকার ইসরায়েলকে এক কোটি ডলারের সহায়তার বিষয়টি নিয়ে সর্বপ্রথম ২০২৩ সালের অক্টোবর বাংলা ইনসাইডার নামক একটি অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত হয়। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে তা আরো কিছু অনলাইন পোর্টাল ও পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এই দাবিটি ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে অনুসন্ধান করে ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমার স্ক্যানার।

তাদের অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৩ সালের অক্টোবরে যখন ফিলিস্তিনিদের মধ্যে হামলার ভয়াবহতা শুরু হয়, সে সময়ই বাংলাদেশে প্রচার হতে শুরু করে, ইসরায়েলকে ১০০ কোটি টাকা সহায়তা দিয়েছেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

অনুসন্ধানে জানা যায়, আওয়ামী লীগের প্রোপাগান্ডা সাইট হিসেবে পরিচিত অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা ইনসাইডারের সে বছরের ১৩ অক্টোবরের একটি প্রতিবেদন থেকে আলোচিত দাবিটি ছড়িয়ে পড়ে। ওই প্রতিবেদনে দাবিটির পক্ষে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতির বিষয়ে বলা হলেও ওই মন্ত্রণালয় থেকে সে সময়ে প্রকাশিত কোনো বিবৃতিতে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ওই দাবি সংবলিত কোনো বিবৃতি প্রকাশিত হয়নি বলে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও রিউমার স্ক্যানারকে নিশ্চিত করা হয়। তা ছাড়া ইসরায়েলের সাংবাদিক এবং ফ্যাক্ট চেকারও এমন কোনো সহায়তার বিষয়ে অবগত নন বলে রিউমার স্ক্যানারকে জানান।
একই সঙ্গে ইউনূস সেন্টারও বিষয়টি ভুয়া বলে নিশ্চিত করেছে।

এমতাবস্থায় দেশের সব আলেম-ওলামা ও দায়িত্বশীল নাগরিকদের বিভ্রান্ত না হয়ে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টের চেষ্টায় থাকা ব্যক্তিদের অপপ্রচার রুখে দেওয়ার আহ্বান জানায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Din Mohammad

জনপ্রিয়

কমছে না মাছ-মাংসের দাম, আগাম শীতের সবজিতে কিছুটা স্বস্তি

ইসরায়েলকে ড. ইউনূসের ১০০০ কোটি টাকা দেওয়ার তথ্য ভুয়া : প্রেস উইং ফ্যাক্ট

Update Time : ০২:১৫:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৫

ইসরায়েলকে এক হাজার কোটি টাকা সহায়তা দিয়েছেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। যিনি বর্তমানে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা।

সম্প্রতি মুফতি আলাউদ্দিন জিহাদী নামের একজন বক্তা কোনো এক বয়ানে এমনটা দাবি করেছেন। তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

তবে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং বলছে, ড. ইউনূস ইসরায়েলকে টাকা দেওয়ার তথ্যটি ভুয়া। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের ফ্যাক্ট বিভাগ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রেস উইং দাবি করেছে, ওই মুফতির ভুয়া বক্তব্য আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা প্রচার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। এ ধরনের মিথ্যা ও বানোয়াট প্রচারণা মূলত প্রফেসর ইউনূস ও তার নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে চলমান যে সংঘবদ্ধ ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার তারই অংশ।

স্বতন্ত্র ফ‍্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, প্রফেসর ইউনূসের প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ আমেরিকার ইসরায়েলকে এক কোটি ডলারের সহায়তার বিষয়টি নিয়ে সর্বপ্রথম ২০২৩ সালের অক্টোবর বাংলা ইনসাইডার নামক একটি অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত হয়। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে তা আরো কিছু অনলাইন পোর্টাল ও পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এই দাবিটি ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে অনুসন্ধান করে ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমার স্ক্যানার।

তাদের অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৩ সালের অক্টোবরে যখন ফিলিস্তিনিদের মধ্যে হামলার ভয়াবহতা শুরু হয়, সে সময়ই বাংলাদেশে প্রচার হতে শুরু করে, ইসরায়েলকে ১০০ কোটি টাকা সহায়তা দিয়েছেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

অনুসন্ধানে জানা যায়, আওয়ামী লীগের প্রোপাগান্ডা সাইট হিসেবে পরিচিত অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা ইনসাইডারের সে বছরের ১৩ অক্টোবরের একটি প্রতিবেদন থেকে আলোচিত দাবিটি ছড়িয়ে পড়ে। ওই প্রতিবেদনে দাবিটির পক্ষে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতির বিষয়ে বলা হলেও ওই মন্ত্রণালয় থেকে সে সময়ে প্রকাশিত কোনো বিবৃতিতে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ওই দাবি সংবলিত কোনো বিবৃতি প্রকাশিত হয়নি বলে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও রিউমার স্ক্যানারকে নিশ্চিত করা হয়। তা ছাড়া ইসরায়েলের সাংবাদিক এবং ফ্যাক্ট চেকারও এমন কোনো সহায়তার বিষয়ে অবগত নন বলে রিউমার স্ক্যানারকে জানান।
একই সঙ্গে ইউনূস সেন্টারও বিষয়টি ভুয়া বলে নিশ্চিত করেছে।

এমতাবস্থায় দেশের সব আলেম-ওলামা ও দায়িত্বশীল নাগরিকদের বিভ্রান্ত না হয়ে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টের চেষ্টায় থাকা ব্যক্তিদের অপপ্রচার রুখে দেওয়ার আহ্বান জানায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।