খুলনা মহানগরীতে একই দিনে পৃথক তিনটি ঘটনায় এক ব্যবসায়ী গুলিতে নিহত এবং দুই তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নগরজুড়ে চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খানজাহান আলী, খালিশপুর ও সোনাডাঙ্গা থানা এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।
গ্যারেজে ঢুকে গুলি, নিহত ব্যবসায়ী:
নগরীর খানজাহান আলী থানা এলাকার আফিল গেট পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন বিসমিল্লাহ মোটর গ্যারেজে দুর্বৃত্তদের গুলিতে শেখ সোহেল (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ী নিহত হন। বিকেল ৩টা ৫ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, দুপুর আড়াইটার দিকে নিজের মোটরসাইকেল মেরামতের জন্য গ্যারেজে যান সোহেল। তিনি সেখানে বসে থাকা অবস্থায় একটি মোটরসাইকেলে করে দুই যুবক এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে তার মৃত্যু নিশ্চিত হয়। নিহত সোহেল মাছের ঘের ও ইন্টারনেট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সানওয়ার হুসাইন মাসুম বলেন, কাছে এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শুরু করে।
ঘটনার পরপরই বাংলাদেশ পুলিশ, সিআইডি ও পিবিআইয়ের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং হত্যার কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। জড়িতদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খালিশপুরে পরীক্ষার দিনেই ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ:
এর আগে একই দিন বেলা সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর খালিশপুর থানার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের দত্তপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে জান্নাতুল ফেরদাউস তুসি নামে এক পলিটেকনিক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি খুলনা সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট-এর শিক্ষার্থী ছিলেন।
একই কক্ষে থাকা সহপাঠী কামরুন্নাহার চৈতি জানান, তাদের দুজনেরই সেদিন পরীক্ষা ছিল। তবে তুসি সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে খাতা জমা দিয়ে পরীক্ষা শেষ না করেই বাসায় ফিরে আসেন। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে চৈতি পরীক্ষা শেষে বাসায় এসে রুমের দরজা খোলা দেখতে পান। ঘরে ঢুকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে তুসিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে তিনি চিৎকার দেন।
পরে দ্রুত ওড়না কেটে তাকে নিচে নামানো হয়। চিৎকার শুনে বাড়ির অন্য ভাড়াটিয়া ও আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে খালিশপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর মর্গে পাঠায়।
নিহত তুসির বাড়ি যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া ছোট মেঘলা গাজীর দরগাহ এলাকায়। মৃত্যুর খবর পেয়ে বিকেলে তার মা খুলনায় আসেন, তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
সোনাডাঙ্গায় ভাড়া বাসা থেকে তরুণীর মরদেহ:
এদিকে সন্ধ্যার দিকে সোনাডাঙ্গা থানাধীন বানরগাতী আরামবাগ এলাকার পানির ট্যাংকির পাশের একটি বাসা থেকে সুলতানা আক্তার নামে এক তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই এলাকার সেলিমের মেয়ে এবং স্থানীয়ভাবে বসবাস করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি বাপ্পি নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঘর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে আশপাশের লোকজন দরজায় ধাক্কা দেন। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ৮টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সোনাডাঙ্গা থানার ওসি জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে এবং ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
উদ্বেগে নগরবাসী, পৃথক তদন্তে পুলিশ:
একই দিনে গুলিতে হত্যা ও পৃথক দুই স্থানে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পুলিশ বলছে, তিনটি ঘটনাই পৃথক এবং প্রতিটি বিষয় গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং আলামতের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্টাফ রিপোর্টার 




















