Dhaka ০২:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নগরীর বাস্তহারায় দুর্ধর্ষ ভুট্টোবাহিনীর নিকট জিম্মি দেড়হাজার পরিবার

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:০৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০২২
  • 152

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

গোলাম মোস্তফা ভুট্টো। খুলনা খালিশপুর বাস্তহারা কলোনীর এক ভয়ংকর নাম। শুধু বাস্তহারা নয়, এ নাম ছড়িয়ে গেছে গোটা খুলনা শহরে। লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, মাদক সিন্ডিকেট, চাদাবাজি , নারী নির্যাতনসহ একাধিক অপরাধের সাথে জড়িত এই ভুট্টো ও তার বাহিনীর তান্ডবে নাকাল হয়ে পড়েছে বাস্তহারাসহ স্থানীয় জনজীবন ব্যাবস্থা। ইতিপূর্বে তার এসকল কর্মকান্ডের তথ্য প্রচার হয়েছে জাতীয় পত্রিকাসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ।

এলাকাবাসীর তথ্যমতে , ভুট্টো একসময় সি এস ডি গোডাউনে বস্তা সেলাইয়ের কাজ করতেন। সেখান থেকে গোডাউনের সরদার হন। তারপর আধিপত্য বিস্তারে উদ্দেশ্যে গঠন করে একটি বাহিনী। সে বাহিনীর সহযোগীতায় গড়ে তোলে মাদক সম্রাজ্য। বাস্তহারা কলোনীতে প্রায় ১০ হাজার লোকের বসবাস। দিন দিন এই অঞ্চলে মাদককারবারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় উঠতি বয়সের কিশোরদের নিয়ে চিন্তিত স্থানীয় অভিভাবকগন। মাদকের বজ্রছোয়া কখন সন্তানকে গ্রাস করে ফেলে তা নিয়ে দুশ্চিন্তার যেন শেষ নেই । এমনটি জানান বাস্তহারার এক কিশোরের মা। তিনি বলেন “ যত দিন যাচ্ছে, ততই ভয় বাড়ছে। একটা মাত্র সন্তান আমার । এই অঞ্চলের মাদক কারবারিরা কখন আমার ছেলেকে যে বিপথে নিয়ে যায় , সে চিন্তায় মরিয়া আমি।

এদিকে রাহেলা (ছদ্মনাম) নামক এক কলেজছাত্রী জানান, মা বাবার মুখে শুনেছি, এই ভুট্টোবাহিনী উঠতি বয়সী মেয়েদের টার্গেট করে সম্ভ্রমহানি করতো। আমি ও আমার বান্ধবীরা ভয়ে থাকি। আল্লাহ জানে ,এমন ঘটনা আমার সাথে ঘটলে আমার বাঁচা দায় হবে ।

উল্লেখ্য, জানা যায় পূর্বে আশ্রয় নেওয়ার নাম করে ভুট্টো বিভিন্ন বাড়ি রাত্রীযাপন করতো। সেসময় ঐ বাড়ীর যুবতি নারী, ও গৃহবধুদের ধর্ষণ করতো এই ভুট্টো । বাস্তহারার একজন চা দোকানি বলেন, ভুট্টো একসময় এরশাদ শিকদারের লোক ছিল। এরশাদকে ফাঁসি দেওয়া হলেও, আরেকটি এরশাদ এখনো রয়ে গেছে। ক্ষমতা ও টাকা থাকায় তার বিরুদ্ধে কেও কথা বলতে সাহস পায়না।

এদিকে গুঞ্জন উঠেছে ভুট্টো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল(বি এন পি) এর ৯নং ওয়ার্ডের সাধারন সম্পাদকের পদ পেতে আগ্রহী। স্থানীয় বি এন পি সমর্থকেরা জানান, দলের এ দুঃসময়ে এমন একজন মাদককারবারি ও অপরাধসম্রাজ্যের হাতে সাধারন সম্পাদকের মত গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খুলনার শীর্ষস্থানীয় একজন বি এন পি নেতার নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ভুট্টোর নামে মাদক, চাদাবাজিসহ নানা অবৈধ কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।দল এখন ক্লিন ইমেজ ব্যাতীত কাওকে পদে রাখবে না।”

এছাড়া, তার বিরুদ্ধে খালিশপুর থানাসহ বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার নিকট অভিযোগ ও মামলা দায়ের করা হলেও আইনের ফাকফোকড়ে জেল থেকে বেরিয়ে একই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ভুট্টো ও তার বাহিনী। এ বিষয়ে খালিশপুর থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেনের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি এই বিষয়ে অবগত নই। খোজ নিয়ে তথ্য জানাতে পারবো।”

তবে এ বিষয়ে ভুট্টো বলেন, “আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ। আগামীতে ৯ নং ওয়ার্ড বি এন পির কমিটি গঠন হবে। একপক্ষ চায়না আমি পদ পাই। তাই কিছু মানুষ স্বার্থের আশায় ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এসকল অপপ্রচার করছে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

নগরীর বাস্তহারায় দুর্ধর্ষ ভুট্টোবাহিনীর নিকট জিম্মি দেড়হাজার পরিবার

Update Time : ১২:০৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

গোলাম মোস্তফা ভুট্টো। খুলনা খালিশপুর বাস্তহারা কলোনীর এক ভয়ংকর নাম। শুধু বাস্তহারা নয়, এ নাম ছড়িয়ে গেছে গোটা খুলনা শহরে। লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, মাদক সিন্ডিকেট, চাদাবাজি , নারী নির্যাতনসহ একাধিক অপরাধের সাথে জড়িত এই ভুট্টো ও তার বাহিনীর তান্ডবে নাকাল হয়ে পড়েছে বাস্তহারাসহ স্থানীয় জনজীবন ব্যাবস্থা। ইতিপূর্বে তার এসকল কর্মকান্ডের তথ্য প্রচার হয়েছে জাতীয় পত্রিকাসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ।

এলাকাবাসীর তথ্যমতে , ভুট্টো একসময় সি এস ডি গোডাউনে বস্তা সেলাইয়ের কাজ করতেন। সেখান থেকে গোডাউনের সরদার হন। তারপর আধিপত্য বিস্তারে উদ্দেশ্যে গঠন করে একটি বাহিনী। সে বাহিনীর সহযোগীতায় গড়ে তোলে মাদক সম্রাজ্য। বাস্তহারা কলোনীতে প্রায় ১০ হাজার লোকের বসবাস। দিন দিন এই অঞ্চলে মাদককারবারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় উঠতি বয়সের কিশোরদের নিয়ে চিন্তিত স্থানীয় অভিভাবকগন। মাদকের বজ্রছোয়া কখন সন্তানকে গ্রাস করে ফেলে তা নিয়ে দুশ্চিন্তার যেন শেষ নেই । এমনটি জানান বাস্তহারার এক কিশোরের মা। তিনি বলেন “ যত দিন যাচ্ছে, ততই ভয় বাড়ছে। একটা মাত্র সন্তান আমার । এই অঞ্চলের মাদক কারবারিরা কখন আমার ছেলেকে যে বিপথে নিয়ে যায় , সে চিন্তায় মরিয়া আমি।

এদিকে রাহেলা (ছদ্মনাম) নামক এক কলেজছাত্রী জানান, মা বাবার মুখে শুনেছি, এই ভুট্টোবাহিনী উঠতি বয়সী মেয়েদের টার্গেট করে সম্ভ্রমহানি করতো। আমি ও আমার বান্ধবীরা ভয়ে থাকি। আল্লাহ জানে ,এমন ঘটনা আমার সাথে ঘটলে আমার বাঁচা দায় হবে ।

উল্লেখ্য, জানা যায় পূর্বে আশ্রয় নেওয়ার নাম করে ভুট্টো বিভিন্ন বাড়ি রাত্রীযাপন করতো। সেসময় ঐ বাড়ীর যুবতি নারী, ও গৃহবধুদের ধর্ষণ করতো এই ভুট্টো । বাস্তহারার একজন চা দোকানি বলেন, ভুট্টো একসময় এরশাদ শিকদারের লোক ছিল। এরশাদকে ফাঁসি দেওয়া হলেও, আরেকটি এরশাদ এখনো রয়ে গেছে। ক্ষমতা ও টাকা থাকায় তার বিরুদ্ধে কেও কথা বলতে সাহস পায়না।

এদিকে গুঞ্জন উঠেছে ভুট্টো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল(বি এন পি) এর ৯নং ওয়ার্ডের সাধারন সম্পাদকের পদ পেতে আগ্রহী। স্থানীয় বি এন পি সমর্থকেরা জানান, দলের এ দুঃসময়ে এমন একজন মাদককারবারি ও অপরাধসম্রাজ্যের হাতে সাধারন সম্পাদকের মত গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খুলনার শীর্ষস্থানীয় একজন বি এন পি নেতার নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ভুট্টোর নামে মাদক, চাদাবাজিসহ নানা অবৈধ কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।দল এখন ক্লিন ইমেজ ব্যাতীত কাওকে পদে রাখবে না।”

এছাড়া, তার বিরুদ্ধে খালিশপুর থানাসহ বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার নিকট অভিযোগ ও মামলা দায়ের করা হলেও আইনের ফাকফোকড়ে জেল থেকে বেরিয়ে একই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ভুট্টো ও তার বাহিনী। এ বিষয়ে খালিশপুর থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেনের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি এই বিষয়ে অবগত নই। খোজ নিয়ে তথ্য জানাতে পারবো।”

তবে এ বিষয়ে ভুট্টো বলেন, “আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ। আগামীতে ৯ নং ওয়ার্ড বি এন পির কমিটি গঠন হবে। একপক্ষ চায়না আমি পদ পাই। তাই কিছু মানুষ স্বার্থের আশায় ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এসকল অপপ্রচার করছে।”