বয়কটের মধ্যেই ‘ট্রাম্প টিভি’ চালু করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১২:০০:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 16

সিএনএনসহ কয়েকটি গণমাধ্যমের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভিডিও কভারেজ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলো। প্রধান গণমাধ্যমগুলোর এই বয়কটের মধ্যেই নিজের নামে টেলিভিশন নিয়ে আসলেন ট্রাম্প। সোমবার থেকে হোয়াইট হাউস অনলাইনে ‘ট্রাম্প টিভি’ নামে নিজস্ব ভিডিও ফিড প্রচার শুরু করেছে।

হোয়াইট হাউস অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে জানিয়েছে, ‘ট্রাম্প টিভি’ এখন সরাসরি সম্প্রচারে এসেছে। এটি ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে সাত দিন চলবে এবং নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে। ট্রাম্পের আগের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, পুরোনো ভাষণ, তার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান, বিভিন্ন সরকারি ঘোষণার ছবি সম্প্রচারিত হবে।

চালুর পরপরই প্ল্যাটফর্মটিতে ট্রাম্পের আগের বিভিন্ন জনসম্মুখে উপস্থিতি ও বক্তব্যের ভিডিও দেখানো হয়। এর মধ্যে ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের শপথ নেওয়ার অনুষ্ঠানও ছিল।

সম্প্রতি সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাউ-এর বিরুদ্ধে নেতিবাচক ও মিথ্যা সংবাদ প্রচারের অভিযোগ এনে তাদের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এমনকি সাংবাদিকদের প্রেস ব্যাজও জব্দ করা হয়। এর জবাবে নিষিদ্ধ গণমাধ্যমগুলো প্রথম সংশোধনীর অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আদালতে মামলা করেছে। একইসঙ্গে তাদের প্রতি সংহতি জানিয়ে প্রেস পুলের অন্য নেটওয়ার্কগুলো রাষ্ট্রপতির ভিডিও কভারেজ বন্ধের ঘোষণা দেয় এবং নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্টের মতো শীর্ষ পত্রিকাগুলোও প্রেসিডেন্টের ছবি প্রকাশ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানায়।

গত শুক্রবার ট্রাম্প প্রশাসন ওই গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে। এরপর ওই তিন সংবাদমাধ্যম ফেডারেল আদালতে প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করে।

মামলায় সংবাদমাধ্যমগুলো অভিযোগ করেছে, তাদের খবর প্রকাশের ধরন পছন্দ না হওয়ায় হোয়াইট হাউস তাদের সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বাতিল করেছে। তাদের দাবি, কোনো সংবাদমাধ্যম কিভাবে খবর প্রকাশ করছে, সেটিকে সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার ভিত্তি করা যায় না। ট্রাম্প অবশ্য এই নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষভাবে খবর প্রকাশ করা। তার দাবি, যেসব সংবাদমাধ্যম ‘ভুয়া খবর’ প্রকাশ করে, তাদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার অধিকার প্রশাসনের রয়েছে।

হোয়াইট হাউসও নিষেধাজ্ঞার পক্ষে যুক্তি দিয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনী সংবাদমাধ্যমকে খবর প্রকাশের অধিকার দেয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে, প্রতিটি সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউসের প্রাঙ্গণ, ব্রিফিং কক্ষ বা প্রেস পুলে প্রবেশের নিশ্চয়তা দিতে হবে। এই বিরোধের প্রভাব পড়েছে হোয়াইট হাউসের টেলিভিশন প্রেস পুলেও। প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সফরের ভিডিও ধারণ করে তা অন্য সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার জন্য এই ব্যবস্থা চালু আছে।

সাধারণত এবিসি,সিবিএস, সিএনএন, ফক্স ও এনবিসি পালাক্রমে এই দায়িত্ব পালন করে। সিএনএন, এমএস, এনওডব্লিউ ও পলিটিকো-কে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করার পর টেলিভিশন প্রেস পুলের কার্যক্রমও স্থগিত করা হয়েছে। ফলে প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন কর্মসূচির ভিডিও কভারেজ নিয়ে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এদিকে ট্রাম্প বর্তমানে নিউইয়র্কে রয়েছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে অংশ নিতে তিনি সেখানে গেছেন। সেখানে তিনি সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে।

সূত্র: এএনআই, দ্য হিল

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

আজমুল হত্যা: আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিলেন রিফাত

বয়কটের মধ্যেই ‘ট্রাম্প টিভি’ চালু করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

Update Time : ১২:০০:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিএনএনসহ কয়েকটি গণমাধ্যমের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভিডিও কভারেজ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলো। প্রধান গণমাধ্যমগুলোর এই বয়কটের মধ্যেই নিজের নামে টেলিভিশন নিয়ে আসলেন ট্রাম্প। সোমবার থেকে হোয়াইট হাউস অনলাইনে ‘ট্রাম্প টিভি’ নামে নিজস্ব ভিডিও ফিড প্রচার শুরু করেছে।

হোয়াইট হাউস অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে জানিয়েছে, ‘ট্রাম্প টিভি’ এখন সরাসরি সম্প্রচারে এসেছে। এটি ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে সাত দিন চলবে এবং নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে। ট্রাম্পের আগের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, পুরোনো ভাষণ, তার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান, বিভিন্ন সরকারি ঘোষণার ছবি সম্প্রচারিত হবে।

চালুর পরপরই প্ল্যাটফর্মটিতে ট্রাম্পের আগের বিভিন্ন জনসম্মুখে উপস্থিতি ও বক্তব্যের ভিডিও দেখানো হয়। এর মধ্যে ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের শপথ নেওয়ার অনুষ্ঠানও ছিল।

সম্প্রতি সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাউ-এর বিরুদ্ধে নেতিবাচক ও মিথ্যা সংবাদ প্রচারের অভিযোগ এনে তাদের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এমনকি সাংবাদিকদের প্রেস ব্যাজও জব্দ করা হয়। এর জবাবে নিষিদ্ধ গণমাধ্যমগুলো প্রথম সংশোধনীর অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আদালতে মামলা করেছে। একইসঙ্গে তাদের প্রতি সংহতি জানিয়ে প্রেস পুলের অন্য নেটওয়ার্কগুলো রাষ্ট্রপতির ভিডিও কভারেজ বন্ধের ঘোষণা দেয় এবং নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্টের মতো শীর্ষ পত্রিকাগুলোও প্রেসিডেন্টের ছবি প্রকাশ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানায়।

গত শুক্রবার ট্রাম্প প্রশাসন ওই গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে। এরপর ওই তিন সংবাদমাধ্যম ফেডারেল আদালতে প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করে।

মামলায় সংবাদমাধ্যমগুলো অভিযোগ করেছে, তাদের খবর প্রকাশের ধরন পছন্দ না হওয়ায় হোয়াইট হাউস তাদের সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বাতিল করেছে। তাদের দাবি, কোনো সংবাদমাধ্যম কিভাবে খবর প্রকাশ করছে, সেটিকে সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার ভিত্তি করা যায় না। ট্রাম্প অবশ্য এই নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষভাবে খবর প্রকাশ করা। তার দাবি, যেসব সংবাদমাধ্যম ‘ভুয়া খবর’ প্রকাশ করে, তাদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার অধিকার প্রশাসনের রয়েছে।

হোয়াইট হাউসও নিষেধাজ্ঞার পক্ষে যুক্তি দিয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনী সংবাদমাধ্যমকে খবর প্রকাশের অধিকার দেয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে, প্রতিটি সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউসের প্রাঙ্গণ, ব্রিফিং কক্ষ বা প্রেস পুলে প্রবেশের নিশ্চয়তা দিতে হবে। এই বিরোধের প্রভাব পড়েছে হোয়াইট হাউসের টেলিভিশন প্রেস পুলেও। প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সফরের ভিডিও ধারণ করে তা অন্য সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার জন্য এই ব্যবস্থা চালু আছে।

সাধারণত এবিসি,সিবিএস, সিএনএন, ফক্স ও এনবিসি পালাক্রমে এই দায়িত্ব পালন করে। সিএনএন, এমএস, এনওডব্লিউ ও পলিটিকো-কে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করার পর টেলিভিশন প্রেস পুলের কার্যক্রমও স্থগিত করা হয়েছে। ফলে প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন কর্মসূচির ভিডিও কভারেজ নিয়ে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এদিকে ট্রাম্প বর্তমানে নিউইয়র্কে রয়েছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে অংশ নিতে তিনি সেখানে গেছেন। সেখানে তিনি সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে।

সূত্র: এএনআই, দ্য হিল